বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না -প্রধানমন্ত্রী

গতকাল বুধবার কাকরাইলে আন্তর্জাতিক সুপ্রিম অডিট ইনস্টিটিউটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

বাসস : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুর্নীতি এবং জনগণের অর্থ অপব্যবহারের বিরুদ্ধে তাঁর সরকারের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন, জনগণের অর্থের সাথে কোন অনিয়ম বা অসততা বরদাশত করা হবে না।
তিনি বলেন, ‘যে লক্ষ্য নিয়ে ৩০ লাখ মানুষ জীবন দিয়ে গেছে এবং জীবনের অধিকাংশ সময় আমার বাবা জেলে কাটিয়েছেন সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশকে সুখী ও সমৃদ্ধশালী দেশ গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। সেখানে দুর্নীতি বা টাকা পয়সা নিয়ে কোন রকম অনিয়ম আমরা কখনও বরদাশত করবো না।’
এক্ষেত্রে অডিটর এন্ড কম্পট্রোলার জেলারেলের কার্যালয়ে কর্মরর্তাদের দায়িত্ব অনেক বেশি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা আরো বেশী নজরদারি করবেন। সেটাই আমি চাচ্ছি।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল বুধবার সকালে রাজধানীর কাকরাইলের অডিট ভবনে আন্তর্জাতিক সুপ্রিম অডিট ইনস্টিটিউট (আইএসএআই)-এর নতুন ভবন উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন।
সরকারি অর্থের অপচয়, আত্মসাৎ, জালিয়াতি, চুরি, বিধিবহির্ভূত পরিশোধ, আয়কর ও ভ্যাট আদায় না করা, আইন, বিধি, নির্বাহী আদেশ পালন না করা, সরকারি নিয়মনীতি ও আর্থিক বিধি-বিধান অনুসরণ না করা, আদায়কৃত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা না করাসহ নানা অনিয়ম উদঘাটনে বাংলাদেশের কম্পট্রোলার এন্ড অডিটর জেনারেল-এর কার্যালয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
প্রধানমন্ত্রী জনগণের অর্থ সাশ্রয় এবং দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অডিট এন্ড একাউন্টস ডিপার্টমেন্টকে আরও দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সাথে কাজ করার আহবান জানিয়ে প্রয়োজনীয় লোকবল জোগান দেয়ার বিষয়টি তাঁর সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে বলে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, বর্তমানে সরকারের উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত অডিটের চলমান কার্যক্রমকে অভিষ্যতে সকলের অর্থনৈতিক কার্যক্রম এবং ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়ার প্রেক্ষিতে তৃণমূলে অর্থাৎ ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত করতে হবে।
অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের পরিধি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় অডিট বিভাগকে আরো শক্তিশালী ও যুগোপযোগী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। গতানুগতিক অডিটের বাইরে প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক অডিট, পারফরমেন্স অডিট, আইটি অডিট, পরিবেশ বিষয়ক অডিট পরিচালনায় দক্ষতা অর্জন করতে হবে, বলেন প্রধানমন্ত্রী।
অডিট কাজে খুব শিগগিরই অডিট মনিটরিং এন্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এএমএমএস) শুরু হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে এটি সকল মন্ত্রণালয়কে সংযুক্ত করবে এবং মানসম্পন্ন অডিট রিপোর্ট যথাসময়ে জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করবে।
তিনি বলেন, দেশে ইতোমধ্যে আইটি অডিট কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আইটি অডিট ডিরেক্টরেট নামে একটি স্বতন্ত্র ডিরেক্টরেট সৃষ্টির বিষয়টি ইতোমধ্যে পুনর্বিন্যাস প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা অনুমোদিত হলে আইটি অডিট ত্বরান্বিত হবে।
তিনি ডিজিটল পদ্ধতি গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তার বিষয়টিও নজরে রাখার আহবান জানিয়ে সাইবার অপরাধ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্ক থাকার নিন্দেশ দেন।
অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন। এছাড়া কম্পট্রোলার এন্ড অডিটর জেলারেল মাসুদ আহমেদ এবং অর্থ সচিব মুসলিম চৌধুরী অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।
ডেপুটি কম্পট্রোলার এন্ড অডিটর জেলারেল মো ইকবাল হোসেন দেশে জবাবদিহিতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কম্পট্রোলার এন্ড অডিটর জেলারেলের কার্যালয়ের কর্মকান্ড অনুষ্ঠানে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টশনের মাধ্যমে উপস্থাপন করেন।
২০১৮ সালের মার্চে ইউএনএসক্যাপ-এর ত্রিবার্ষিক পর্যালোচনা সভায় বাংলাদেশ এলডিসি হতে উত্তরণের (গ্রাজুয়েশন) যোগ্যতা অর্জন করবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এজন্য প্রয়োনীয় তিনটি সূচকের সবকয়টাতেই বাংলাদেশ এগিয়ে রয়েছে। কাজেই কেউ আমাদের আর দরিদ্র বা নি আয়ের দেশ বলতে পারবে না। এতে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের আত্মবিশ্বাসও বেড়েছে।
আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘জিডিপি’র ভিত্তিতে বর্তমানে বাংলাদেশ বিশ্বের ৪৪তম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ। আর ক্রয় ক্ষমতার ভিত্তিতে এর অবস্থান ৩২তম। ২০৩০ ও ২০৫০ সাল নাগাদ বাংলাদেশ জিডিপি ও ক্রয় ক্ষমতার ভিত্তিতে বিশ্বের যথাক্রমে ২৮ ও ২৩ তম অর্থনীতির দেশে পরিণত হবে। ইনশাল্লাহ আমরা তা অর্জন করতে পারবো।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ