বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

লাইসেন্স নকলকারীকেই মোটা অঙ্কের টাকায় অগভীর নলকূপের লাইসেন্স!

চৌগাছা (যশোর) সংবাদদাতা: যশোরের চৌগাছায় অগভীর নলকূপের লাইসেন্স নকলকারীকেই সকল নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে অগভীর নলকূপের লাইসেন্স দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। একটি অগভীর নলকূপের ৭৪২ ফুটের মধ্যে অন্য গভীর নলকূপের লাইসেন্স না দেয়ার আইন থাকলেও লাইসেন্স জালিয়াতি করা ওই ব্যক্তিকে মাত্র ১২০ ফুট দুরত্বে লাইসেন্স দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। দু’এক দিনের মধ্যেই তিনি লাইসেন্স নকল করার দায়ে ক্রোককৃত মালামাল ফেরত পেতে যাচ্ছেন বলে চৌগাছা পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সুখপুকুরিয়া ইউনিয়নের নগরবর্ণি গ্রামের জনৈক আব্দুল খালেক লাইসেন্স জালিয়াতি করে ২০১৪ সাল থেকে একটি অগভীর নলকূপ চালিয়ে আসছিল। ২০১৭ সালের এপ্রিল মাসে একই এলাকায় আব্দুল বারিক নামে অন্য একজনকে অগভীর নলকূপের লাইসেন্স দিতে গেলে বিষয়টি সামনে আসে। লাইসেন্স জালিয়াতি প্রমাণিত হওয়ায় তৎকালীন পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম দেলোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে পল্লী বিদ্যুৎ কর্মীরা তার নলকূপের সকল মালামাল ক্রোক করে নিয়ে আসেন। এবং ওই স্থানে আব্দুল বারিককে লাইসেন্স দেয়া হয়। মালামাল ক্রোকের পর ওই ব্যক্তি আবারো নলকূপের লাইসেন্স পাওয়ার জন্য তদবীর শুরু করেন। অনৈতিক তদবীরে লাইসেন্স নকলকারী যেন ফের লাইসেন্স না পান এজন্য লাইসেন্সপ্রাপ্ত আব্দুল বারিক জেলা সেচ কমিটির সভাপতি ও যশোরের জেলা প্রশাসক, উপজেলা সেচ কমিটির সদস্য সচিব ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী বিএডিসি, উপজেলা সেচ কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর আবেদন করেন। এরপরও ওই ব্যক্তি তদবীরের জোরে সম্প্রতি লাইসেন্স পেয়েছেন। সেচ আইনে আছে একটি অগভীর নলকূপের ৭৪২ ফুটের মধ্যে অন্য অগভীর নলকূপের লাইসেন্স দেয়া যাবে না। সেখানে ওই ব্যক্তিকে মাত্র ১২০ ফুট দুরত্বে অগভীর নলকূপ লাইসেন্স দেয়া হয়েছে। চৌগাছা পল্লী বিদ্যুতের জোনাল অফিস সূত্রে জানা গেছে, দু’এক দিনের মধ্যে লাইসেন্স জালকারী আব্দুল খালেক তার ক্রোককৃত মালামাল ফেরত পেতে যাচ্ছেন। অভিযোগ করা হচ্ছে, ইউনিয়নের ব্লক সুপারভাইজার মিলন হোসেন এবং পল্লী বিদ্যুতের ইন্সপেক্টর মামুন হোসেন মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে বিএডিসির উপ-সহকারী প্রকৌশলী শাহজাজান কবীরকে ম্যানেজ করে লাইসেন্স জালকারী ব্যক্তিকে লাইসেন্স পাইয়ে দিচ্ছেন।

এ বিষয়ে সুখপুকুরিয়া ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্লক সুপারভাইজার মিলন হোসেন বলেন, একটি থেকে অন্য অগভীর নলকূপের দুরত্ব হবে কমপক্ষে সাতশত বিয়াল্লিশ ফুট। বর্ণিতে ১২০ ফুট দূরত্বে কিভাবে সুপারিস করা হলো জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি ওখান থেকে এক/দেড় মাস আগে চলে এসেছি। এখন অন্য এক ব্যক্তি দায়িত্ব পালন করছে। আপনি তার সাথে যোগাযোগ করুন। 

চৌগাছা পল্লী বিদ্যুতের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার দেব কুমার মালো বলেন, একটি লিখিত আবেদন পেয়েছি। 

আব্দুল খালেক নামের ওই ব্যক্তি আগের বছর সেচ কমিটির যে লাইসেন্স জমা দিয়েছিল সেটি জাল ছিল। এজন্য তার মালামাল ক্রোক করা হয়। তিনি মৌখিকভাবে দাবি করেছেন এ বছর সেচ কমিটির অরিজিনাল লাইসেন্স নিয়ে এসেছেন। উপজেলায় যে সেচ কমিটি রয়েছে, তা অত্যন্ত শক্তিশালী। সেচ কমিটির অনুমোদন থাকলে আমাদের তো কিছুই করার নেই।

তবে পল্লী বিদ্যুতের সংশ্লিষ্ট ইন্সপেক্টর মামুনের ব্যবহৃত ০১৭২২১৪৬৫৪২ এবং বিএডিসি’র উপ-সহকারী প্রকৌশলী  ও চৌগাছা উপজেলা সেচ কমিটিরি সদস্য সচিব শাহাজান কবীরের ব্যবহৃত ০১৯২৫২২৪১০২ মোবাইলে কল দিলেও তারা রিসিভ করেননি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ