সোমবার ২৬ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

মাতৃভাষা বাংলা ভাষা  খোদার  সেরা দান

 

স্টাফ রিপোর্টার : রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন জাতীয় ইতিহাসের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়েই আমাদের জাতীয় চেতনার উন্মেষ ঘটে এবং তৎকালীন পূর্ববাংলার বাঙালি জাতিকে স্বাধিকার অর্জনে উদ্বুদ্ধ করে। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর পরই শুরু হওয়া ভাষা আন্দোলনের পথ বেয়ে ১৯৭১ সালে অর্জিত হয় বহু কাক্সিক্ষত স্বাধীনতা। ফেব্রুয়ারি মাস ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত মাস। আমাদের বর্ণমালার অধিকার প্রতিষ্ঠার মাস। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ভাষা শহীদদের রক্তের বিনিময় আমরা অর্জন করি আমাদের বর্ণমালা ও ভাষার অধিকার। বায়ান্ন’র এই রক্তাক্ত অধ্যায় একদিনে সৃষ্টি হয়নি। এ আন্দোলনের রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস। ১৯৪৭ সালে ভাষা আন্দোলন শুরু হয়ে ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানী সংবিধানে তথ্য সাপেক্ষে বাংলা রাষ্ট্রভাষা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবার ফলে এ আন্দোলনের বিজয় সূচিত হয়। 

উইকিপিডিয়ায় উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলা ভাষা আন্দোলন ছিল তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশ) সংঘটিত একটি সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলন। মৌলিক অধিকার রক্ষাকল্পে বাংলা ভাষাকে ঘিরে সৃষ্ট এ আন্দোলনের মাধ্যমে তৎকালীন পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গণ দাবির বহিঃপ্রকাশ ঘটে। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারিতে এ আন্দোলন চূড়ান্ত রূপ ধারণ করলেও বস্তুত এর বীজ বপিত হয়েছিল বহু আগে, অন্যদিকে এর প্রতিক্রিয়াা এবং ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী। 

১৯৪৭ সালে বৃটিশ ভারত ভাগ হয়ে পাকিস্তানের উদ্ভব হয়। কিন্তু পাকিস্তানের দু’টি অংশ - পূর্ব পাকিস্তান এবং পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে সাংস্কৃতিক, ভৌগোলিক ও ভাষাগত দিক থেকে অনেক মৌলিক পার্থক্য বিরাজ করছিল। ১৯৪৮ সালে পাকিস্তান সরকার ঘোষণা করে যে, উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা। এ ঘোষণার প্রেক্ষাপটে পূর্ব পাকিস্তানে অবস্থানকারী বাংলাভাষী সাধারণ জনগণের মধ্যে গভীর ক্ষোভের জন্ম হয় ও বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। কার্যত পূর্ব পাকিস্তান অংশের বাংলাভাষী মানুষ আকস্মিক ও অন্যায্য এ সিদ্ধান্তকে মেনে নিতে পারেনি এবং মানসিকভাবে মোটেও প্রস্তুত ছিল না। ফলস্বরূপ বাংলাভাষার সম-মর্যাদার দাবিতে পূর্ব পাকিস্তানে আন্দোলন দ্রুত দানা বেঁধে ওঠে। আন্দোলন দমনে পুলিশ ১৪৪ ধারা জারি করে ঢাকা শহরে সমাবেশ-মিছিল ইত্যাদি বে-আইনী ও নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। 

উইকিপিডিয়ায় আরো উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি (৮ ফাল্গুন ১৩৫৮) এ আদেশ অমান্য করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু সংখ্যক ছাত্র ও প্রগতিশীল কিছু রাজনৈতিক কর্মী মিলে মিছিল শুরু করেন। মিছিলটি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের কাছাকাছি এলে পুলিশ ১৪৪ ধারা অবমাননার অজুহাতে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলীবর্ষণ করে। গুলীতে নিহত হন রফিক, সালাম, বরকত-সহ আরও অনেকে। শহীদদের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত হয়ে ওঠে। শোকাবহ এ ঘটনার অভিঘাতে সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। 

ক্রমবর্ধমান গণআন্দোলনের মুখে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার শেষ পর্যন্ত নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয় এবং ১৯৫৬ সালে সংবিধান পরিবর্তনের মাধ্যমে বাংলা ভাষাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি প্রদান করে। ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো বাংলা ভাষা আন্দোলন, মানুষের ভাষা এবং কৃষ্টির অধিকারের প্রতি সম্মান জানিয়ে ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে যা বৈশ্বিক পর্যায়ে সাংবার্ষিকভাবে পালিত হয়ে থাকে। 

ভাষা শহীদদের মহান আত্মত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত ফেব্রুয়ারি মাসের দ্বিতীয় দিন আজ বৃহস্পতিবার। ১৯৫২ সালের এই দিনে পূর্ব পাকিস্তানে চলছিলো বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা স্বীকৃতির দাবিতে আন্দোলনের দাবানল। ভাষা আন্দোলন আমাদের চিত্তজাগরণ ও আত্মজাগরণের রেনেসাঁ। আমাদের জাতীয় অস্তিত্বের উজ্জ্বল উচ্চারণ ও অভিজ্ঞান হলো- মহান ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ। অমর একুশে ফেব্রুয়ারির ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি গোটা দুনিয়ায় আমাদের মৌলিক পরিচয়কে আরো উচ্চকিত করেছে। বাঙালি জাতির জন্য এর চেয়ে বড় অহং ও গৌরবের বিষয় আর কী হতে পারে? 

ভারত বিভাগের আগেই পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত হলেও বিভক্তির পর তা নতুন মাত্রা পায়। একমাত্র উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার কোনো যুক্তি ছিলো না। পূর্ব বাংলায় অধিকাংশ জনগণ এবং বাংলা ভাষাভাষীদের বসবাস হওয়ায় এ দাবির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই। উর্দু পাকিস্তানের কোনো অংশেরই সার্বজনীন ভাষা ছিলো না। এটি শুধু পাঞ্জাবের লেখার ভাষা ছিলো। আর্থিক সুবিধাভোগী, সামাজিক ও রাজনৈতিক মর্যাদায় আসীন এই অভিজাত শ্রেণী যারা মুষ্টিমেয়, উর্দু যাদের লেখার ভাষা শুধু তাদের কারণে ‘উর্দু’কে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে মেনে নেয়নি বাংলার জনগণ। 

স্বাধীন ভারতে হিন্দী যে রাষ্ট্রভাষা হবে তা আগেই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কিন্তু পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা কি হবে সে সম্বন্ধে কোন সিদ্ধান্ত হওয়ার আগেই উচ্চ পদস্থ উর্দুভাষী আমলাদের বিশাল প্রভাবের কারণে গোপনে উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার চেষ্টা করা হয় এবং নতুন রাষ্ট্রের পোস্টকার্ড, এনভেলপ, মনি অর্ডার ফরমে ইংরেজীর পাশাপাশি শুধু উর্দু ভাষা ব্যবহার শুরু করা হয়। অথচ তখন পাকিস্তানের জনংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি ছিল বাংলা ভাষী। এই পটভূমিতেই ভাষা আন্দোলনের সূচনা হয়। 

ঐতিহাসিক দলিল-দস্তাবেজ ঘেঁটে জানা যায়, ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান অর্জিত হবার পর দেখা যায় মোট জনসংখ্যার শতকরা ৫৬ ভাগের আবাসভূমি পূর্ববঙ্গ এবং তাদের মাতৃভাষা বাংলা। এর বিপরীতে প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার দূরবর্তী পশ্চিম পাকিস্তান বহু ভাষাভাষীর এলাকা এবং শতকরা মাত্র ৫ জনের মাতৃভাষা উর্দু। এদিকে ১৯৪০ সালে লাহোর প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে আমাদের দেশের বুদ্ধিজীবী, রাজনীতিবিদরা ধারণা পোষণ করেছিলেন, পূর্ব বাংলা একটি স্বতন্ত্র ও স্বশাসিত রাষ্ট্র হবে। তাই নতুন রাষ্ট্রের চরিত্র এবং নিজস্ব মাতৃভাষা বাংলাকে নিয়ে ছিল চিন্তা-ভাবনা। ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাবের চেতনায় পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা পায়নি বলে স্বতন্ত্র বাংলা বা স্বশাসিত পূর্ব পাকিস্তানের স্বপ্ন ভেঙ্গে যায়। এ প্রেক্ষিতেই বাংলা ভাষা সমস্যার উদ্ভব হয়। ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার আগেই আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর ড. জিয়া উদ্দিন আহমদ প্রথম ভাষা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেন। তিনি ওই বছর জুলাই মাসে মন্তব্য করেন, উর্দুকেই পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে গ্রহণ করা উচিত। 

এ ধরনের বক্তব্যের প্রতিবাদে যিনি অগ্রসেনানীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হন তিনি জ্ঞানতাপস ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ। কলকাতা থেকে প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায় তিনি স্বনামে একটি নিবন্ধ লিখেন, যার শিরোনাম ‘পাকিস্তানের ভাষা সমস্যা।’ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ রাষ্ট্রীয় ভাষা হিসেবে বাংলার দাবিকে অগ্রগণ্য উল্লেখ করে বলেন, যদি এরপরও অন্য কোন ভাষাকে রাষ্ট্রীয় ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার প্রশ্ন আসে, শুধু তাহলেই উর্দুর কথা চিন্তা করা যেতে পারে। সে সময় তার এই দূরদর্শী ও সাহসী বক্তব্য এ দেশের শিক্ষিত ও বুদ্ধিজীবী মহলে দারুণ আলোড়ন সৃষ্টি করে। সত্যি বলতে কি, পূর্বাঞ্চলের আমাদের সহ¯্রাধিক বছরের বঙ্গীয় ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক ধারা তাহজীব-তমদ্দুনের দ্রুত রূপান্তর ঘটাতে হবে এমন মানসিকতাই কাজ করেছিল লেখক, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে। সে জন্যেই তারা উর্দুর বিরোধিতা করে আসছিল ইংরেজ আমল থেকেই। দীর্ঘদিনের চাপা ক্ষোভ ও প্রতিবাদ বিস্ফোরণোন্মুখ পরিণতিতে দাঁড়ায় ১৯৫২ সালে এই গৌরবোজ্জ্বল ফেব্রুয়ারি মাসে। যার সুফল অব্যাহতভাবে ভোগ করবে অনাগত বংশধর পর্যন্ত, যদি না কোনো অঘটন ঘটে। 

ইতিহাসের দায় শোধে আরো বলতে হয়, পাকিস্তান পূর্বকালে মুজিবুর রহমান খাঁ রচিত ‘পাকিস্তান’, হাবিবুল্লাহ বাহারের ‘পাকিস্তান’, তালেবুর রহমানের ‘পাকিস্তানের ক্রমবিকাশ’ ও ‘সর্বহারাদের পাকিস্তান’ শীর্ষক গ্রন্থসমূহে এবং ড. কাজী মোতাহার হোসেন, আবুল কালাম শামসুদ্দীন, আবুল মনসুর আহমেদ, রেনেসাঁর কবি ফররুখ আহমদ, আবদুল হক, মাহবুব জামাল জায়েদী প্রমুখের লেখায় রাষ্ট্রভাষা প্রসঙ্গটি স্পষ্টভাবে আলোচিত হয়েছে। ন্যাতানিয়েল ব্রাসি হলহেড নামের একজন বৃটিশ লেখক ‘হলহেডের ব্যাকরণ’ নামক গ্রন্থটিতে ফার্সির পরিবর্তে বাংলাকে বাঙালিদের দাফতরিক কাজকর্মের সুবিধার্থে রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাব করেন। এছাড়া ১৯২১ সালে ওয়াহাবী আন্দোলনের সময় সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী ও ১৯৪৬ সালে বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লীগের সম্পাদক আবুল হাশিম কর্তৃক কাউন্সিলের কাছে পেশকৃত খসড়া ইশতিহারে , ১৯৪৭ সালের ২৭ জুন ‘দৈনিক মিল্লাত’ সম্পাদকীয়তে আবুল মনসুর আহমেদ কর্তৃক পূর্ব পাকিস্তানে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাব দেয়া হয়। 

রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে ভাষা আন্দোলনে মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর অবদান অনস্বীকার্য। ১৯৪৮ সাল থেকে বিকশিত ভাষা আন্দোলনের প্রতিটি পর্যায়ে মওলানা ভাসানীর ছিল বলিষ্ঠ ও গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা। পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা নিয়ে বিতর্কের প্রাথমিক পর্যায়ে কেবল বিবৃতিতে বা জনসভার ভাষণে নয়, পূর্ব বাংলার প্রাদেশিক পার্লামেন্ট ‘ব্যবস্থাপক সভায়’ও তিনি বাংলা ব্যবহারের দাবিতে সোচ্চার থেকেছেন। যেমন প্রাদেশিক ১৯৪৮ সালের ১৭ মার্চ ব্যবস্থাপক সভার অধিবেশনে মওলানা ভাসানী ইংরেজির পরিবর্তে বাংলা ভাষা ব্যবহার করার দাবি জানিয়েছিলেন। বিষয়টি নিয়ে পার্লামেন্টের ভেতরে তিনি অবশ্য আর কথা বলার বা দাবি জানানোর সুযোগ পাননি। কারণ, স্বল্প সময়ের মধ্যে মুসলিম লীগ সরকার মিথ্যা অভিযোগে ব্যবস্থাপক সভায় তাঁর সদস্যপদ বাতিল করেছিল। 

প্রসঙ্গত, ভাষা আন্দোলনের সাথে জড়িত বাঙ্গালির জাতিসত্ত্বা, সংস্কৃতি ও স্বাধীনতা এবং রাজনৈতিক অধিকার। তাই দেখা যায়, এ আন্দোলনের চেতনা থেকেই সৃষ্টি হয় গণজোয়ার, শুরু হয় অন্যায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন ও প্রতিবাদ এবং এরই উত্তাপে চুয়ান্নের গণরায়। বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান এবং শেষ পর্যন্ত মহান মুক্তিযুদ্ধ ও আমাদের স্বাধীনতা। 

অন্যদিকে, বিশিষ্ট বামপন্থী লেখক বদরুদ্দীন উমর তার ‘ভাষা আন্দোলন ও অন্যান্য প্রসঙ্গ’ গ্রন্থে মন্তব্য করেন, “১৯৪৭ থেকে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের ভাষা-নীতির বিরুদ্ধে যে আন্দোলন পূর্ব বাংলায় হয়েছিলো, সেই আন্দোলনের ক্ষেত্রেও সামন্তবাদের স্বার্থে এই দিকটি সম্পর্কে চেতনা কিছুটা থাকলেও তা নগন্য দুই-চার জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিলো। জনগণের সে বিষয়ে কোন চেতনা ছিলো না এবং আন্দোলনের নেতারাও জনগণের মধ্যে সেই চেতনা সৃষ্টি করে আন্দোলনকে অন্তত কিছুটা সামন্তবিরোধী চরিত্র দেয়ার চেষ্টা পর্যন্ত করেননি। এই ব্যর্থতার ফলে ভাষা আন্দোলনে সামন্তবাদ বিরোধী একটা গণতান্ত্রিক চরিত্র থাকলেও পরবর্তীকালে সেই আন্দোলনের প্রভাব সরাসরিভাবে সামন্ত বিরোধিতার দিকে জনগণকে চালিত করতে পারেনি। উপরন্তু সংকীর্ণ এবং উগ্রপন্থী বাঙালি জাতীয়তাবাদের হাতে পড়ে সামন্তবাদ অনেকাংশে আড়াল করারই চেষ্টা করেছে, আন্দোলনের মূল লক্ষকে পশ্চিম পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এমনভাবে কেন্দ্রীভূত করতে চেষ্টা করেছে যাতে করে তার প্রকৃত গণতান্ত্রিক চরিত্র অনেক ক্ষেত্রে খর্ব হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ