বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একক কর্তৃত্ব মানবে না ইউরোপীয় ইউনিয়ন

১ ফেব্রুয়ারি, আরব ৪৮.কম/আল-জাজিরা/আনাদুলো : মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রকে একা কোনও পদক্ষেপ না নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। যুক্তরাষ্ট্রের একক কর্তৃত্বে শান্তি প্রক্রিয়া ব্যর্থ হতে পারে বলে আশঙ্কা জানিয়েছে তারা।

বুধবার বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে ফিলিস্তিনী রাষ্ট্র গঠনে নতুন সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করতে গিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন-এর (ইইউ) শীর্ষ কর্মকর্তা এসব কথা বলেন। সহায়তা প্যাকেজের আওতায় ফিলিস্তিনিদের ৪ কোটি ২৫ লাখ ইউরো দেবে ইইউ।

কয়েক দশকের মার্কিন রীতির অবসান ঘটিয়ে গত বছরের ছয় ডিসেম্বর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরোয়েলের রাজধানী স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দেন। একইসঙ্গে মার্কিন দূতাবাস তেল আবিব থেকে সরিয়ে জেরুজালেমে নেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। আর এরপরই ফিলিস্তিনসহ বিশ্বজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ ঘোষণা দেয় মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের নেওয়া আর কোন পদক্ষেপ মানবে না তারা। 

চলতি মাসের তৃতীয় সপ্তাহে খবরে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ফিলিস্তিনি সূত্রের বরাতে জানানো হয় প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস মিশরের প্রেসিডেন্টকে বলেছেন, কোনও আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের অংশ হয়ে এলে শান্তি প্রক্রিয়ায় মার্কিন মধ্যস্থতা মেনে নেবেন তারা। এবার ইউরোপীয় ইউনিয়নও যুক্তরাষ্ট্রকে একক মধ্যস্থতার পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানালো।

 ইউরোপীয় ইউনিয়নের বৈদেশিক নীতি বিষয়ক প্রধান ফেডারিকা মোগেরিনি ব্রাসেলসে সাংবাদিকদের বলেন, আলোচনার জন্য নির্ধারিত যে কোনও কাঠামোকে বহুপক্ষীয় হতে হবে। তাতে সব মধ্যস্থতাকারীসহ সব পক্ষকে অবশ্যই যুক্ত থাকতে হবে। মোগেরিনি মনে করেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় সব পক্ষের অংশগ্রহণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মোগেরিনির মতে, এককভাবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে যেমন শান্তি প্রক্রিয়ায় সফল হওয়া সম্ভব না, আবার তাকে বাদ দিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টাও বাস্তবসম্মত নয়।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ফিলিস্তিনকে সকল অর্থসহায়তা বন্ধ করে দেওয়া প্রসঙ্গে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক কর্মকর্তা ফেডেরিকা মোঘেরিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সাহায্য দেবে কিংবা দেবে না এ প্রসঙ্গে কিছুই আসে যায় না। মোঘেরিনির এই ঘোষণার পর ফিলিস্তিনকে আন্তর্জাতিকভাবে অর্থসহায়তাকারী প্রতিষ্ঠান ইসরায়েল এবং মিশর সরকারের সাথে এ বিষয়ে জরুরি বৈঠক করেন। বৈঠকে ফিলিস্তিনের প্রধানমন্ত্রী এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। এসময় জাতিসংঘের ফিলিস্তিনিদের অর্থসহায়তা তহবিল ‘আনরওয়া’কে সাহায্য করার কথা উঠে আসে। এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া এবং ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের বিদ্যমান সমস্যা সমাধানের বিষয়গুলো এ বৈঠকে আলোচিত হয়।

জেরুসালেমে দূতাবাস নেবে না জার্মানি : ইসরায়েলের তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে দূতাবাস সরিয়ে নেবে না জার্মানি। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিগমার গ্যাব্রিয়েল বলেছেন, যতক্ষণ না ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে দুই রাষ্ট্র বিষয়ক সমস্যার সমাধান না হবে ততক্ষণ তার দেশ তেল আবিব থেকে দূতাবাস সরিয়ে নেবে না।

 তেল আবিবে ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিসের এক সম্মেলনে গ্যাব্রিয়েল একথা বলেন। তিনি বলেন, জার্মানি তেল আবিব থেকে তার দূতাবাস জেরুজালেমে সরিয়ে নেওয়ার জন্যে অপেক্ষা করছে কিন্তু তার আগে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান আসতে হবে। 

এ সমস্যার সমাধান কেবল মাত্র আলোচনার মধ্যে দিয়েই হতে পারে। এখানো কোনো ‘শর্ট কার্ট’এর সুযোগ নেই। কারণ জেরুজালেম নিয়ে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের বৈধ আকাঙ্খা রয়েছে। আর যতক্ষণ আন্তর্জাতিক আইন অনুসরণ না করে দুই রাষ্ট্র ভিত্তিক সমাধান না আসবে ততক্ষণ জেরুজালেম দখলকৃত বলেই বিবেচিত হবে।

গত ডিসেম্বরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমে তার দেশের দূতাবাস তেল আবিব থেকে সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ