বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

চাঁদাবাজি থেকে রেহাই পাচ্ছেন না নিরীহ লবণচাষীরাও

শাহনেওয়াজ জিল্লু, (কক্সবাজার): নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে দলের মাঝে ঘাপটি মেরে থাকা সুযোগ সন্ধানীরা। দলের নাম ভাঙ্গিয়ে নানা অনিয়ম দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির মত ঘৃণ্য কর্মকা-েও জড়িয়ে পড়ছে এসব সুযোগ সন্ধানী নেতাকর্মীরা। এনিয়ে বিব্রত বোধ করছে খোদ দলের নীতি-নির্ধারকরাই। কক্সবাজার সদর উপজেলার পোকখালী ইউনিয়নের এক যুবলীগ নেতা ও তার সহোদরদের বিরুদ্ধে এমন কিছু অনিয়ম ও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠে আসার পরে নড়ে চড়ে বসেছে দলের কর্তাব্যক্তিরা। 

অভিযোগে উঠেছে, কক্সবাজার সদর উপজেলা যুবলীগের সদস্য ও পোকখালী ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক জামাল উদ্দিন ও তার সহোদর রহিম এবং মোচ্ছা কামাল সংজ্ঞবদ্ধ চক্র গঠন করে উক্ত এলাকায় ব্যাপক চাঁদাবাজি করে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে সে দলীয় পরিচয় বহন করে থাকে। জামাল পোকখালীর ৭নং ওয়ার্ড উত্তর গোমাতলী রাজঘাট এলাকার মৃত আবুল হোসেনের ছেলে।

গত ২৫ জানুয়ারী বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় যুবলীগ নেতা জামাল উদ্দিন জনৈক লবণচাষী টুটুলের(২২) নিকট থেকে ১০ হাজার টাকা চাঁদা দাবী করে। উক্ত চাঁদা দিতে অপারগত প্রকাশ করায় জামাল উদ্দিন ও তার সহোদর রহিম ও মুচ্ছা কামাল একযোগে সশস্ত্র হামলা চালায় টুটুলের উপর। হামলায় আহত টুটুল ওই দিনই কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলো। হাসপাতালে টুটুল সংবাদকর্মীদের সবিস্তারে ঘটনার বিষয়ে বর্ণনা করেন।

এব্যাপারে অভিযুক্ত যুবলীগ নেতা জামাল উদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি অভিযোগগুলো অস্বীকার করেন। তিনি আরোও জানান, টুটুলের সাথে আমার ভাই রহিমের সাথে একটু কথা কাটাকাটি হয়েছিলো বলে শুনেছি। তবে টুটুলও উক্ত ঘটনায় আহত হয়েছে বলে স্বীকার করেন জামাল উদ্দিন।

এদিকে এব্যাপারে সদর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ইফতেখার উদ্দিন পুতু জানান, জামাল কর্মী হিসেবে ভালো। তবে কেউ দলীয় পরিচয় দিয়ে অনিয়ম বা অপরাধ সংঘটিত করলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের শেষ নাগাদ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সরকারও এব্যাপারে যথেষ্ট তৎপর। এলক্ষ্যে দেশের আর্তসামাজিক উন্নয়ন ও দারিদ্রতা বিমোচনে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে গরীব দুঃখী হত দরিদ্র মানুষগুলোর জীবন মান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু কতিপয় কুচক্রী মহল দলের মাঝে ঘাপটি মেরে বিভিন্ন অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে। গরীবের পেটে লাথি মারছে। একারণে সরকারের প্রতি মানুষের বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। ভোটের রাজনীতি বলে কথা, আগামী জাতীয় নির্বাচনে এসব বিষয়গুলো অনেক বেশী প্রভাব ফেলতে পারেও মন্তব্য করেন তারা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ