শুক্রবার ১৪ আগস্ট ২০২০
Online Edition

কবিতা সবাইকে শান্তি কল্যাণে উজ্জীবিত করে

স্টাফ রিপোর্টার : দু’দিনব্যাপী জাতীয় কবিতা উৎসব শুরু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কবি আসাদ চৌধুরী বলেন, বাঙালি সাহিত্য-সংস্কৃতির উন্নয়ন এবং শৃঙ্খল মুক্তির স্বপ্নের সঙ্গে স্বৈরাচার, সাম্প্রদায়িকতা, জঙ্গিবাদ নির্মূল করে কবিতার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণের জন্য কবিরা এই সংগঠন গড়ে তুলেছেন।  

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি চত্বরে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি কবি মুহম্মদ সামাদ সভাপতিত্ব করেন। প্রধান অতিথি কবি আসাদ চৌধুরী উৎসব পতাকা উত্তোলন করে উৎসব উদ্বোধন করেন। এ সময় অন্যান্য কবিরা জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। ঘোষণাপত্র পাঠ করেন কবি শিহাব সরকার। পরিষদের সাধারণ সম্পাদক তারিক সুজাতও এতে বক্তব্য রাখেন। উৎসবমঞ্চে কয়েকজন বিদেশী কবি উপস্থিত ছিলেন। উৎসবের মূল স্লোগান হচ্ছে ‘দেশহারা মানুষের সংগ্রামে কবিতা’। 

সকাল দশটায় উৎসব প্রাঙ্গণ থেকে কবিদের র‌্যালি শুরু হয়। জাতীয় কবি নজরুল ইসলাম, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের সমাধিতে এবং কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে কবিরা শ্রদ্ধা নিবেদনের পর র‌্যালি পুনরায় উৎসব প্রাঙ্গণে ফিরে আসে। পরে আবদুল গাফফার চৌধুরীর লেখা মহান একুশের গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, জাতীয় সংগীত ও কবি মহাদেব সাহার লেখা উৎসব সংগীত ‘কবিতা জেগেছে বাংলার পথে পথে, জেগেছে নগরে গ্রামে’ পরিবেশন করা হয়। গানটির সুর করেছেন শিল্পী ফকির আলমগীর। তিনি উদ্বোধনী সংগীত পরিবেশনায় নেতৃত্ব দেন। এতে অংশ নেন ঋষিজ, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পগোষ্ঠীসহ পনেরোটি সংগঠনের শিল্পীরা। 

জাতীয় কবিতা উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থপতি ও কবি রবিউল হুসাইন বলেন, কবিতা মানুষের প্রতিধ্বনি, মানুষ ও কবিতার প্রতিভূ। কবিতা স্বপ্ন, সংগ্রাম, ভালোবাসা, জীবন ও বাস্তবতার ভাষ্যরূপ দেয়। তিনি বলেন, বিভিন্নভাবে মানুষ ও দেশকে বিভক্ত করা হয়, তার বিপরীতে কবিতা সবাইকে শান্তি ও কল্যাণে এবং শ্রেয়বোধে উজ্জীবিত করে। রোহিঙ্গাসহ বিশ্বের বাস্তুহারা ও দেশহারা মানুষের পক্ষে একাত্বতা প্রকাশ করে কবি রবিউল হুসাইন বলেন, দেশহারা মানুষের সংগ্রামে কবিতাই পারে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে।

উৎসবের প্রথম দিনে আরো ছিলো মুক্ত আলোচনা, চার পর্বে কবিতা পাঠ, আবৃত্তির অনুষ্ঠান। আজ দ্বিতীয় দিনে উৎসবের কার্যক্রম শুরু হবে সকাল ১১টায় ‘আমাদের মুক্তিযুদ্ধ ও আমাদের কবিতা’ শীর্ষক সেমিনার মাধ্যমে। পরে রয়েছে আরো একটি সেমিনার, পাঁচ পর্বে কবিতা পাঠ, পুরস্কার ঘোষণা ও কবিতার গান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ