মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট ২০২০
Online Edition

মুয়ায্যম হোসাইন হেলালকে জামায়াতের মেয়র প্রার্থী ঘোষণা

বরিশাল অফিস : স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতামতের আলোকে বরিশাল সিটি নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থীতা ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও বরিশাল মহানগর জামায়াতের আমীর, বিশিষ্ট আইনজীবী এ্যাডভোকেট মুয়ায্যম হোসাইন হেলাল বরিশাল সিটি নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হিসাবে দলীয় নেতাকর্মীদের মতামতে প্রার্থী হিসাবে মনোনীত হন। এরপরে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও বরিশাল অঞ্চল প্রতিনিধি অধ্যাপক ইজ্জত-উল্লাহ আমীরে জামায়াতের পক্ষে মনোনীতের নাম দলীয় ফোরামে ঘোষনা করেন। এর মাধ্যমে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের আগামী নির্বাচনে জামায়াতের পক্ষে একক প্রার্থী হিসাবে এ্যাড. হেলালের প্রতিদ্বন্ধীতার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে।

এব্যাপারে বরিশাল মহানগরী জামায়াতের নায়েবে আমির ও দলিয় প্রধান নির্বাচন সমম্বয়ক অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম খসরু বলেন, আমরা বরিশালে এককভাবে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এখানে দলের মেয়র প্রার্থী হিসেবে চুড়ান্ত হয়ে আছেন বরিশাল মহানগর জামায়াতের আমির জনননেতা অ্যাডভোকেট মুয়ায্যম হোসাইন হেলাল। নির্বাচন কমিশন থেকে দলীয়ভাবে আমাদের প্রার্থীতা গ্রহণ করা না হলে আমরা স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করবো। 

তিনি আরো জানান, নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে জামায়াতে ইসলামীর শক্তিশালী কমিটি রয়েছে। নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডের সভাপতি সম্পাদকসহ পুরুষ ও মহিলা নেতাকর্মীদের মতামত নিয়ে আমাদের প্রার্থী চুড়ান্ত করেছেন আমীরে জামায়াত। ইতিমধ্যে প্রাক নির্বাচনী কার্যক্রম অনেক আগেই শুরু করা হয়েছে, শুধু অপেক্ষা ছিল প্রার্থীর নাম ঘোষনার আনুষ্ঠানিকতা। আমীরে জামায়াতের পক্ষে তার প্রতিনিধি দলিয় মনোনয়ন ঘোষনা করেন। আমরা নির্বাচনের মাঠে গনতান্ত্রিকভাবে সকল সুযোগসুবিধা যাতে ভোগ করতে পারি তার জন্য প্রশাসনসহ সকলের সহযোগীতা কামনা করি। এসময় তিনি আরো জানান, জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মুয়ায্যম হোসাইন হেলাল বরিশাল ২০ দলীয় জোটের সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিগত ১০ বছরে রাজনৈতিক কারণে প্রায় ১৭টি মামলায় তাকে আসামি করা হয়েছে। পেশাদার আইনজীবী হিসেবেও তার সুনাম রয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে অধ্যক্ষ খসরু বলেন, ২০ দলিয় জোট যুগপতৎ আন্দোলন ও জাতীয় নির্বাচনের জন্য গঠিত হয়েছে। জোটের প্রত্যেকটি দলের নিজস্ব আইডেন্টেটি রয়েছে। স্থানীয় নির্বাচনে জোট বদ্ধ থাকার বাধ্যবাধকতা নেই, বিধায় জামায়াত তার দলিয় সিদ্ধান্তে মেয়র প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে। 

এদিকে বরিশাল সিটি করপোরেশনের চতুর্থ পরিষদের নির্বাচনে মেয়র পদে আরো কারা হচ্ছেন প্রার্থী তা নিয়ে জোরালোভাবে নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে নগর জুড়ে। ইতোমধ্যে প্রধান দুই দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা কৌশলে যে যার মতো করে কেন্দ্র থেকে শুরু করে মাঠ গোছাতে দলীয় নেতাকর্মী ও তৃণমূল পর্যায়ের ভোটারদের সাথে যোগাযোগ রেখে চলেছেন। জানা গেছে, সর্বশেষ নির্বাচনের তারিখ ধরা হলে এ বছরের জুন মাসের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে বরিশাল সিটি করপোরেশনের নির্বাচন। তফসিল ঘোষণা হতে পারে মার্চ কিংবা এপ্রিলে। সে হিসেবে নির্বাচনের আর ৫ মাসও বাকি নেই। আর সে কারণেই আগেভাগে মাঠে নেমেছেন মেয়র পদে নির্বাচন করতে আগ্রহী আওয়ামীলীগ ও বিএনপি ও জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের আলোকে এখানে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীতা চুড়ান্ত করা হয়েছে। 

অপরদিকে ৬৫ বর্গ কিলোমিটারের বরিশাল নগরজুড়ে চলছে নানা হিসেব-নিকেশ। সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি দলীয় মনোনয়ন প্রশ্নে অনেকটাই নির্ভাবনায় ছিলো আওয়ামীলীগ। বরিশাল জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ এমপি’র জ্যেষ্ঠপুত্র ও মহানগর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর নাম চূড়ান্ত করা হয়েছিলো। কিন্ত সেখানে এখন আলোচনায় আসছেন সাদিক আব্দুল্লাহর চাচা ও শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাতের কনিষ্ঠ পুত্র এবং আবুল হাসানাত আব্দুলাহর ছোটভাই আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাত। এছাড়াও সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রতিযোগিতায় আলোচনায় রয়েছেন কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামিম। 

এদিকে বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন প্রশ্নে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের পাশাপাশি বিএনপির সক্রিয়। তবে বরিশাল বিএনপির নীতি নির্ধারক হিসেবে সবসময়ই অগ্রণী ভূমিকায় থাকেন দলের যুগ্ম মহাসচিব ও সাবেক মেয়র অ্যাডভোকেট মোঃ মজিবর রহমান সরোয়ার। তিনি নিজে মনোনয়ন চাইলে অন্য কেউ এবার মনোনয়ন নাও পেতে পারেন। তবে তার ঘনিষ্ঠজনরা জানিয়েছেন, তিনি এবার মেয়র পদের চেয়ে এমপি পদে নির্বাচনের দিকেই বেশী আগ্রহী। 

অপরদিকে বর্তমান মেয়র বিএনপি নেতা আহসান হাবিব কামাল আবারও দলীয় মনোনয়ন চাইবেন। এছাড়াও মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে রয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট বিলকিস জাহান শিরিন,

দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি এবায়েদুল হক চাঁন, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু, মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জিয়াউদ্দিন সিকদার ও ছাত্রদল নেত্রী আফরোজা খানম নাসরিন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ