সোমবার ০১ মার্চ ২০২১
Online Edition

বইমেলা প্রাণের মেলা

গত সংখ্যায় বলেছিলাম যে সমাজ বই পাঠ বা এর চর্চা থেকে বিরত থাকে অথবা নিজেদের গুটিয়ে রাখে তাদের পতন অবশ্বম্ভাবী। প্রশ্ন আসতে পারে সব বই-ই কি আসলে বই? উত্তর, না। না এবং না। মানুষের মধ্যে যেমন ভালো মন্দ থাকে, লেখকদের মধ্যেও তেমনটা আছে। ভালো লেখক ভালো বই লেখে, আলোর পথে আহবান করে। আর মন্দ লেখক মন্দ দিকে। ভালো মন্দ মিলেই পৃথিবী। আমাদের বেছে বেছে ভালোটাই গ্রহণ করতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন চর্চা, শুধু চর্চা। তবেই আমরা পেতে পারি বিশুদ্ধ ধারণা।

এ সংখ্যায় আমরা আরো চারজন প্রিয় লেখকের মুখোমুখি হতে সক্ষম হয়েছি। লেখকগণ শত ব্যস্ততা সত্ত্বেও আমাদের উত্তর দিয়ে বাধিত করেছেন। অশেষ ধন্যবাদ তাদের প্রতি। আগামী সংখ্যায়ও থাকবে এ আয়োজন। -রেদওয়ানুল হক

 

বই মানুষের মন বিশুদ্ধ করে। জ্ঞানের পরিধি

বাড়ায় ----------হাসান হাফিজ

 

০১. নতুন বই প্রকাশের খবর নিশ্চয় আনন্দের। আপনার অনুভূতি প্রকাশ করুন।

উত্তরঃ নিশ্চয়ই অন্যরকম রোমাঞ্চকর সে অভিজ্ঞতা। সে অনুভূতি অনির্বচনীয়। আসলে ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। ১৯৮২ সালে আমার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘এখন যৌবন যার’ বের হয়েছিল। তখন আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, সাংবাদিকতায় পড়ছি দ্বিতীয় এম.এ. ডিগ্রীর জন্য। তখন আমি পুরোপুরি সাংবাদিকতা পেশায় ঢুকে গেছি। দৈনিক বাংলায় স্টাফ রিপোর্টার ছিলাম সে সময়ে।  প্রথম বই প্রকাশের আনন্দানুভূতির অত্যাশ্চর্য শিহরণ কিন্তু এখনো কমেনি। এই পর্যন্ত দীর্ঘ সময় পরিক্রমায় ১৫৪টি বই বের হয়েছে আমার (মৌলিক ও সম্পাদিত মিলিয়ে)। চলতি বইমেলায় তা বেড়ে দাঁড়াবে ১৬৫। বই হচ্ছে সন্তানের মত। তার জন্যে মায়া মমতা, দরদ, ক্লেশ আনন্দ উৎকণ্ঠাÑ প্রকৃত অর্থেই অতুলনীয় এক অভিজ্ঞতা।

০২. পাঠক সৃষ্টিতে বইমেলার ভূমিকা কি?

উত্তরঃ ভূমিকা বিরাট। একসঙ্গে এত বই দেখার ও কেনার সুযোগ বইমেলা ছাড়া অন্য কোনো উপলক্ষে পাওয়া যায় না। আমাদের দেশে তো একমাত্র ফেব্রুয়ারি মাসই বইয়ের মাস। সারা বছর আমজনতার সঙ্গে বইয়ের সংযোগ সম্পৃক্তি তেমন একটা থাকে না। পাঠ্যপুস্তকের কথা অবশ্য আলাদা। যখন বইমেলা ছিল না বা মেলার প্রসার আজকালের মতো এতটা ব্যাপক ছিল না, তখন কিন্তু পাঠকের সংখ্যা, ক্রেতার সংখ্যা এখনকার মতো এত বেশি ছিল না। তবে এটাও ঠিক, আমাদের দেশের জনসংখ্যার অনুপাতে পাঠক কিন্তু এখনো কম। এই সংখ্যা যত বাড়ানো যাবে, বইমনস্ক করে তোলা যাবে সকলকে, আমাদের সৃজনশীল মননশীল লেখালেখির ক্ষেত্র তত বিস্তৃত হবে, জাতির মননও ঋদ্ধ হবে একইসঙ্গে। বইমেলা শুধু রাজধানী ঢাকা শহরে সীমাবদ্ধ না রেখে তৃণমূলে এর বিস্তার ঘটাতে হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে যে, ঢাকা মানেই বাংলাদেশ নয়। বৃহত্তর জনজীবনে বইমেলার আনন্দ অর্জন ব্যাপ্ত করতে হবে। ছড়িয়ে দিতে হবে এর সৌরভ। 

০৩. এই মেলায় আপনার কয়টি বই প্রকাশিত হয়েছে?

উত্তর ঃ দশটির বেশি নতুন বই প্রকাশের কথা রয়েছে।  মেলা শুরুর দিনই একটি বের হয়েছে সিলেটের বাসিয়া প্রকাশনী থেকে। বইটির নাম ‘ছয়টি বিদেশি রূপকথা’। কয়েকদিনের মধ্যেই আরো বেরুচ্ছে ‘শ্রেষ্ঠ কবিতা ’(অক্ষর প্রকাশনী), ‘শ্রেষ্ঠ প্রেমের কবিতা’ (অক্ষর প্রকাশনী), ‘রূপকথা সমগ্র ৪র্থ খ-’ (অক্ষর প্রকাশনী), ‘হোজ্জার সেরা ১০০ জোকস’ (সময় প্রকাশন), ‘আফ্রিকার রূপকথা’ (বাংলাপ্রকাশ), ‘বীরবলের গল্প’ (বাংলাপ্রকাশ), ‘একুশের গল্প’ (সম্পাদনা, প্রকাশক অনন্যা), কাব্যগ্রন্থ ‘অপমানে বেজে উঠি’ (অনন্যা), ‘১৫ দেশের রূপকথা’ (উত্তরণ), কাব্যগ্রন্থ ‘ভালোবাসলে জাত যায়’ (আবিষ্কার), ‘দুই ডজন ভূতের গল্প’ (সম্পাদনা, প্রকাশক গাজী প্রকাশনী), ‘রাশিয়ার ৬টি রূপকথা ’ (ছোটদের বই)। বিশাল বাংলা প্রকাশনী থেকে কাব্যগ্রন্থ ‘রমণীয় কুহকের টান’ ইত্যাদি।

০৪. বাংলাভাষার প্রতি আমাদের কেমন শ্রদ্ধাবোধ থাকা উচিত?

উত্তরঃ গর্ভধারিণী মায়ের প্রতি যেমনটি থাকা উচিত, তেমন। থাকা দরকার শর্তহীন আনুগত্য, ভক্তি শ্রদ্ধা, সাধ্যমত বিশুদ্ধ চর্চা। এর পাশাপাশি অন্য ভাষার প্রতিও শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে আমাদের। বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের যেসব মাতৃভাষা, সেগুলোর যথাযথ সংরক্ষণ বিকাশ ও চর্চার ব্যাপারটি আমাদেরই নিশ্চিত করতে হবে, যেহেতু আমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ।

০৫. বইমেলা পাঠকদের উদ্দেশ্যে কিছু বলুন...।

উত্তরঃ বই কিনুন। প্রিয়জনকে বই উপহার দিন। বই মানুষের মন বিশুদ্ধ করে। জ্ঞানের পরিধি বাড়ায়। বাণিজ্য মেলা ও বইমেলা এক নয়। প্রত্যেকে নিদেনপক্ষে একটি হলেও বই কিনুন। বাচ্চাদের নিয়ে বইমেলায় যান। তাদের পছন্দের বইটি তুলে দিন তাদের হাতে।  একুশের শুভেচ্ছা বইমেলার পাঠক ও ক্রেতাদের।

 

দেশকে যদি কেউ বিভাজন ও হিং¯্রতা থেকে বাঁচাতে পারে সে

হচ্ছে বই-মানে জ্ঞানচর্চা -----বুলবুল সরওয়ার

 

১. নতুন বই প্রকাশের খবর নিশ্চয় আনন্দের। আপনার অনুভূতি প্রকাশ করুন।

উত্তর:  লেখালেখি দু’ধরনের শক্তির ফলঐশ্বরিক করুণা আর পরিশ্রম। আমি দুটোতেই শ্রদ্ধাশীল। সুতরাং সবসময় ভালো রেজাল্ট আশা করি। তাই হতাশ হই না, বরং আনন্দ হয় খুব। মক্কা বিজয়ের পর আল্লাহ্র রাসূল (সা:) কেঁদেছিলেন। আমি তার উম্মতÑ আমারও কান্নাকাতর অবস্থা হয়। মওলানা রুমীর ভাষায়: আশিক আর মাশুক যখন মিলিত হয়Ñ কান্নাই তাদের প্রথম উপলব্ধিÑ খুশির কান্না। আগে প্রথম-বইটি মাকে তুলে দিতাম। এখন স্ত্রী বা কন্যাকে দেই। আর মনে মনে বলি: রাব্বির হামহুমা কামা, রাব্বাইয়ানি সাগীরা। সাথে দোয়া করি ব্রাদার আলবেরিক, আবদুল মান্নান তালিব, মতিউর রহমান মল্লিক, সাজজাদ হোসাইন খান, হাসনাইন ইমতিয়াজ এবং আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের জন্য। আল্লাহ্কে বলি: আমার কালকের দিন যেন আজকে পরাজিত করতে পারে। ব্যাসÑ এই তো!

২. পাঠক সৃষ্টিতে বইমেলার ভূমিকা কি?

উত্তর: পাঠক সৃষ্টিতে বইমেলা অবশ্যই অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বাংলাদেশের সাহিত্যিক ও সাহিত্য-পাঠকদের কাছে এটা উৎসবের মতো। বাংলাদেশের খুব অল্প মানুষই জানেন যে সাহিত্যের আরবী প্রতিশব্দ হচ্ছে “আদব”। সুতরাং বইমেলা তো শিষ্টাচারীদেরই মিলনকেন্দ্র। ধর্মীয় দৃষ্টিতেও এর গুরুত্ব অপরিসীম। 

বাংলাদেশে লেখক ও পাঠক তৈরি হয় দু’টো জায়গা থেকেÑ একটি পরিবার, অন্যটি শিক্ষাকেন্দ্র বা পাঠাগার। পারিবারিক মূল্যবোধ, এবং নিয়মিত লাইব্রেরি-পাঠ্যভ্যাস তো বাংলাদেশের সংস্কৃতি থেকে উঠেই যেতে বসেছে। এক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র; দুই ড্রইংরুম-বিলাসীদের কাজের মিস্ত্রিরা এক্সিবিশনের জন্য হলেও সলতের শেষ শিখাটুকু বাঁচিয়ে রেখেছে। তো এখন কে লড়াই করবে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেÑ যারা রবীন্দ্র-নজরুল-সুকান্ত-ফররুখদের সরিয়ে সচিব ও দলকানাদের দিয়েই পাঠ্যবই সাজাচ্ছেন?

সুতরাং একমাত্র আশার প্রদীপই হচ্ছে একুশের বইমেলার এই প্রকা--কা-ে প্রকাশকদের অবিরাম উদ্যম ও উদ্যোগ। যদিও বেশির ভাগ প্রকাশেকই ভালো পাঠক নন। কিন্তু আমার ধারণা, এ দুর্বলতাও একদিন কেটে যাবে। প্রতিভার আগুন ‘প্রথমা’কেও বাধ্য করে “যেভাবে বেড়ে উঠি” ছাপতে। এটাই বইমেলার বড় সাফল্য; গোপন শক্তি! দেশকে যদি কেউ বিভাজন ও হিং¯্রতা থেকে বাঁচাতে পারে সে হচ্ছে বইমানে জ্ঞানচর্চা। মেলাই এখন তার সর্বোত্তম প্লাটফর্ম।

০৩. এই মেলায় আপনার কয়টি বই প্রকাশিত হয়েছে?

 উত্তর:  মেলায় এ পর্যন্ত প্রকাশিত হয়েছে আমার লেখা “মহাভারতের পথে প্রথম খ-” (ঐতিহ্য), “নবী জীবনের শত বিষয়” (চমন প্রকাশ), “সুন্দরী ও চাঁদ” (আহমদ), “শিল্প ও কবিতা” (জয়তী), “ঝিলাম নদীর দেশ” ৫২ তম মুদ্রণ (অ্যাডর্ন), “পত্র নয় প্রেম” (সমাচার), “বীর বলে ডাকবো যাদের” (চিত্রা), “প্রণয় পংক্তি” (বলাকা), “আলী ও নিনো” ৫ম সংস্করণ (রোদেলা) এবং “শ্রেষ্ঠগল্প” (আাদর্শ)। বলে রাখি, এর মধ্যে কোন কোন বোন বই গত বইমেলায় আসার কথা ছিল এবং মেলার শেষ দিন বা মেলা শেষ হবার পরে এসেছে বলে আমি সেগুলোকেও নতুন-বই বলেছিÑ যদিও সন-তারিখে হয়তো সেগুলো ২০১৭-র। এ মেলায় আরও আসছে “মহাভারতের পথে ২য় খ-” (ঐতিহ্য), “মারিয়ার ব্লাউজ” (ঐতিহ্য), “মমীর দেশ মিশর” (ঐতিহ্য),  “সিদ্ধার্থ” (অনুবাদ; প্রকৃতি), “কংকাবতী” (চিত্রা) ইত্যাদি। দোয়া করবেন যেন সব কিছু ভালোভাবে হয় এবং মেলা থাকে শান্তিপ্রিয়।

০৪. বাংলাভাষার প্রতি আমাদের কেমন শ্রদ্ধাবোধ থাকা উচিত?

উত্তর:  এ ধরনের প্রশ্ন করবেন অ্যাকাডেমিশিয়ানদের। ভুট্টো একবার বলেছিলেন: পকিস্তান ইজ ভুট্টো, ভুট্টো ইজ পাকিস্তান। এ ধরনের ব্যক্তিরাই পারেন এ-রকম উদ্ভট প্রশ্নের “যুৎসই” জবাব দিতে। আমি সাধারণ মানুষ। শৈশবেই শিখেছি: মাতৃভাষা, মায়ের ভাষা, খোদার সেরা দান। আর কোরান তো সুচনাতেই ঘোষণা করেছে: আল্লাহ কলমের সাহায্যে জ্ঞানদান করেছেন। তো-এই বিব্রতকর প্রশ্ন কেন?

৫. বইমেলা পাঠকদের উদ্দেশ্যে কিছু বলুন...।

 উত্তর:  যদি সন্তানদের আদব শেখাতে চানÑ বইমেলায় তাদেরকে নিয়ে আসুন। প্রতিদিন নি¤œমানের দৈনিক পত্রিকা পড়ার চেয়ে মেলার ঠেলাঠেলিও ভালোÑ মাসুদ রানা আরো ভালো। বই বাছতে শেখানÑ নিজের রুচিকে সন্তানের সামনে মেলে ধরুন। ঢাকা শহরের আগামী-প্রজন্মকে বাঁচাবার অন্যতম উপায় এটি। নইলে নিউমোনিয়ার পাশাপাশি তারা মানসিক বৈকল্যেরও শিকার হবে। তাই, নিজের স্বার্থেই বইমেলায় আসুন, সবাইকে নিয়ে আসুনÑ শৃংখলা বজায় রাখুন এবং ভালো বই কিনুনÑলেখককে বাঁচার সুযোগ করে দিন। 

সারা পৃথিবীতে সব যুগেই নাচনেওয়ালীরা ছিল, আছে ও থাকবে; থাকবে জগৎশেঠের মতো ব্যবসায়ীরাÑ তার মানে এই নয় যে, আমরা গালিব-ইকবাল বা নজরুলকে খুঁজে নেবো না। আল্লাহ বিশ্বাসীদের বইমেলাকে সর্বার্থেই স্বাগত জানানো উচিত; কারণ, ইসলামের মূল স্তম্ভই জ্ঞান, কলম এবং পাঠ। সবারই এটা কার্যকরী ভাবে বোঝা উচিত। 

ধন্যবাদ সবাইকে।

 

বাংলাভাষাকে চিন্তা ও দর্শনের ভাষা রূপে প্রয়োগের দক্ষতা

দেখাতে হবে তরুণদেরই -----নয়ন আহমেদ

 

১. নতুন বই প্রকাশের খবর নিশ্চয় আনন্দের। আপনার অনুভূতি প্রকাশ করুন।

উত্তর: নতুন বইপ্রকাশ মানেই নিজেকে আনন্দের মধ্যে ছুড়ে দেওয়া। প্রত্যেক লেখকই নিজেকে প্রকাশ করতে চান; ছড়িয়ে যেতে চান। মনে আছে, ১৯৯৬ সালে আমার প্রথম বই বের হয়। নাম" অসম্ভব অহংকার"। নিজেই ছেপেছিলাম। আবেগ, উত্তাপ আর আনন্দের ভেতর নিজেকে ভাসিয়েছিলাম। বইমেলায় লেখকদের আসে নতুন বই। কত ভাবনা ও ভাবজগতের স্বরূপ বাণীরূপ পায়। কত ভাবাদর্শের বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হয়। ক্ষেত্র তৈরি করে সাম্য ও সুন্দরের; তৈরি করে চিন্তা ও মননের বীজতলা। একটি বইপ্রকাশ লেখককে এগিয়ে দেয়, গতিময় করে ; পাঠকের সাথে সেতুবন্ধন ঘটায়। আজকের তরুণ লেখক এভাবেই পা রাখেন কালের পাটাতনে। অবশ্য এ জন্য লেখক ও প্রকাশককে গভীর নিষ্ঠার পরিচয় দিতে হয়। আমাদের দেশে এখনও আন্তর্জাতিক মানের প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি। এটা শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মর্যাদা পেলে আমাদের প্রকাশনার উৎকর্ষ হবে। কেননা, এর সাথে বুদ্ধি ও মননচর্চা জড়িত।

২. পাঠক সৃষ্টিতে বইমেলার ভূমিকা কি?

উত্তর: বইমেলা প্রাণের মেলা।এ এক মহৎ উৎসব। এখানে কী বিনিময় হয়? বিনিময় হয় সৌভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি, আনন্দ আর প্রীতিময় ইকোলোজি। বাঙালি ভালোবাসে মেলা; পছন্দ করে এমন সামাজিক উৎসব। এর মধ্য দিয়ে প্রধানত দুটি উদ্দেশ্য অর্জিত হয়: উদার মানবিকতাবোধ ও পাঠাভ্যাস বৃদ্ধি। বইমেলা এখন ঐতিহ্যে রূপ নিয়েছে। লেখক-পাঠকের মিলনমেলায় রূপ পেয়েছে এই মেলা। এখানে পাঠক বই কিনতে আসেন, বই দেখতে আসেন। ঘুরতেও আসেন। পাঠক সৃষ্টিতে এর নিশ্চয়ই ভূমিকা আছে। সৃজনশীল ও মননশীল লেখকদের আরও সুন্দরভাবে উপস্থাপন করতে পারলে পাঠক উপকৃত হয়। ভালো বই প্রকাশ করতে হয়। মেলার পরিবেশ হতে হয় দূষণমুক্ত,শান্তিময়,উদার এবং গণতান্ত্রিক। আরও ভারসাম্যপূর্ণ পরিবেশ ও আবহ তৈরি করতে পারলে বইমেলা গতিশীল, প্রাণবন্ত হবে। পাঠক, ক্রেতার নজর কাড়বে। বইয়ের বাজার সৃষ্টি হবে। অন্তর্জালের এই যুগেও ব্যাপক পাঠক তৈরি হবে।

০৩. এই মেলায় আপনার কয়টি বই প্রকাশিত হয়েছে?

 উত্তর:  এ বারের বইমেলাতে আমার একটি বই প্রকাশিত হচ্ছে। কবিতার বই। নাম- " এককাপ গণযোগাযোগ"। প্রকাশ করছে ইনভেলাপ পাবলিকেশন।

০৪.বাংলাভাষার প্রতি আমাদের কেমন শ্রদ্ধাবোধ থাকা উচিত? 

উত্তর:  আল্লাহ মানুষকে ভাবপ্রকাশের উপায় শিখিয়েছেন ভাষা সৃষ্টি করে।সুরা আর রাহমানে এ কথা আছে। সুতরাং ভাষাকে ভালোবাসতে হবে, শ্রদ্ধা করতে হবে। এটা আল্লাহর অফুরন্ত নেয়ামতের একটি। ভাষাকে ভালোবাসা মানে আল্লাহর এই নেয়ামতের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা। আমাদের উচিত হবে নির্ভুল লেখা, অপপ্রয়োগ এড়িয়ে শুদ্ধ প্রয়োগ করা। বাংলাভাষাকে চিন্তা ও দর্শনের ভাষা রূপে প্রয়োগের দক্ষতা দেখাতে হবে তরুণদেরই। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, মীর মশাররফ হোসেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর,কাজী নজরুল ইসলাম, জসীম উদ্দীন, জীবনানন্দ দাশ, ফররুখ আহমদ, আল মাহমুদ প্রমুখ ব্যক্তিত্ব বাংলাভাষাকে প্রাণবন্ত করেছেন, বাচ্যার্থকে অতিক্রম করে দর্শনের গভীরে প্রোথিত করেছেন। এ ভাষাকে একটা চিরকালীন মহিমা দান করেছেন। তরুণ লেখকদের বিশ্বাস করতে হবে- তাদের হাতে এ ভাষা আরও ব্যাপক অর্থবহ হবে অব্যাহত জীবনচর্চার মধ্য দিয়ে। তাদের আদর্শ ও বিশ্বাসের প্রতিফলন ঘটিয়ে । ভালোবাসার, শ্রদ্ধার প্রমাণ দিতে হবে এভাবেই। মৌখিক প্রমাণ নয়; জীবনকে রূপায়িত করেই ভালোবাসার স্বাক্ষর রাখতে হবে।

০৫. বইমেলা পাঠকদের উদ্দেশ্যে কিছু বলুন...।

উত্তর : প্রিয় পাঠক, বই কিনুন; ভালো মানের বই। বই বর্তমান ও ভবিষ্যতের সাঁকো। অতীতের ঐতিহ্য। দৈনন্দিন প্রয়োজন পূরণের জন্য আলু,পটল, চাল, ডাল, মাছ, মাংস ইত্যাকার পার্থিবতা কিনুন। সাথে একটা বইও কিনুন। পেটের ক্ষুধা দূর করতে বাজার করা লাগে। না হলে বাঁচবেন না। মনেরও ক্ষুধা আছে; রোগ আছে। মনের ক্ষুধা ও রোগ সারাতে বইমেলায় আসেন। প-িতেরা বলেছেন, বইয়ের লাইব্রেরি মনের হাসপাতাল। তা হলে পাশে রাখুন বইকে।  

 

বাংলা আমাদের মাতৃভাষা। এ ভাষাকে সমৃদ্ধ করার জন্য আমাদের

আরো সাধনা করা দরকার --খুরশীদ আলম বাবু

 

০১. নতুন বই প্রকাশের খবর নিশ্চয় আনন্দের। আপনার অনুভূতি প্রকাশ করুন।

 উত্তর: নতুন বই প্রকাশের অনুভূতি নিঃসন্দেহে আনন্দের। তবে সেই বইটি সমালোচকদের কাছে গ্রহণযোগ্য হলে আরো বেশি  আনন্দের। 

০২. পাঠক সৃষ্টিতে বইমেলার ভূমিকা কি? 

উত্তর: পাঠক সৃষ্টিতে বইমেলার ভূমিকা অপরিসীম। তবে পাঠকদের অনুরোধ করবো, ভালো লেখকদের বই কেনার জন্য। যাতে করে তাদের চেতনার মান উন্নত হয়। 

০৩. এই মেলায় আপনার কয়টি বই প্রকাশিত হয়েছে? 

উত্তর: এবারের বইমেলায় আমার দুইটি বই প্রকাশ হচ্ছে বহুদিন পর। দু’টিই প্রবন্ধের বই। একটি কবি ফররুখ আহমদরে উপরে ‘ফররুখ আহমদ: কবি ও মানস চেতনা’; বিভিন্ন সময়ে পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত প্রবন্ধ নিয়ে  সংকলিত ‘নজরুলী দ্রোহ ও অন্যান্য প্রবন্ধ’।  

০৪.বাংলাভাষার প্রতি আমাদের কেমন শ্রদ্ধাবোধ থাকা উচিত? 

উত্তর: বাংলা আমাদের মাতৃভাষা। এ ভাষাকে সমৃদ্ধ করার জন্য আমাদের আরো সাধনা করা দরকার। ভাষাকে অবশ্যই সুখ পাঠ্য করতে হবে। বেশ কিছুদিন আগে বাংলা একাডেমি এক দুর্বোদ্ধ লেখককে কথাসাহিত্যে পুরস্কিৃত করেছেন। যা আমাদের ভাবিয়ে তুলেছে। বিষয়টি নিয়ে পর্যালোচনা করা দরকার। তবে ইদানিং তরুণরা যে ভাবে বাংলা ভাষাকে ইংরেজি বর্ণ লিখছে তাতে করে আমাদের ভয় হচ্ছে ভবিষ্যতে আমাদের বাংলা ভাষার বর্ণমালা থাকবে কিনা। এমনকি মোবাইল কোম্পানিগুলোয় এক আজব বাংলা উপহার দিচ্ছে ইংরেজি বর্ণতে লিখে। যা অত্যন্ত ভয়াবহ ও চিন্তার বিষয়। এখনই সচেতন মহলের উচিত হবে বলে মনে করি বাংলা ভাষাকে ইংরেজিতে লেখা থেকে বিরত থাকা এবং তরুণদের বাংলা চর্চায় উদ্বুদ্ধ করা। 

০৫. বইমেলা পাঠকদের উদ্দেশ্যে কিছু বলুন...।

উত্তর : পাঠকরা বইমেলায় এসে ভালো বই কিনুন এটাই আমার প্রত্যাশা।  

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ