বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

পা ও জুতা ধুয়ে পানি খাওয়ানো শাস্তি

ঝালকাঠি সংবাদদাতা: ১ থেকে ৫০ পর্যন্ত লিখতে দিয়েছিলো অংক স্যারে। পরান ও আরমান সম্পূর্ণ লিখতে পেরেছে। আমি ১ থেকে ৩০ পর্যন্ত লিখে দিয়েছি। সম্পূর্ণ লিখতে না পারায় নীচে মগ রেখে তার উপরে পরানের পা এবং আরমানের জুতা রেখে উপর থেকে পানি ঢেলে সেই পানি আমাদের জোর করে খাওয়াইছে। আমরা না খাইতে চাইলে থাপ্পড় (চড়) মেরে আবারো মাইরের (মারধর) ভয় দেখানোয় আমরা খাইছি। কথাগুলো বলছে বিকনা নূরানী মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র মোঃ নাসরুল্লাহ। শনিবার মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটেছে। বিকেলে বাসায় এসে পড়া পারি নায় এজন্য স্যারে এ শাস্তি দিছে বললে যদি আবার মা’ও মারে। বিকেল থেকেই পাতলা পায়খানা শুরু হয়েছে। যাতে প্যান্ট নষ্ট না হয় এজন্য টয়লেটের আশপাশেই ছিলাম। মোঃ নাসরুল্লাহ পূর্ব চাঁদকাঠি এলাকার রুহুল আমীনের পুত্র। নাসরুল্লাহ আরো জানায়, শুধু তাকেই না, তানজির, আফ্রিদি, রিফাত, সাইদসহ ক্লাসের সকল ছাত্রেরই শাস্তি ছিলো লিখতে পেরেছে পরান ও আরমান তাই তাঁদের জুতা ও পা ধোয়া পানি খেতে হবে। নাসরুল্লাহ মা শাহিদা বেগম জানান, শনিবার বিকেল থেকেই নাসরুল্লাহর পাতলা পায়খানা শুরু হয়েছে। 

ভাবছিলাম কোন খাবারে ত্রুটির কারণে এমন হতে পারে। সোমবার সকালে প্রতিবেশী আরেক ছাত্রের মা এসে আমাদের একথা জানায়। আমি নাসরুল্লাহকে বিকেলে সদর হাসপাতালে ডাক্তার দেখিয়েছি। এ ব্যাপারে মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক’র মুঠোফোনে (০১৭১২৭০৫৩৯৭) জানতে চাইলে তিনি রিসিভ করলে প্রতিবেদক তার পরিচয় দিলে তিনি জানান, আমি গাড়িতে কিছু শুনতে পাচ্ছি না। নেমে পড়ে আপনাকে কল দিবো।

স্থানীয়রা জানায়, এঘটনা জানাজানি হলে কয়েকজন অভিভাবক উত্তেজিত হয়ে ময়লা মাখা ঝাড় –নিয়ে জিজ্ঞাসা করতে গেলে শিক্ষক আত্মগোপন করে। পরে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের অনুরোধে তারা চলে যায়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ