বৃহস্পতিবার ২৬ নবেম্বর ২০২০
Online Edition

পূর্ব জেরুসালেমকে ফিলিস্তিনের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন

ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতাদের সঙ্গে মাহমুদ আব্বাস

২৩ জানুয়ারি, আলজাজিরা : পূর্ব জেরুসালেমকে ফিলিস্তিনের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে ইইউ জোটের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান ফেডেরিকা মোগেরিনি এ সমর্থন ব্যক্ত করেন। বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে স্থানীয় সময় গত সোমবার মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে নাকচ করেন। 

ইতোপূর্বে পূর্ব জেরুসালেমকে রাজধানী করে ফিলিস্তিনকে দ্রুত স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। সোমবার বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে ২৮ দেশীয় জোট ইইউ’র পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে এক বৈঠকে আব্বাস এ অনুরোধ জানান। পরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, স্বীকৃতির ব্যাপারে এখনও সিদ্ধান্ত নেয়নি ইইউ, এর জন্য আরেকটি বৈঠক হবে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম খবরটি জানিয়েছে।

গত বছরের ৬ ডিসেম্বর জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃতির সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইসরাইলের মার্কিন দূতাবাস তেল আবিব থেকে সরিয়ে জেরুজালেমে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতির কথাও জানান তিনি। এরপর বিশ্বজুড়ে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে নিন্দার ঝড় ওঠে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে একটি প্রস্তাবও পাস হয়েছে। ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করতে এবং পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতির জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন আদায়ে জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ।  এরই অংশ হিসেবে মঙ্গলবার বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে ইইউ’র পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করেন মাহমুদ আব্বাস।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন জোটকে ‘সত্যিকারের অংশীদার ও বন্ধু’ ঘোষণা করেন ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট। মধ্যপ্রাচ্যে ‘রাজনৈতিক’ প্রচেষ্টা জোরদারের জন্য ইইউকে আহ্বান জানান তিনি। আব্বাস ইইউ’র সদস্যদের আশ্বস্ত করেন, ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়া হলে ইসরায়েলের সঙ্গে দেশটির ‘নতুন করে শান্তি আলোচনা শুরু’ করার ক্ষেত্রে কোনও প্রভাব পড়বে না; বরং এ স্বীকৃতি ফিলিস্তিনী জনগণকে ‘উৎসাহিত ও শান্তি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী’ করে তুলবে।

পরে ইইউ’র সঙ্গে বৈঠক নিয়ে সাংবাদিকদের আব্বাস বলেন, ‘জেরুজালেম ইস্যুতে ইউরোপীয়রা আমাদের সঙ্গে একমত হয়েছে। তারা এটি বুঝতে পেরেছে কিন্তু স্বীকৃতির ব্যাপারে এখনও তারা সিদ্ধান্ত নেয়নি। এর জন্য আরেকটা বৈঠক প্রয়োজন হবে।’

আব্বাসের সঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে ইসরাইল-ফিলিস্তিন দ্বিরাষ্ট্র সমাধানে ইইউ’র সমর্থন পুনচ্চারিত করেন জোটটির পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রধান ফ্রেডেরিকা মোঘেরিনি। এর আগে ট্রাম্পের জেরুজালেম সংক্রান্ত স্বীকৃতির পর পরই ইইউ’র সমর্থন চেয়ে প্রত্যাখ্যাত হয়েছিলেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। গত ডিসেম্বরে ফ্রেডেরিকা মোঘেরিনির সঙ্গে বৈঠকে নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি সব কিংবা বেশিরভাগ ইউরোপীয় দেশ জেরুসালেমে তাদের রাজধানী সরিয়ে নেবে, জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেবে এবং নিরাপত্তা,সমৃদ্ধি ও শান্তির জন্য আমাদের সঙ্গে দৃঢ়ভাবে যুক্ত থাকবে।’ নেতানিয়াহুর সেই আহ্বানে সাড়া না দিয়ে মোঘেরিনি বলেছিলেন, জেরুজালেম ইস্যুতে ‘আন্তর্জাতিক ঐকমত্যকে’ই স্বীকৃতি দিয়ে যাবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। তিনি বলেন,‘আমরা বিশ্বাস করি দ্বি রাষ্ট্র নীতির ভিত্তিতে জেরুজালেমকে দুই দেশের রাজধানী করাই ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের সংঘাত নিরসনের ক্ষেত্রে একমাত্র বাস্তব সমাধান।’ 

উল্লেখ্য, ১৯৬৭ সালে আরব-ইসরাইেল যুদ্ধে ইসরায়েল ফিলিস্তিনসহ অন্যান্য আরব রাষ্ট্রের একটা বড় অংশ দখল করে নেয়। পরে আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুযায়ী ইসরাইলের সীমানা নির্ধারণ করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। তবে এই দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান আজ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি। ফিলিস্তিনিরা চায় পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করা হোক। আর ইসরাইলের দাবি, জেরুজালেম অবিভাজ্য। ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংকট প্রশ্নে দীর্ঘদিন ধরেই স্বতন্ত্র দুইটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার নীতির পক্ষে সমর্থন জানিয়েছিল আসছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে সেই নীতি থেকে সরে এসে ২০১৭ সালের ৬ ডিসেম্বর জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে মার্কিন স্বীকৃতির সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ