বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

কলারোয়ায় ফেরি করে ২৫০ টাকা দরে রুগ্ন ভারতীয় গো-মাংস বিক্রি

কলারোয়া (সাতক্ষীর) সংবাদদাতা: কলারোয়ায় গরুর মাংস ৪শ’ কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এই সুযোগে কলারোয়া সীমান্তে ফেরি করে ২৫০ টাকা কেজি দরে রুগ্ন ও মরণাপন্ন ভারতীয় গো-মাংস বিক্রি হচ্ছে। অজ্ঞ জনসাধারণ এই মাংস খেয়ে পেটের পীড়া সহ নানা দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে।

সীমান্ত সূত্র জানায়, সীমান্তবর্তী এক দল ভারতীয় চোরাচালানী পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিভিন্ন রোগাক্রান্ত, দূঘটনায় ও বয়সের ভারে মৃত্যু মুখী গরু কিনে নিয়ে আসে। এছাড়া ভারতের উত্তর ও মধ্যে প্রদেশ থেকে বাংলাদেশে পাচারের উদ্দেশ্যে আনা গরু পথিমধ্যে নানা রোগে অচল হয়ে পড়ে তাও মাংস চোরাচালানী দল ক্রয় করে। রোগাক্রান্ত, বৃদ্ধ, অচল গরুগুলো গভীর রাতে সীমান্তবর্তী ভারতীয় গ্রামে জবাই করা হয়। এরপর ভোর রাতে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ এবং অসাধু বিজিবি সদস্যদের সংগে কেজি প্রতি ৬৫ টাকা দিয়ে বাংলাদেশে পাচার করে আনা হচ্ছে। সীমান্তের চোরাচালানের গডফাদার একজন ইউপি মেম্বর ভারতীয় বিএএফ ও বাংলাদেশের বিজিবি’র সংগে চুক্তির টাকা লেনদেনের কাজ সম্পন্ন করে থাকে বলে সুত্র জানায়। সুত্র মতে, রোগাক্রান্ত বৃদ্ধ মৃত্যুমুখী গরুর মাংস বাংলাদেশী মুদ্রায় ১২০ টাকা কেজি ক্রয় করার পরে কেজি প্রতি ৬৫ টাকা দিয়ে বাংলাদেশে পাচার করে আনা হচ্ছে। অর্থাৎ চুক্তির টাকা দিয়ে ১৮৫ টাকা কেজি দরে মাংস বাংলাদেশের উত্তর ভাদিয়ালী, দক্ষিণ ভাদিয়ালী ও কেড়াগাছি গ্রামে এসে পৌছায়। সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে বাড়ি বাড়ি ফেরি করে এই মাংস ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হচ্ছে। ভাদিয়ালী সীমান্তের জনৈক আলাউদ্দীন, শহিদুল, মনি, শাহাজুদ্দীন সহ প্রায় ২০ ব্যক্তি এই মাংস ফেরির কাজে নিয়োজিত রয়েছে বলে সূত্র জানায়। এছাড়া ভোর রাতে মটর সাইকেলে কয়েক হাজার কেজি মাংস কলারোয়া উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজার ছাড়াও কেশবপুর, মনিরামপুর ও ঝিকরগাছা উপজেলার হাট বাজারে প্রবেশ করছে। স্থানীয় হাটবাজারে জবাই করা গো-মাংসের সংগে ভেজাল দিয়ে ভারতীয় রোগাক্রান্ত বৃদ্ধ মৃত্যুমুখী গরুর মাংস বিক্রি করা হচ্ছে। সুত্রটি আরো জানায়, বেচে থাকার নূন্যতম উপায় নেই- এমন গরু জবাই করে তার মাংস বাংলাদেশে পাঠানো হয়। রুগ্ন, বৃদ্ধ মরণাপন্ন গরুর মাংস বাংলাদেশে পাঠানো হয় বলে রান্না করলে এই মাংস সুস্বাদু হয় না। রান্না করা মাংসের হাড়ে কোন মজ্জা থাকে না। এছাড়া মাংস রান্না করলে কোন তৈলাক্ত পদার্থ দেখা যায় না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ