শুক্রবার ২৩ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

জ্বালানি নিরাপত্তা ও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্ন

আখতার হামিদ খান : [দুই] উৎপাদন অংশীদারিত্ব চুক্তি বা পিএসসির মাধ্যমে বহুজাতিক কম্পানির মাধ্যমে গ্যাস উত্তোলনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে আপত্তিকর বিষয়টি হলো, গ্যাসের মালিকানা বিদেশিদের হাতে চলে যাওয়া এবং উত্তোলনের বাড়তি খরচ। এর ফলে নিজেদের গ্যাস আমাদেরকে বিদেশি কম্পানির কাছ থেকে ১০-১৫ গুণ বেশি দামে বৈদেশিক মুদ্রায় কিনে নিতে হয়। আগের পিএসসিগুলোতে আমরা দেখেছি এবং মডেল পিএসসি ২০০৮ অনুযায়ী করা মডেল পিএসসি ২০১১ তেও আমরা দেখব, গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের জন্য বিদেশি, কম্পানির হাতে যাচ্ছে রিকভারির নামে তারা হাতিয়ে নিচ্ছে বছর বছর হাজার হাজার কোটি টাকা। দেশীয় কম্পানি বাপেক্স প্ল্যান্ট. সব মিলিয়ে গড়ে ৪০০ কোটি টাাক খরচ করে গড়ে ২৪৫ বিসিএফ গ্যাস উত্তোলন করে, যার আন্তর্জাতিক বাজার মূল্য ২০ হাজার ৪১ কোটি টাকা। অথচ বহুজাতিক কম্পানির সঙ্গে পিএসসি চুক্তির ফলে গড়ে তাদের কাছ থেকে ২৪৫ বিসিএফ গ্রাস পেতে হলে পিএসসি অনুসারে প্রতি টন তেলের দাম সর্বোচ্চ ১৪০ ডলার, অর্থাৎ প্রতি হাজার ঘনফুট গ্যাসের মূল্য ৪৬২৫.৬ কোটি টাকা। আর বর্তমানে ১৪০ ডলারের বদলে ৩৪ দশমিক ৩৮ ডলার বা ২৩৬ টাকা ধরলে খরচ করতে হয় ৪৬২৫.৬ কোটি টাকা। বিদেশি বিনিয়োগের নামে আমাদের জাতীয় সম্পদ বহুজাতিক করপোরেশনের হাতে তুলে দেওয়ার যুক্তি হিসেবে সব সময়ই যে দুটি বিষয়ের কথা বলা হয়, তা হলো-পুঁজি ও দক্ষতার অভাব। স্থল ভাগ কিংবা সাগরের গ্যাস ব্লক ইজারা কিংবা উম্মুক্ত পদ্ধতিতে বহুজাতিক কম্পানি কর্তৃক ফুলবাড়ী বড়পুকুরিয়ার কয়লা উত্তোলনের তৎপরতা ইত্যাদি সর্বক্ষেত্রেই এ দুটি অজুহাত দেখানো হয়। মডেল পিএসসি ২০০৮ এর মাধ্যমে সাগরের তিনটি গ্যাস ব্লকের ৮০ শতাংশ মালিকানা এবং রপ্তানির সুযোগ কনোকো-ফিলিপস ও টাল্লোর হাতে তুলে দেওয়ার তৎপরতার ক্ষেত্রেও একই কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু প্রশ্ন হলো, স্থলভাগে গ্যাস অনুসন্ধান এবং উত্তোলনে বাপেক্সের দক্ষতা ও যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও এবং এ কাজে বহুজাতিকের তুলনায় খুব স্বল্প পুঁজির প্রয়োজন হলেও কেন এখন মডেল পিএসসি ২০১১ এর মাধ্যমে স্থলভাগ এবং অল্প গভীর ৩১টি ব্লকের গ্যাস বহুজাতিক কম্পানির হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে? অর্থের অভাব : একটি খোঁড়া যুক্তি : গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের জন্য বাপেক্সকে ৪০০ কোটি টাকা দেওয়ার সময় পুঁজির অভাব হয়, কিন্তু একই পরিমাণ গ্যাস বিদেশি কম্পানির কাছ থেকে চার-পাঁচ হাজার কোটি টাকায় কিনে নেওয়ার সময় পুঁজির অভাব হয় না। আর দক্ষতা বা সক্ষমতা? স্থলভাগে গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের এমন কোনো কাজ নেই, যা বাপেক্স দক্ষতার সঙ্গে স্বল্প খরচে সম্পন্ন করতে পারে না। ২ডি এবং ৩ডি সিসমিক সার্ভে থেকে শুরু করে গ্যাস অনুসন্ধান, কূপ খনন এবং গ্যাস উত্তোলনের সব কাজ বাপেক্স সফলভাবে শুধু নিজ ব্লকগুলোতেই করছে না, এমনকি বিদেশি কম্পানিগুলোকেও সাব-কন্ট্রাক্টর হিসেবে এ কাজগুলো করে দিয়েছে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, বাপেক্স ফেনী-২-এ নাইকোর একটি অনুসন্ধান কূপ খনন করে দেয়, টাল্লোর হয়ে লালমাই ও বাঙ্গোরায় সিসমিক সার্ভের কাজ করে, চাঁদপুরে একটি কন্ট্রোল পয়েন্ট স্থাপন করে দেয় এবং বাঙ্গোরায় টাল্লোর একটি কুপও খনন করে দেয়। তা ছাড়া বাপেক্সের সাফল্যের হারও বিদেশি কম্পানির তুলনায় বেশি: বিদেশি কম্পানিগুলো যেখানে প্রতি তিনটি কূপ খননে একটি সাফল্য পেয়েছে, বাপেক্স সেখানে প্রতি ১.৩৩টি কূপ খননে একটি সাফল্য পেয়েছে এবং এই সাফল্য অর্জনের ক্ষেত্রে অক্সিডেন্টাল ও নাইকোর মতো ‘উন্নত প্রযুক্তি’ ওয়ালা কম্পানিগুলোর মতো মাগুরছড়া ও টেংরাটিলার ধাঁচে পরিবেশ ও সম্পদ বিনাশী দুর্ঘটনা একটিও ঘটায়নি!’ তার পুঁজির অভাব বলা হয়ে থাকলে বাস্তবে অফশোর ড্রিলিং করতে কত টাকা লাগে, তা কখনোই প্রকাশ্যে আনা হয়নি। ওয়েবসাইট সূত্রে জানা গেছে, মিয়ানমারের ময়াত্তামা অফশোর ড্রিলিংয়ের জন্য ব্যয় হয়েছে ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার এবং তানিন থারিই অফশোর ড্রিলিংয়ের জন্য ব্যয়ের পরিমাণ প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ডলার। গড়ে যদি এক বিলিয়ন ডলার করে ধরা হয়, তাহলে বাংলাদেশের টাকায় ব্যয় হলো প্রায় ৭০০০ কোটি টাকা। জ্বালানি সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এই টাকাটা একবারে লাগবে না। গ্যাস আবিষ্কার ও উত্তোলনের জন্য সাত বছর সময় লাগলে প্রতিবছর লাগবে এক হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশ প্রতিবছর বিদেশি কম্পানির কাছ থেকে গ্যাস কেনার জন্য এবং বিদ্যুৎ কম্পানির কাছ থেকে অতি উচ্চ মূল্যের বিদ্যুৎ কেনার জন্য ভুর্তৃকি দেয় চার হাজার কোটি টাকার মতো। ট্যাক্স, ভ্যাট, লভ্যাংশ-সবকিছু মিলিয়ে প্রতিবছর পেট্টোবাংলা এবং তার অঙ্গ সংস্থাগুলো সরকারকে গড়ে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা দেয়। তাহলে বাংলাদেশের অর্থের অভাব নেই। যা আছে, তা হলো বিদেশি বহুজাতিক কম্পানির প্রতি প্রেম। বাংলাদেশের নিরাপত্তা কে রক্ষা করবে : বাংলাদেশের জ্বালানি সংকটকে পুঁজি করে বিদেশি বহুজাতিক কম্পানির হাতে একের পর এক ব্লক ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। তবে এই ব্লক ছেড়ে দেওয়াই শুধু যথেষ্ট নয়, এর সঙ্গে বাংলাদেশের জাতীয় সার্বভৌমত্বও শুধু যথেষ্ট নয়, এর সঙ্গে বাংলাদেশের জাতীয় সার্বভৌমত্বও জড়িত। এ ব্যাপারে সরকারি দলের দিকনির্দেশনা যেমন নেই, তেমনি বিরোধী দলের অবস্থান যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মতো প্রভাবশালী রাষ্ট্রের আধিপত্য যখন বাংলাদেশের ওপর আসে, তখন বিদেশির পক্ষাবলম্বনের ব্যাপারে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে অলিখিত ঐক্য দেখা যায়। বঙ্গোপসাগর দখলের ব্যাপারে ভারত, চীন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্্েরর নানা রকম স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যান রয়েছে। কিন্তু স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার ব্যাপারে বাংলাদেশের কোনো স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যান দৃশ্যমান নয়। বঙ্গোপসাগর ও এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভারতের আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে ২০১০ সালের ৪ থেকে ৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ‘মিলান-২০১০’ সম্মেলন। এই সম্মেলনের প্রধান এজেন্ডা ছিল বঙ্গোপসাগর ও এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের রাষ্ট্রগুলোর একটি অভিন্ন স্বার্থে ঐকমত্যে পৌঁছানো। সম্মেলনে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ‘কপোতাক্ষ’ জাহাজ নিয়ে অংশগ্রহণ করে। সম্মেলন শুরু হয় আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের পোর্ট ব্লেয়ারে। সম্মেলনের উদ্বোধন করেন ভারতের নৌবাহিনী প্রধান নির্মল ভার্মা। এবারকার সম্মেলনের প্রধান বিষয় ছিল পূর্বমুখী নীতি কার্যকর করা। আন্দামান ও নিকোবরসহ প্রায় ৫৭২টি দ্বীপ অঞ্চল রয়েছে বঙ্গোপসাগরে ভারতের নিয়ন্ত্রণে। ওই দ্বীপগুলোতে ভারত সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করছে। মিলান-২০১০ সম্মেলনে ভারতের নৌবাহিনী প্রধান নির্মল ভার্মা উপস্থিত দেশের প্রতিনিধিদের জানিয়েছেন ভারত আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে আরো বিমানঘাঁটি করতে যাচ্ছে। আন্দামান ও নিকোবরের উত্তরে এই বিমানঘাঁটিগুলো তৈরি করা হবে। ভারতের গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, বেশ কয়েকটি ছোট ছোট বিমানঘাঁটিকে আরো শক্তিশালী করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করেছে ভারত। আন্দামান ও নিকোবরের শিবপুরে হেলিপ্যাডের কার্যকর ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করার জন্য তৈরি করা হচ্ছে। পোর্ট ব্লেয়ার, ক্যাম্বেল বে ও কার নিকোবরে আন্দামান ও নিকোবরে ভারতের তিনটি বিমানঘাঁটি রয়েছে। ভারতের ঊর্ধ্বতন নৌ-কর্মকর্তা ওই সম্মেলনে জানিয়েছেন, দ্রুতই এ অঞ্চল আরো বেশ কিছু বিমানঘাঁটি তৈরি করতে যাচ্ছেন তাঁরা। যার মধ্যে কাটচল ও হার্টবের মতো গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক স্থান রয়েছে। ভারতের নৌপ্রধান জানিয়েছেন, রাতে এখানে বিমান অবতরণ করতে পারে এমন সুযোগ নিয়ে তৈরি করা হবে বিমানঘাটিগুলো। শুধু আকাশপথেই নয়, নৌপথেও ভারত তার আধিপত্য বজায় রাখতে চায়। আর এ কারণে প্যাট্রোল জাহাজের সংখ্যা বাড়াতে চায়। চীনের তৎপরতা : বঙ্গোপসাগরে ভারতের প্রভাব বিস্তারে বসে নেই চীন। চীন শ্রীলঙ্কা ও মিয়ানমারে বেশ কয়েকটি নৌবন্দরের মাধ্যমে দেশটির প্রভাব বিস্তার অক্ষুন্ন রেখেছে। চীনের প্রভাব বিস্তারের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, যা এই মহাদেশে শক্তির ভারসাম্য বিশেষ ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। নব্বই শতক থেকে চীনের সঙ্গে শ্রীলঙ্কার সামরিক সখ্য বেড়েছে; কিন্তু ২০০৭ সাল থেকে বিষয়টি আরো বেশি মাত্রায় এগিয়েছে, যখন শ্রীলঙ্কা চীনকে বন্দর করার অনুমতি দিয়েছে। মূলত চীন শ্রীলঙ্কার উত্তরে আর ভারতের দক্ষিণে হামবানতোতা বন্দর তৈরির আনুষ্ঠানিক যাত্রার মধ্য দিয়েই ভারতের নাকের ডগায় চায়নিজ নৌ-শ্রেষ্ঠত্ব জারি রাখল। চীন শুধু শ্রীলঙ্কায় বন্দর তৈরির মধ্যে ভারতীয় মহাসাগরে নিজেদের অস্তিত্ব ঘোষণা দেয়নি, দেশটি ভারত নিয়ন্ত্রিত আন্দাযান নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের নিকটবর্তী নিময়ানমারের সমুদ্র অঞ্চল কোকো দ্বীপে বন্দর তৈরি করে বঙ্গোপসাগরেও ভারতীয় আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। কোকো দ্বীপের পাশাপাশি মিয়ানমারের কিয়াক ফিয়াওয়ে চীন বন্দর তৈরি করছে। চীনের যুক্তি ও এ বন্দর দিয়ে আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে চীনের কুওমিং ও ইউনানে জ্বালানি পৌঁছে যাওয়া সহজ হবে। তবে সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জ্বালানি পরিবহনের পাশাপাশি চীন ভারতীয় উপস্থিতিকেই বরং চ্যালেঞ্জ করে বসেছে। বঙ্গোপসাগরে মিয়ানমার ও ভারতের সম্প্রসারণ নেপথ্যে জ্বালানি : চীন মিয়ানমারের অলিখিত মিত্র শক্তি হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশের সঙ্গে চীন তার সামরিক-রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে মিয়ানমারে দীর্ঘদিন সামরিক সরকার ক্ষমতায়। মিয়ানমারের সামরিক সরকারকে চীন নগ্নভাবে সমর্থন দিয়ে আসছে তার আঞ্চলিক রাজনীতির স্বার্থে। বাংলাদেশের সেন্ট মার্টিনস দ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিম সাগরে মিয়ানমার থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত কোরিয়ান কম্পানি রিগ স্থাপন করলে বাংলাদেশের সঙ্গে মিয়ানমারের সম্পর্ক নাজুক হয়ে পড়ে। শুধু মিয়ানমার নয়, ভারতও ১১ মে, ২০০৯ জাতিসংঘের কাছে দাবি পেশ করেছে, যেখানে বাংলাদেশের বিশাল সমুদ্র এলাকা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ভারত ও মিয়ানমার বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের সমুদ্র অঞ্চল দখলের ব্যাপারে কেন মরিয়া হয়ে উঠেছে? বিষয়টি কি শুধু ভূ-রাজনৈতিক কৌশলগত, নাকি অর্থনৈতিক? বিশ্লেষকরা মনে করেন, ২০০৮ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রণীত বিতর্কিত পিএসসি মডেল ২০০৮ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ার কারণে মিয়ানমার-ভারত যৌথভাবেই বাংলাদেশের বিরুদ্ধে একটা যুদ্ধ যুদ্ধ সাজ নিয়েছিল সে সময়। বাংলাদেশ তার সমুদ্র সীমানা নির্দিষ্ট না করে গ্যাস ব্লক ইজারা দেওয়ার কারণে মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কে একটি উত্তেজনার সৃষ্টি করে। এরই মধ্যে বাংলাদেশ সমুদ্র এলাকায় যে ২৮টি ব্লক ইজারা দেওয়ার জন্য নির্ধারণ করেছে তার ১৪টিতে মিয়ানমার এবং ৯টিতে ভারত তাদের দাবি উপস্থাপন করেছে। বিশেষজ্ঞরা ধারণা করেছেন, বঙ্গোপসাগরের নিচে পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ জ্বালানির মজুদ রয়েছে, যা আগামী দিনের জ্বালানি রাজনীতি ও অর্থনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এ কারণে এ অঞ্চলটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। যদিও ভারতের সঙ্গে মার্কিনিদের বন্ধুত্বপুর্ণ সম্পর্ক রয়েছে; আবার একই সঙ্গে সুনির্দিষ্ট ইস্যুতে ভারতের সঙ্গে মার্কিনিদের দ্বন্দ্বও বিরাজমান। যেমন বঙ্গোপসাগরে কোনো মার্কিন সামরিক উপস্থিতি দিল্লি কোনোভাবেই ভালোভাবে নেয় না, অন্তত বিগত দিনগুলোর বিবেচনায় তা স্পষ্ট। একটি পুরনো কথা এ বঙ্গে প্রচলিত আছে তা হলো- রাজনীতিবিদরা যখন ঘুমায় জনগণ তখন দেশ পাহারা দেয়। দেশের রাজনীতিবিদরা যদি ঘুমিয়েই থাকেন, দেশের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তখন জনগণকেই দেশ পাহারার ভূমিকায় নামতে হবে। এ দেশের জনগণ যুগে যুগে তা প্রমাণও করেছে। সেই বীর জনগণের প্রতিই এখন ভরসা। [সমাপ্ত]

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ