শুক্রবার ১৪ আগস্ট ২০২০
Online Edition

রোহিঙ্গাদের জন্য এখনও নিরাপদ নয় মিয়ানমার- জাতিসংঘ

২৬ জানুয়ারি, এবিসি নিউজ : রোহিঙ্গাদের  ফিরে যাওয়ার জন্য মিয়ানমার এখনও নিরাপদ নয়; এক পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে জাতিসংঘ। এরইমধ্যে প্রত্যাবাসন শুরুর কথা থাকলেও প্রক্রিয়াগত সব জটিলতার কারণে তা পিছিয়ে গেছে। গত বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করা ইউনিসেফ এর উপ নির্বাহী পরিচালক জাস্টিন ফরসিথ বলেন, নিরাপত্তা শঙ্কায় বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের কেউই এখন ফিরে যাওযার আগ্রহ প্রকাশ করেনি। 

আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি তাদের ফিরিয়ে নেওয়ার জন্যও মিয়ানমারকে চাপ দিচ্ছিল বাংলাদেশসহ আন্তর্জাতিক বিশ্ব। গত ২৩ নভেম্বর বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের পদক্ষেপ বাস্তবায়নে সমঝোতায় পৌঁছান। ১৯ ডিসেম্বর যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হয়। ১৬ জানুয়ারি প্রত্যাবাসনের পদক্ষেপ বাস্তবায়নের রূপরেখা নিয়ে চুক্তি সই হয়। সেই চুক্তি অনুযায়ী দুই দেশের সীমান্তে অস্থায়ী ক্যাম্পে যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মঙ্গলবার প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে এখনও এ সংক্রান্ত সমস্ত প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা যায়নি। তাই প্রত্যাবাসন পিছিয়ে গেছে।

এবিসি নিউজের বৃহস্পতিবারের প্রতিবেদনে বলা হয়, অনেক রোহিঙ্গাই নিজেদের গ্রামে ফিরতে চাইলেও এখনি প্রস্তুত নয়। জাস্টিন ফরসিথ বলেন, ‘এখন ফিরে যাওয়ার জন্য নিরাপদ নয়। আমাদের মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে তারপর তাদের ফেরত পাঠাতে হবে।

গত বছরের ২৫ আগস্ট রাখাইনে সহিংসতার পর রোহিঙ্গাদের ওপর নিধনযজ্ঞ জোরালো করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। হত্যা ও ধর্ষণ থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে ছয় লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা। জাতিসংঘ এই ঘটনাকে জাতিগত নিধনযজ্ঞের ‘পাঠ্যপুস্তকীয় উদাহরণ’ বলে উল্লেখ করেছে। একে নিধনযজ্ঞ বলেছে যুক্তরাষ্ট্রও। অনেকদিন ধরে চলে আসা নিধনযজ্ঞ নজর কাড়তে শুরু করে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও বিশ্বসংস্থাগুলোতে। মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে থাকে বিশ্ব।এরপর রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে অং সান সু চি একটি আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্যানেল গঠন করেন।

 কথিত এই  প্যানেল থেকে পদত্যাগ করেছেন মার্কিন কূটনীতিক বিল রিচার্ডসন। তিনি অভিযোগ করেন, তিনি লোক দেখানো ওই প্যানেলের অংশ হতে চান না। এর মাঝেই আবার ইউনিসেফ নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলো। সংস্থাটির পক্ষে উপ নির্বাহী পরিচালক ফরসিথ বলেন, ‘আমি তার পদত্যাগের কারণ বিস্তারিত জানি না। তবে তার হতাশা বুঝতে পারি।’

২৩ জানুয়ারি মঙ্গলবার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে শেষ মুহূর্তে কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় তা পিছিয়ে যায়।  ফরসিথ মিয়ানমার কর্তৃপক্ষকে সহিংসতার শিকার এলাকাগুলোতে আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোর প্রবেশাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ