শুক্রবার ০৭ আগস্ট ২০২০
Online Edition

যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা ড্রোন হামলায় পাকিস্তানের প্রতিবাদ

জানুয়ারি ২৫,  সাউথ এশিয়ান মনিটর/পার্সটুডে : পাকিস্তানের কুররাম এজেন্সি এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলার নিন্দা জানিয়েছে পাকিস্তান। এ ধরনের ‘একতরফা পদক্ষেপের’ ব্যাপারে ওয়াশিংটনকে সতর্ক করে দিয়ে পাকিস্তান জানিয়েছে, ‘এ ধরনের হামলা সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে দুই দেশের সহযোগিতার মনোভাবের ক্ষতি করবে।’

কুররাম এজেন্সি এলাকায় ড্রোন হামলায় হাক্কানি নেটওয়ার্ক কমান্ডার এহসান ওরফে খাওয়ারি এবং তাদের দুই সহযোগী নিহত হয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে।ওরাকজাই এজেন্সি এলাকার রাজনৈতিক প্রশাসনের সূত্রগুলো বলছে, আফগান শরণার্থীরা বাস করতো এ রকম একটি বাড়িতে ড্রোন হামলা করা হয়। তবে স্থানীয়রা বলছেন, হাক্কানি নেটওয়ার্কের একটি গোপন আস্তানায় ড্রোন হামলা করা হয়েছে। স্টেশন হাউজ অফিসার থাল আমির জামান নিশ্চিত করেছেন যে, নাসির মেহমুদ ওরফে খাওয়ারি নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছে।পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দফতর থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলা হয়েছে, ‘রেজোল্যুট সাপোর্ট মিশন (আরএসএম) একটি আফগান শরণার্থী ক্যাম্পকে লক্ষ্য করে এ হামলা চালিয়েছে।’পররাষ্ট্র দফতর বলেছে, ‘পদক্ষেপ নেয়ার মতো গোয়েন্দা তথ্য থাকলে সেটা দেয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে বারবার বলে আসছি আমরা, যাতে আমাদের সীমানার মধ্যে আমাদের বাহিনীই সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে পারে।’বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘তাছাড়া আফগান শরণার্থীদের আরও তাড়াতাড়ি প্রত্যাবাসনের প্রতি জোর দিয়ে আসছে পাকিস্তান। কারণ তাদের মধ্যে লুকিয়ে থাকা সন্ত্রাসীদের জন্য সহজ হয়ে যায়।’কুররাম এজেন্সির পাক-আফগান সীমান্তের বাদশাহ কোট এলাকায় ১৭ জানুয়ারি বছরের প্রথম ড্রোন হামলায় এক ব্যক্তি মারাত্মকভাবে আহত হয়। ২০১৭ সালের ২৬ ডিসেম্বর ড্রোন হামলায় নিহত হয় দুজন। একটি গাড়িকে লক্ষ্য করে ওই হামলা চালানো হয়েছিল। কুররামের মাতা সাঙ্গার এলাকায় ওই হামলা চালানো হয়েছিল। গত বছর একই মাসে একই এলাকায় একটি বাড়ির কম্পাউন্ডে মার্কিন ড্রোন থেকে মিসাইল ছোড়া হয়েছিল। যদিও ওই হামলায় কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খাজা মুহাম্মাদ আসিফ বলেছেন, তার দেশের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্ক শুধুমাত্র আফগান ঘটনাবলীর আলোকে না দেখে বরং শিগগিরি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া উচিত।

তিনি আরো বলেছেন, দাভোসে অনুষ্ঠানরত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে বক্তৃতা দিতে যাচ্ছেন তাতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে ইসলামাবাদের সম্পর্ক উন্নত হওয়ার সম্ভাবনা কম। গতকাল সিএনবিসি-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে খাজা আসিফ এসব কথা বলেছেন।

তিনি বলেন, “খুব খোলাখুলি বললে বলতে হবে যে, গত এক বছর ধরে আমরা যা শুনে আসছি তাতে আমরা মোটেই ভীত নই। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যা বলবেন তাতে আমরা এমনটা আশা করি না যে, রাতারাতি বড় কোনো পরিবর্তন ঘটে যাবে।”

আগামীকাল ট্রাম্প দাভোসে পৌঁছাবেন এবং সেখান তিনি বক্তৃতা দেবেন। এ সম্পর্কে খাজা আসিফ বলে, “পাকিস্তান ও আমেরিকার পুরো সম্পর্ক আমাদের অঞ্চলের একটা সমস্যার ওপর নির্ভরশীল করে ফেলা ঠিক হবে না।” তিনি বলেন, আফগান ইস্যু বাদ রেখেই পাকিস্তান ও আমেরিকা তাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের প্রতি গুরুত্ব দিতে পারে।

পাকিস্তান ও আমেরিকার সম্পর্ক একবারে ঠিক করার মতো অবস্থায় নেই বলে মনে করেন কিনা -এমন এক প্রশ্নের জবাবে খাজা আসিফ বলেন, “আমার কোনো সন্দেহ নেই যে, এ সম্পর্ক আবার ঠিক করা যায়।”

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট কয়েক দফা টুইটার বার্তা ও আফগান নীতি ঘোষণার পর আমেরিকার সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্কে মারাত্মক টানাপড়েন দেখা দিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে- সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে সহযোগিতা না করার অভিযোগ এনে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারেন ট্রাম্প।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ