শুক্রবার ০৭ আগস্ট ২০২০
Online Edition

সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বেড়েই চলেছে উত্তর প্রদেশে

২৯ জানুয়ারি, জিও নিউজ: ভারতের বিজেপি শাসিত উত্তর প্রদেশের কাসগঞ্জে আবারো সাম্প্রদায়িক অহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। রবিবার প্রদেশটির কাসগঞ্জে নাদরাই গেট এলাকায় দুর্বৃত্তরা কয়েকটি দোকানে আগুন ধরিয়ে দেয়। গোলযোগপূর্ণ এলাকায় ১৪৪ ধারা জারিসহ ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। দুর্বৃত্তদের উপরে নজরদারি চালাতে ড্রোনের সাহায্য নেয়া হয়েছে। জেলাপ্রশাসক আর পি সিং বলেছেন, কয়েকজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। ষড়যন্ত্র করেই এসব ঘটানো হচ্ছে। 

উত্তর প্রদেশ পুলিশের ডিজি’র দাবি, কাসগঞ্জের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। ছোটখাটো কয়েকটি অগ্নিসংযোগ যা ঘটেছে তা নির্জন এলাকায় ঘটেছে। ড্রোনের মাধ্যমে এসব এলাকায় নজরদারি চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, এ পর্যন্ত ৮০ জনেরও বেশি সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উভয় সম্প্রদায়ের মানুষজনকে একসঙ্গে বসিয়ে শান্তির আবেদন জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, কোথায় ত্রুটি হয়েছে, কে এসবের জন্য দায়ী এসব পরে বিবেচনা করা হবে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার দিকেই আমাদের নজর রয়েছে এবং তা প্রায় হয়েও এসেছে।

এদিকে, কাসগঞ্জের পুলিশ সুপার সুনীল সিং ওই ঘটনার নেপথ্যে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করেছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের দোকান খোলার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। পুলিশ এ ব্যাপারে ব্যবসায়ীদের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা দেবে বলে আশ্বাস দিয়েছে।

গত শুক্রবার উত্তর প্রদেশের কাসগঞ্জে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ও অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ কর্মীরা মথুরা-বেরেলি মহাসড়কে মোটর সাইকেলে করে ‘তিরঙ্গা যাত্রা’ বের করেছিলেন। এ সময় বাদু নগর এলাকায় উত্তেজক স্লোগান দেয়াকে কেন্দ্র করে আপত্তি ও বিবাদের জেরে হিন্দু ও মুসলিম দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সেখানে চরম উত্তেজনা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পরিস্থিতি মোকাবিলায় কারফিউ জারি করা হয়।

প্রশাসনিক অনুমতি ছাড়াই ‘তিরঙ্গা যাত্রা’ বের করা হয়েছিল বলে কাসগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাকেশ কুমার জানান।

এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে রবিবার পশ্চিমবঙ্গের গ্রন্থাগার ও জনশিক্ষা প্রসার দফতরের মন্ত্রী মাওলানা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী বলেন, প্রশাসন যদি সক্রিয় দায়িত্বপরায়ন হয় তাহলে গোলযোগ সৃষ্টি হতে পারে না। কিন্তু প্রশাসনে 'সরিষার মধ্যে ভূত' থাকলে গোলযোগ বন্ধ হয় না।

ওখানকার সরকার হয়তো বিষয়টি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে কিন্তু যে কঠোরতা, নিয়মশৃঙ্খলার প্রয়োজন সেই জায়গাটা তারা ফুটিয়ে তুলতে পারছেন না। দ্বিমুখী নীতি নেয়ার ফলে এই দুর্বলতা এসেছে। উত্তর প্রদেশ সরকার কঠোরতার পথ অবলম্বন করতে ব্যর্থ হওয়ায় সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে বলেও মাওলানা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী বলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ