সোমবার ২৬ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষা শুরু

 

স্টাফ রিপোর্টার : এসএসসি, দাখিল ও সমমানের অন্যান্য পরীক্ষা গতকাল বৃহস্পতিবার শুরু হয়েছে। পরীক্ষার প্রথম দিনে সারাদেশে ৯ হাজার ৭৪২ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। এছাড়া, সারাদেশের বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্রে বহিষ্কৃত হয়েছে ২৬ জন শিক্ষার্থী।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কন্ট্রোল রুম থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এবছর ১০টি শিক্ষা বোর্ডের তিন হাজার ৩৩৬টি কেন্দ্রে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ১৭ লাখ ৮৪ হাজার ২৭৫ জন পরীক্ষার্থী। পরীক্ষায় উপস্থিত ছিল ১৭ লাখ ৭৪ হাজার ৫৩৩ জন। অনুপস্থিত ছিল ৯ হাজার ৭৪২ জন এবং বহিষ্কার হয়েছে ২৬ জন পরীক্ষার্থী।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে দুই জন, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে ১৭ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ৭ জন শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়। 

আট সাধারণ বোর্ড, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১ থেকে ২৪ ফেব্রুয়ারি তত্ত্বীয় পরীক্ষা চলবে। ব্যবহারিক পরীক্ষা হবে ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ৪ মার্চ পর্যন্ত।

এবার ৮টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ১৬ লাখ ২৭ হাজার ৩৭৮ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ছাত্র ৭ লাখ ৯২ হাজার ৩৪৪ জন ও ছাত্রী ৮ লাখ ৩৫ হাজার ৩৪জন। 

মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে দুই লাখ ৮৯ হাজার ৭৫২ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ছাত্র ১ লাখ ৪৩ হাজার ৬৪৮ জন ও ছাত্রী ১ লাখ ৪৬ হাজার ১০৪ জন। 

কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে এক লাখ ১৪ হাজার ৭৬৯ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ছাত্র ৮৭ হাজার ২২০জন ও ছাত্রী ২৭ হাজার ৫৪৯জন। 

গতবছর এসএসসি ও সমামানের পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৭ লাখ ৮৬ হাজার ৬১৩ জন। সেই হিসাবে এবার পরীক্ষার্থী বেড়েছে দুই লাখ ৪৫ হাজার ২৮৬ জন।

প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ: এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রশ্নের সঙ্গে পরীক্ষায় সরবরাহ করা প্রশ্নের হুবহু মিল পাওয়ার অভিযোগ গণমাধ্যমে প্রকাশ হলেও শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রমাণ মিললে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানিয়েছে সংস্থা দুইটি।

গতকাল সকাল ১০টায় সারাদেশে একই প্রশ্নে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়। পরীক্ষা শুরুর প্রায় এক ঘণ্টা আগেই ফেসবুকে বহু নির্বচনী পরীক্ষার (এমসিকিউ) ‘খ’ সেট প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের এ অভিযোগ গণমাধ্যমকর্মীরা অবহিত করেন শিক্ষামন্ত্রী ও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের।

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি প্রশ্নপত্র মিলিয়ে দেখে সাংবাদিকদের জানান, মূল প্রশ্নপত্রের সঙ্গে এর কোনও মিল নেই। এরপর ফাঁস হওয়া অন্য একটি সেট মূল প্রশ্নপত্রের সঙ্গে মিলে গেছে জানিয়ে সেটি মিলিয়ে দেখার অনুরোধ করা হয় মন্ত্রীকে।

সকাল ১১টার দিকে শিক্ষামন্ত্রী সাংবাদিকদেরকে বলেন, ফেসবুকে ছড়ানো প্রশ্নের সঙ্গে পরীক্ষার প্রশ্নের মিল নেই। আমি মিলিয়ে দেখেছি। বিষয়টি মিথ্যা ও গুজব। তবে যে ব্যক্তি এই প্রশ্নটি পোস্ট করেছেন, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিটিআরসি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছি। তারা এরই মধ্যে এ বিষয়ে কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছে।

ফাঁসকারীদের ফেসবুক পেজের বিষয়টি অবহিত করা হয় মন্ত্রণালয়কেও। অতিরিক্ত সচিব চৌধুরী মুফাদ আহমেদ এ প্রসঙ্গে বলেন, গোয়েন্দা পুলিশকে ফেসবুকের লিংক পাঠিয়ে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বলা হয়েছে।

এদিকে পরীক্ষা শুরুর আগে গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাইস্কুলের পরীক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শনের পর শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ সাংবাদিকদের বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস হলে পরীক্ষা বাতিল করা হবে। প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়টি পরে প্রমাণ হলেও পরীক্ষা বাতিল করা হবে বলে জানান তিনি।

এর আগে, বাংলা প্রথম পত্রের ‘খ’ সেটের ফাঁস হওয়া প্রশ্নটি ফেসবুকে পাওয়া যায় সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে। প্রশ্নটি এরপর থেকে বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে ছড়াতে থাকে।

মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ