শনিবার ০৮ আগস্ট ২০২০
Online Edition

বিভিন্ন স্থানে বিএনপি-জামায়াতের ২৮ নেতাকর্মী গ্রেফতার

চুয়াডাঙ্গা সদর সংবাদদাতা : জেলার আলমডাঙ্গায় গত ২ দিনে পুলিশের সন্ত্রাস, নাশকতা বিরোধী অভিযানে বিএনপি-জামায়াতের ৪ জন কর্মী আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার গভীর রাতে চরপাড়ার লস্কর আলীর ছেলে জামায়াত কর্মী আজগর আলী (৫৫), জোড়গাছা গ্রামের মৃত আনসার আলীর ছেলে বিএনপি কর্মী শাহজামালকে (৪৫) ও শনিবার রাতে তীর বিলা গাজীপাড়া গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে জামায়াত কর্মী খাইরুল বাশার (৪০) ও কাবিল নগর গ্রামের মৃত. করিম মন্ডলের ছেলে জামায়াতের উপজেলা শূরা ও কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা জামিরুল ইসলামকে (৪৯) তাদের নিজ বাড়ি থেকে পুলিশ তাকে আটক করে। রোববার আদালতের মাধ্যমে চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু জিহাদ মোহাম্মদ ফকরুল আলম খান জানান, তাদের বিরুদ্ধে নাশকতার অভিযোগ আছে। বিশেষ ক্ষমতা আইনে ১৫(৩)/২৫(ঘ) মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে  রোববার আদালতে সোপর্দ করা হয়। পরে তাকে চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ফেনী সংবাদদাতা : ফেনী শহর ও সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে শনিবার ও শুক্রবার পৃথক অভিযান চালিয়ে বিএনপি-জামায়াতের ৮ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার রায়কে ঘিরে নাশকতার আশঙ্কায় সন্দেহজনকভাবে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশে অভিযান চালিয়ে সদর উপজেলার বালিগাঁও ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের আবুল হোসেন ছেলে ইসরাফিল, ফাজিলপুর ইউনিয়নের মোস্তফার ছেলে সোহরাব হোসেন, কালিদহ ইউনিয়নের গোবিন্দপুরের আব্দুর রহিমের ছেলে শফিকুল ইসলাম, মোটবী ইউনিয়নের দক্ষিণ লক্ষ¥ীপুর গ্রামের আহসান উল্যার ছেলে আব্দুল কাদের, শর্শদি ইউনিয়নের রাস্তারখিল গ্রামের আব্দুল গফুরের ছেলে রহুল আমিন, ফতেহপুরের ইদ্রিস মিয়ার ছেলে সুমন, বারাহিপুরের আব্দুল মালেকের ছেলে আলী মর্তুজা, শহরের ফলেশ্বর এলাকার ইছহাক মজুমদারের ছেলে মো. ইসমাইল হোসেনকে গ্রেফতার করে।
ফেনী মডেল থানার ওসি মো. রাশেদ খান চৌধুরী জানান, গ্রেফতারকৃত বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদেরকে নাশকতার অভিযোগে গ্রেফতার করে বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
এদিকে বাসা-বাড়িতে গিয়ে নির্রিহ মানুষ ও জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের হয়রানি এবং গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও ফেনী জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর একেএম শামছুদ্দীন। তিনি অবিলম্বে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতারকৃত জামায়াত-শিবিরসহ বিরোধীদলের সকল নেতাকর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন।
ফেনী সংবাদদাতা : ফেনীতে বিএনপি নেতাদের গ্রেফতার করতে বাসা-বাড়িতে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। অভিযান চলাকালে দলটির নেতাকর্মী ও স্বজনদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অভিযানকালে নেতাকর্মীদের না পেয়ে পুলিশ পরিবারের লোকজনের সাথে দূর্বব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে গ্রেফতার এড়াতে তারা আগেই আত্মগোপনে থাকায় নেতাকর্মীদের কাউকে আটক করতে পারেনি। অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শহরের রামপুর পাটোয়ারি বাড়িতে পৌর বিএনপির সভাপতি আলাল উদ্দিন আলালের বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। একইদিন জেলা ছাত্রদল সভাপতি নঈম উল্লাহ চৌধুরী বরাতের বাসা তাকিয়া বাড়ি, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান জুয়েলের মিজান রোডের বাসা, শহর যুবদল সমন্বয়ক জাহিদ হোসেন বাবলুর পুলিশ কোয়ার্টারের বাসা ও সাইবার ইউজার দলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম রাসেলের রামপুরের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। বাসায় কাউকে না পেয়ে পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এর আগে কারাবন্ধী জেলা যুবদল সভাপতি ও বিএনপির প্রচার সম্পাদক গাজী হাবিব উল্লাহ মানিকের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান শহরের এসএসকে সড়কের গাজী এন্টারপ্রাইজে হানা দেয় পুলিশ।
সেখানে তার ভাই গাজী আতাউর রহমানের কাছ থেকে পারিবারিক নানা তথ্য নেয়া হয়।
এছাড়া শহরের রামপুর, শাহীন একাডেমি সড়ক, পুরাতন পুলিশ কোয়ার্টার ও পাঠান বাড়ি এলাকায় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের ধরতে বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়।
ফেনী মডেল থানার ওসি মো. রাশেদ খান চৌধুরী জানান, বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা থাকায় তাদের ধরতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মেহেরপুর সংবাদদাতা : মেহেরপুর সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের ১৩ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার দিনগত রাতে এ অভিযান চালানো হয়।
মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম  জানান, দেশব্যাপী পুলিশের বিশেষ অভিযান চলছে। এর অংশ হিসেবে মেহেরপুর সদর উপজেলায় অভিযান চালিয়ে বিএনপি-জামায়াতের ১৩ নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে। গত রোববার  তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।
মাধবদী (নরসিংদী) সংবাদদাতা : মাধবদীতে নাশকতার মাধ্যমে অস্তিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির পরিকল্পনার অভিযোগে গত ৪ জানুয়ারি বিএনপি’র ৩ নেতা কর্মীকে মাধবদী পৌর শহরের বিরামপুর থেকে মাধবদী থানা পুলিশ আটক করেছে। জানা গেছে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপি’র চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়কে ঘিরে দেশব্যাপী পুলিশের গ্রেফতারের অংশ হিসেবে মাধবদী থানা পুলিশ মাধবদীর বিরামপুর হতে বিএনপি’র ৩ জন নেতা কর্মীকে গ্রেফতার করেছে। এরা হলো মাধবদী পৌর শহরের ৪নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব তোফাজ্জল হোসেনকে তার নিজ বাড়ি থেকে আটক করে পুলিশ। এছাড়া বিএনপি’র অঙ্গসংগঠন মাধবদী ৪ নং ওয়ার্ড সেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মুকুল হোসেনকে থানায় ডেকে এনে আটক করে ও থানা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আক্তারুজ্জামানকে তার বাড়ি থেকে আটক করে পুলিশ। বিএনপির কর্মী সমর্থকদের আটকের বিষয়ে জানতে চাইলে মাধবদী থানার ওসি তদন্ত আবুল কালাম জানান নাশকতার মাধ্যমে অস্তিতিশীল করার পরিকল্পনার অভিযোগে তাদের আটক করা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ