বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

শ্রীনগর সাব-রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে মাল্টিলেভেল মার্কেটিং কোম্পানির বির্তকিত জমি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার অভিযোগ

শ্রীনগর (মুন্সীগঞ্জ) সংবাদদাতা : মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে একটি মাল্টিলেভেল মার্কেটিং কোম্পানির বিতর্কিত জমি মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর সাব-রেজিস্ট্রার আ. খালেক রেজিস্ট্রি করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ইংরেজি ২০১৩ সালে মুন্সীগঞ্জ শ্রীনগর ঢাকা মাওয়া মহাসড়কের পাশে উমপাড়া নামক এলাকায় নিজস্ব জমির উপর তিন তলা ভবনে চটকদার অফিস স্থাপন করে ‘এম ওয়ে কর্পোরেশন ও হারবাল লিঃ কোম্পানি”নামের এ প্রতিষ্ঠানটি। নিরীহ মানুষকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে কোম্পানিটি স্থানীয় গ্রাহকদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। এর পর থেকে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকেরা তাদের টাকা ফেরত পাওয়ার আশায় ওই সম্পত্তি আটক করে। প্রায় বছর অতিবাহীত করে ঐ মাল্টি কোম্পানিটির কর্তা ব্যক্তিরা কোম্পানির জমিটি গোপনে বিক্রী করার জন্য স্থানীয় মানব অধিকার সংগঠনের কর্মি শফিকুল, আনোয়ারসহ কয়েক জনকে দায়িত্ব দেন। বির্তকিত জমির কর্মকর্তা ও মানবঅধিকার কার্মীরা কয়েক বার রেজিস্ট্রি করতে এসে গ্রাহকদের বাধার মুখে পরে ব্যর্থ হয়। গত মঙ্গলবার দুপুর ১২ টার দিকে  শ্রীনগর থানার এসআই নাজমুল অভিযোগটি তদন্তেরজন্য সাব রেজিস্ট্রারের খাস কামরাড়ায় উপস্থিত হলে তার সাথে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ১৫/২০ জন গ্রাহক সেখানে হাজির হন। এ সময় তারা সাব রেজিস্ট্রারকে রক্ষক হয়ে ভক্ষকের ভূমিকা পালন করেছেন বলে মন্তব্য করেন ও বাগবিতন্ডায় জড়িয়ে পরেন। সাব-রেজিস্ট্রার ঐ বির্তকিত জমি রেজেস্ট্রি করে দিবেনা বলে  ক্ষতিগ্রস্তদের আশ^স্ত করে। মিথ্যা আশ্বাষ দেওয়ার পরেও সাব-রেজিস্ট্রার গোপনে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বিতর্কিত জমিটি রেজিস্ট্রি করেছেন বলে ভুক্তভোগীরা  অভিযোগ করেন। ক্ষতিগ্রস্তরা জানান,। প্রায় ৩ মাস পূর্বে সাব রেজিষ্টার আ. খালেক শ্রীনগরে সাব রেজিস্ট্রার হিসাবে যোগদান করলে চক্রটি পুনরায় রেজিস্ট্রি করার জন্য তৎপর হয়েওঠে। গত ১৫ জানুয়ারি এম ওয়ে কর্পোরেশন ও হারবাল লিঃ কোম্পানি ওই সম্পত্তি অর্গানিক কনজ্যুমার প্রডাক্ট ও অর্গানিক কসমেটিকস এন্ড টয়লেট্রিজ কোম্পানিরকাছে বিক্রি করতে রেজিস্ট্রি করার জন্য সাব রেজিস্ট্রার অফিসে আসলে ক্ষতিগ্রস্তরা সাব রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে তা রেজিস্ট্রি না করার জন্য অনুরোধ করেন এবং এই সম্পত্তি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে বলে জানান। সাব রেজিস্ট্রার তাদের কথা দেন মামলা চলমান অবস্থায় কোন মতেই এই জমি রেজিস্ট্রি হবেনা। অপর দিকে ক্ষতিগ্রস্তরা একটি সূত্রে জানতে পারেন, গত সোমবার জমিটি রেজিস্ট্রি হওয়ার কথা রয়েছে। তারা সাব রেজিস্ট্রারের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি ছুটি নিয়ে ঢাকার বাসায় রয়েছেন বলে জানান। কিন্তু তিনি ঢাকায় বসে গোপনে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে হঠাৎ করে শ্রীনগর সাব- রেজিষ্ট্রার অফিসে এসে ওই সম্পত্তির দলিল সম্পাদন করে দিয়ে ফের ঢাকায় চলে যান। বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহক আঃ সাত্তার শ্রীনগর থানায় সাব রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এছারা এ ব্যপারে উপজেলার কাজলপুর গ্রামের হালিমা বেগম (৫০) বাদী হয়ে গত ২৭/০১/২০১৮ ইংরেজি তারিখে শ্রীনগর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক মাজাহারুল ইসলাম, আহাদুল ইসলাম, মাহমাদুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম কাজল এর বিরুদ্ধে শ্রীনগর থানায় একটি ডাইরি করেন। যাহার ডাইরি নং- ১০১০। অপর একটি সূত্র জানায়, আঃ খালেক শ্রীনগরে সাব- রেজিস্ট্রার হিসাবে যোগ দিয়েই বিভিন্ন হাউজিং কোম্পানির দালাল ও ভূমি দস্যুদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে। তার বিরুদ্ধে নানা রকম অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ দলিল সম্পাদনের অভিযোগ রয়েছে। বেশ কয়েক জন দলিল লেখক অভিযোগ করেন, দলিল সম্পাদনের জন্য খাজনা রশিদ, দলিলের শতকার হার, হেবা ঘোষণাসহ নানা রকম নিজস্ব খাত তৈরি করে অবৈধ ভাবে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন। তা ছাড়া তার দাবী পূরণ না হলে কোন দলিল রেজিস্ট্রি করেননা। এ ব্যাপারে সাব রেজিস্ট্রার আ. খালেক তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, দলিলটি সম্পাদনের জন্য চাপছিল। অভিযোগ তদন্তকারী কর্মকর্তা শ্রীনগর থানার এস আই নাজমুল জানান, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ