বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

৮ জুয়াড়ীকে আটকের পর ৫ লাখ টাকা ভাগ করে নিলেন পুলিশের সদস্যরা

সাভার সংবাদদাতা: আশুলিয়ায় আট জুয়াড়ীকে আটকের পর তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা নগদ প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ভাগ-ভাটোয়ারা করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের সদস্যের বিরুদ্ধে। পরে এ ঘটনায় আশুলিয়া থানায় একটি মামলা দায়েরের পর মাত্র ১৬ হাজার তিনশত টাকা উদ্ধার দেখিয়ে তাদেরকে আদালতে পাঠানো হয়। অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা হচ্ছে, আশুলিয়া থানার উপ পরিদর্শক (এস আই) জামিনুর রহমান ও  এ এস আই জসিম। এর আগে সোমবার রাতে আশুলিয়ার জিরানী এলাকার লাইলি জেনারেল হাসপাতালের পাশের একটি কক্ষ থেকে আট জযয়ারীকে আটক করা হয়।

আটককৃতরা হচ্ছে, আশুলিয়ার জিরানী এলাকার শওকত হোসেন (৩০), সিরাজুল ইসলাম (৩৬), মোহাম্মদ আলী (৩১), গোলাম মোস্তফা (৩২), মোশারফ হোসেন (৪০), আল আমিন (৩০), মহর আলী (২৭) ও আবুল কালাম আজাদ (৩৮)।

আটককৃতদের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা জানায়, আশুলিয়ার জিরানী এলাকার লাইলি জেনারেল হাসপাতালের পাশের একটি কক্ষে বসে জুয়া খেলছিলেন আট জুয়ারী। পরে রাতের দিকে আশুলিয়া থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌছিয়ে জুয়ার প্রায় পাচ লাখ টাকাসহ তাদেরকে আটক করে। পরে তাদেরকে আশুলিয়া থানা হেফাজতে রাখা হয়। পরে মঙ্গলবার দুপুরে এএসআই জসিম বাদী হয়ে তাদের নামে একটি মামলা দায়ের করেন। 

এদিকে জুয়ারীদের কাছ থেকে প্রায় পাচ লাখ টাকা পাওয়া গেলেও পুলিশ মামলায় মাত্র ১৬ হাজার তিনশত টাকা উদ্ধার দেখিয়ে তাদেরকে আদালতে পাঠায়।

আটক আল-আমিনের ভাইয়ের মেয়ে শাহিদা আক্তার বলেন, তার চাচা আটকের খবর শুনে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে থেকেই তিনি জানতে পারেন আটককৃতদের কাছে প্রায় পাচ লাখ টাকা ছিল।

এছাড়াও শিমুলিয়া ইউনিয়নের ৭,৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য মমতাজ বেগম বলেন, তার ভাই আল-আমিন জুয়ারী নয়। তবে সে সোমবার সন্ধ্যায় ওখানে তার এক বন্ধুকে ডেকে নিয়ে আসার জন্য গিয়েছিল। অথচ আশুলিয়া থানা পুলিশ তাকেও আটক করে থানায় নিয়ে যায়। তিনি অভিযোগ করে আরো বলেন, জুয়ারীদের কাছে প্রায় ৫লাখ টাকা ছিল। অথচ পুলিশ তাদেরকে গ্রেফতার করলেও মামলায় মাত্র ১৬হাজার তিনশত ১০ টাকা দিখিয়ে বাকি টাকা ভাগ-ভাটোয়ারা করে নিয়েছে।

এব্যাপারে সাভার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খোরশেদ আলম বলেন, এ বিষয়ে তিনি পুলিশের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করেছেন। এছাড়াও পুলিশের সদস্যরা যদি টাকা কম দেখিয়ে আদালতে আসামি প্রেরন করে থাকে সে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলেও তিনি জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ