সোমবার ২৬ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের বিচার  চাওয়ার এখতিয়ার দুদকের নেই  --------------আইনজীবী

 

স্টাফ রিপোর্টার : জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার অন্যতম আসামী ট্রাফিক বিভাগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্নার পক্ষে তৃতীয় দিনের মতো যুক্তি উপস্থাপন শুরু করেছেন আইনজীবী আমিনুল ইসলাম। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর বকশিবাজারে সরকারি ঢাকা আলীয় মাদরাসা মাঠে স্থাপিতে অস্থায়ী বিশেষ আদালতে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে যুক্তি উপস্থাপন করা হয়। 

যুক্তিতে আইনজীবী বলেন, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টটি ব্যক্তিগত ট্রাস্ট। ব্যক্তিগত ট্রাস্টে কিভাবে দুদক মামলা করতে পারে। ট্রাস্টের বিচার চাওয়ার এখতিয়ার দুদকের নেই। এখতিয়ারের বাইরে এ মামলার বিচার চলছে।

তিনি আরও বলেন, ১৯৯৩ সালে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট গঠন হয়। ডা. বদরুদ্দৌজা চৌধুরি, মতিন চৌধুরি, মোস্তাফিজুর রহমানসহ সাত জনে মিলে এ ট্রাস্ট গঠন করেন। ফকিরাপুলে একটি ব্যাংকে একাউন্ট ছিল এ ট্রাস্টের নামে। এরপর বদরুদ্দৌজা চৌধুরি অন্য দল গঠন করেন। অনেকে মারা যান। যখন সাতজন ছিল না তখন আবার নতুন করে ট্রাস্ট গঠন করা হয়। ২০০৫ সালের ১৩ জানুয়ারি ফকিরাপুলের একটি ব্যাংকের একাউন্টে ট্রাস্টের নামে টাকা আসে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সোনালী ব্যাংকে যে একাউন্ট হয় তা এটার যোগসূত্র। ট্রাস্ট গঠন করার জন্য বিএনপির নেতাকর্মীরা টাকা দেন। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অভিযোগ করেনি যে ট্রাস্টের নামে আমাদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। 

যুক্তি উপস্থাপন শেষ না হওয়ায় পরবর্তী যুক্তি উপস্থাপনের জন্য আগামী ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী যু্ক্িত উপস্থানের জন্য দিন ধার্য করেন বিচারক ড. আক্তারুজ্জামান। 

এদিকে বকশীবাজারে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালত-৫ এ যাতায়াতের জন্য খালেদা জিয়া সাধারণত গুলশান থেকে হাইকোর্টের সামনের সড়ক দিয়ে আসা যাওয়া করেন। কিন্তু গতকাল সে পথটি পরিবর্তন করে দেয় আইনশৃঙ্খল রক্ষাকারী বাহিনী। আদালত থেকে ফেরার পথে বিএনপি চেয়ারপারসনের গাড়িবহরটি গুলিস্তানের ফুলবাড়িয়া হয়ে কাকরাইলের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়।

 মামলার হাজিরা দিতে গতকাল বেলা ১১টা ২৪ মিনিটে তিনি আদালতে পৌঁছান  বেগম খালেদা জিয়া। এরপর বেলা সাড়ে ১১টায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হয়। ১০টা ৫৫ মিনিটে গুলশানের বাসভবন ফিরোজা থেকে আদালতের উদ্দেশ্যে রওনা হন খালেদা জিয়া। 

 মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল আদালতকে বলেন, এসএসসি পরীক্ষা শুরু হয়েছে। চলাচলের সুবিধার জন্য সময়ের আবেদন করা হয়। আদালত তা মঞ্জুর করেন। এরপর খালেদা জিয়া কিছুক্ষণ আদালতে অবস্থান করে বাসার উদ্দেশ্যে রওয়ানা করেন। এসময় বিএনপির সিনিয়র নেতাদের মধ্যে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম চৌধুরী, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল উপস্থিত ছিলেন। 

খালেদা জিয়ার হাজিরা ঘিরে আদালত ও এর আশপাশের এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা নেওয়া হয়। বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। এ ছাড়া আদালতের প্রধান ফটকে স্ক্যানার বসিয়ে তল্লাশি করে ভেতরে  ঢোকানো হয়।

দিনভর বকশিবাজার মোড়, ঢাকা মেডিকেল মোড়, চানখারপুল, বঙ্গবাজার, গুলিস্তান মাজার, জিপিও এলাকায় পুলিশের সতর্ক পাহারা লক্ষ্য করা গেছে। বঙ্গবাজার মোড়ে উড়ালসড়কের নীচে দুইদিকের রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ করে দেয় পুলিশ। ফুলবাড়িয়া মোড়েও যানবাহন আটকে রাখে পুলিশ। খালেদা জিয়ার গাড়িবহর পল্টন মোড় পার হওয়ার পর এই সড়কের যানবাহন ছেড়ে দেয় পুলিশ।

বেলা আড়াইটার দিকে খালেদা জিয়ার গাড়িবহর বকশীবাজার থেকে চানখাঁরপুল হয়ে দ্রুতগতিতে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ পর্যন্ত চলে আসে। পরে পল্টনের জিরো পয়েন্টে পৌঁছালে বিএনপির নেতা কর্মীরা গাড়িবহর ঘিরে স্লোগান দিতে থাকে। পরে নেতা কর্মীসহ ধীরে ধীরে গাড়িবহরটি কাকরাইলের দিতে এগোতে দেখা যায়।

 সাধারণত পুরানো ঢাকার বকশীবাজারে স্থাপিত বিশেষ আদালতে হাজিরা দিয়ে অন্য দিনগুলোতে হাইকোর্টের সামনের রাস্তা দিয়ে গুলশানের বাসায় ফেরেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। কিন্তু বৃহস্পতিবার তার বাসায় ফেরার পথে ঘুরিয়ে দেয় পুলিশ। 

হাইকোর্টের সামনে দিয়ে বাসায় ফেরার অনুমতি থাকলেও গতকাল তাকে ফকিরাপুল, গুলিস্তান, গোলাপ শাহ মাজার, পল্টন ও মগবাজার রাস্তা ব্যবহার করতে দেওয়া হয়। এই রাস্তা দিয়ে খালেদা জিয়া বিকাল ৩টা ৩৫ মিনিটে গুলশানের বাস ভবন ফিরোজায় যান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ