সোমবার ২৬ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

কুয়েটে র‌্যাগিংয়ের শিকার শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস নয় খুলনা ছাড়ছে!

খুলনা অফিস : খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) ২০১৭ ব্যাচের নবীন শিক্ষার্থীরা ভয়াবহ র‌্যাগিংয়ের শিকার হয়ে পালিয়ে শুধু ক্যাম্পাস নয়, খুলনাই ছেড়ে বাড়ি যাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নিরব ভূমিকাতেই বেশি কষ্ট পাচ্ছেন অভিভাবকরা। 

একাধিক অভিভাবক, ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ‘র‌্যাগিং এর নামে সর্বোচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ কি বর্বরতা!’ শিরোনামে প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান খান ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘আজ (বুধবার) সকাল আনুমানিক ৫টায় খুলনার সর্বোচ্চ দু’টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একটির এক ছাত্রের পিতা ঢাকা থেকে আমার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এক বন্ধুকে ফোন করে বলে-যে করে হোক আমার ছেলেকে বাঁচান। তাকে হল থেকে নিয়ে যেভাবে হোক ঢাকার বাসে একটু যদি উঠিয়ে দেন, তাহলে চরম কৃতজ্ঞ থাকবো। আমার বন্ধু সেই কাক ডাকা ভোরে নিজে গাড়ি চালিয়ে বহু কৌশল করে তাকে হল থেকে বের করে এনে গ্রীণলাইনের বাসে উঠিয়ে দিয়েছে। সে প্রথম বর্ষের ছাত্র। ক্লাস শুরু হয়েছে ৪/৫ দিন। ছেলেটির প্রকাশিত নির্যাতনের আংশিক-তাকে জামা কাপড় খোলায়ে এই শীতে রাত একটা পর্যন্ত ছাদে রাখা হয়। তাকে একরুমে তালা মেরে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত রাখা হয়েছে, রুমে বাথ রুম নাই। আরো কিছু সে বলতে চায় না।’

তিনি আরও লিখেছেন, ‘আমি প্রথমে বিশ্বাস করতে পারি নাই। আমি ফোন দিলাম, ঐ প্রতিষ্ঠানের একজন সিনিয়র প্রফেসরকে। তিনি বললেন, এখন এ রকম অহরহ ঘটছে, আমরা শিক্ষকরা অসহায়।’ পরিশেষে লিখেছেন, ‘একটা ছেলে এত কষ্ট করে এত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে এতো বড় উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়েছে, তার পিতা-মাতাসহ পরিবারের কত সুখের স্বপ্ন, সে নিশ্চিত......হচ্ছে। কিন্তু সিনিয়রদের নিষ্ঠুর/বর্বর আচরণে সমস্ত স্বপ্ন ভেঙ্গে আগে জীবন বাঁচাতে প্রতিষ্ঠান ছেড়ে চলে যাচ্ছে। আরো একজন প্রফেসরের সাথে কথা বললাম, ‘সে বললো এসব জানাজানি হলে প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হবে।’ এর প্রতিকারকে করবে?’

ক্যাম্পাসের একাধিক সূত্র জানিয়েছেন, গতকাল অন্তত ৫/৬ জন ছাত্র ক্যাম্পাস ছেড়ে পালিয়েছে। ২০১৬ সালের ২৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় ভাস্কর্য ‘দুর্বার বাংলা’র পাদদেশে র‌্যাগিং বিরোধী শপথ আর বিশ্ববিদ্যালয়ে র‌্যাগিং বিরদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স নীতির কোন বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিভাবকরা।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখার পরিদর্শক কাজী মোস্তাক আহমেদ ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে ভুক্তভোগীদের আইনের আশ্রয় নেবার পরামর্শ দিয়েছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ