মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট ২০২০
Online Edition

চুয়াডাঙ্গায় চাকরি দেয়ার নামে টাকা নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে প্রতারক গ্রেফতার

চুয়াডাঙ্গা সংবাদদাতা : চুয়াডাঙ্গায় প্রোটেক্টিভ ইসলামী লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানিতে টাকা নিয়ে চাকরি দেবার নামে প্রতারণার অভিযোগে রাহাজ্জান টুটুল নামে এক প্রতারককে আটক করেছে পুলিশ। যশোর থেকে গ্রেফতারকৃত টুটুলকে বুধবার চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় এনে গতকাল বিকাল পর্যন্ত টাকা উদ্ধারের প্রক্রিয়া চলছিল বলে জানান সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।

জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার কেদারগঞ্জ নতুন বাজারের সীমা ভবনে প্রোটেক্টিভ ইসলামী লাইফ ইনস্যুরেন্স নামে একটি প্রতিষ্ঠান অফিস ভাড়া নিয়ে এই প্রতারক গত ডিসেম্বরে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন পদে পার্টটাইম ও ফুলটাইম কাজের জন্য নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেয়। বিজ্ঞপ্তিতে ফিল্ড অফিসার পদে ৬ হাজার, ইউনিট ম্যানেজার পদে ১০ হাজার, ম্যানেজার পদে ১৩ হাজারসহ রিসিপশন ও অফিস সহকারী পদে ভালো বেতনের কথা উল্লেখ করা হয়। চাকরির জন্য আবেদন করেন চুয়াডাঙ্গার বেশ কিছু প্রার্থী। আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রোটেক্টিভের সহকারী ব্যবস্থাপনা পরিচালক যশোর কতোয়ালী থানার কাশেমপুরের রাহাজ্জান টুটুল, ঝিনাইদহ জেলার কোটচাঁদপুরের এনামুল হক, আবুবকর ছিদ্দিক, মফিজউদ্দিন ও ইমরান খান ৩৫ জনকে নিয়োগ দেয়। এ সময় ফিল্ড অফিসার পদে নিয়োগপ্রাপ্তদের কাছ থেকে ৭ হাজার, ইউনিট ম্যানেজারের কাছ থেকে ১২ হাজার, ম্যানেজারের কাছ থেকে ১৫ হাজার, রিসিপসনের কাছ থেকে ৭ হাজার ও অফিস সহকারীদের কাছ থেকে ৭ হাজার করে টাকা নেয়া হয়। এছাড়াও প্রত্যেকের কাছ থেকে আইডি কার্ড বাবদ সাড়ে ৭শ’ টাকাসহ বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়। পরে শুরু করে ১৫ দিনের ট্রেনিং। ট্রেনিংয়ে অর্ধেক মাসের বেতন দেয়ার কথা থাকলেও না দিয়ে শুরু হয় টালবাহানা। এছাড়াও নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ইউনিট ম্যানেজার পদে ৮ জনের স্থানে নিয়োগ দেয়া হয় ২৩ জনকে। এতেই চাকরি পাওয়া ব্যক্তিদের মাঝে সন্দেহের দানা বাঁধে। নিয়োগপ্রাপ্ত এক কলেজ ছাত্রের সন্দেহ হওয়ায় প্রোটেক্টিভ ইসলামী লাইফ ইনস্যুরেন্স লিমিটেডের ওয়েবসাইট থেকে জানতে পারেন চুয়াডাঙ্গায় এই কো¤পানির কোন শাখা নেই। এরপরই বিষয়টি নিয়োগ প্রাপ্তদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে বিপাকে পড়ে প্রতারকরা। পরে তারা ও তাদের পরিবার প্রতারণার কথা স্বীকার করে নিয়োগপ্রাপ্তদের টাকা ফেরত দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়, কিন্তু নিয়োগ প্রাপ্তরা টাকা ফেরত না দেয়া পর্যন্ত অফিসেই টুটুলের কাছে অবস্থান নেয়। কিন্তু রাতেই একদল যুবক নিজেদেরকে যশোর থানার পুলিশ পরিচয় দিয়ে দরজা খুলে অফিসে অবস্থানকারীদের মারধর করে টুটুলকে নিয়ে যায়।

পরের দিন মঙ্গলবার আহত নিয়োগপ্রাপ্তরা সকলে টাকা ফেরতের আশায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দীন আহমেদের কাছে ধর্ণাদেন। বিষয়টি জেলা প্রশাসক পুলিশ সুপারকে জানালে পুলিশ সুপারের নির্দেশে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল মোমেন যশোর পুলিশকে জানান। রাতেই যাশোর জেলার কাশিমপুর গ্রামের মন্টু মোল্লার ছেলে রাহাজ্জান টুটুলকে যশোর কোতায়ালী থানা পুলিশ তাকে আটক করে। এই খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ বুধবার তাকে চুয়াডাঙ্গা থানা নিয়ে আসে।

এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তোজাম্মেল হক দৈনিক সংগ্রামকে জানান, আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের টাকা উদ্ধারের চেষ্টা করছি। আটককৃত টুটুলের পিতা টাকা ফেরত প্রদানের উদ্যোগ নেয়ায় তাকে পুলিশ হেফাজতেই রাখা হয়েছে, তবে ব্যর্থ হলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ