শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় চলছে ভারপ্রাপ্ত দিয়ে

রংপুর অফিস : রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) বিভিন্ন গুরুপূর্ণ প্রসাসনিক পদে শিক্ষকদের চলতি কিংবা ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। পদগুলোর পূর্ণ দায়িত্ব না পাওয়ায় সুষ্ঠুভাবে কাজ করতে পারছেন না দায়িত্বপ্রাপ্তরা। এতে প্রশাসনিক কার্যক্রমে নেমে এসেছে স্থবিরতা ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, তিন হলের প্রভোস্ট, ছাত্র উপদেষ্টা, বহিরাঙ্গন পরিচালক, সেন্ট্রাল লাইব্রেরী এ্যান্ড ইনফরমেশন সেন্টারের গ্রন্থাগারিক, জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক ও সহকারী প্রশাসক, সাইবার সেন্টারের পরিচালক ও ক্যাফেটেরিয়ার পরিচালক পদে ১২ শিক্ষককে চলতি দায়িত্বের ভার প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রক্টর পদে সিএসই বিভাগের সহযোগি অধ্যাপক ডক্টর আবু কালাম মোহাম্মদ ফরিদ উল ইসলাম, শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হলের প্রভোস্ট হিসেবে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ডক্টর সরিফা সালোয়া ডিনা, বঙ্গবন্ধু হলের প্রভোস্ট হিসেবে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তাবিউর রহমান প্রধান, শহীদ মুখতার ইলাহী হলের প্রভোস্ট হিসেবে মার্কেটিং বিভাগের সহযোগি অধ্যাপক ফেরদৌস রহমান, ছাত্র উপদেষ্টা হিসেবে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডক্টর মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, বহিরাঙ্গনের পরিচালক হিসেবে ম্যানেজমেন্ট স্ট্যাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রাফিউল আজম, সেন্ট্রাল লাইব্রেরী এ্যান্ড ইনফরমেশন সেন্টারের গ্রন্থাগারিক হিসেবে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ডক্টর পরিমল চন্দ্র বর্মণ, জনসংযোগ বিভাগের প্রশাসক হিসেবে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ডক্টর সরিফা সালোযা ডিনা, সহকারী প্রশাসক হিসেবে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তাবিউর রহমান প্রধান ও ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আসিফ আল মুতিন, সাইবার সেন্টারের পরিচালক হিসেবে সিএসই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ সামসুজ্জামান এবং ক্যাফেটেয়িার পরিচালক হিসেবে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগি অধ্যাপক গাজী মাজহারুল আনেয়ার চলতি দায়িত্ব বা ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।
প্রাপ্ত সূত্রে আরও জানা গেছে, প্রফেসর ডক্টর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি হিসেবে যোগদানের পর বিভিন্ন সময়ে এ পদগুলোতে নিয়োগ প্রদান করেছেন । তার নিকট যে সব পদেও দায়িত্ব রয়েছেন সেসব ছাড়া অন্য প্রত্যেকটি পদে নিয়োগ প্রাপ্তদের চলতি দায়িত্ব প্রদান করাহয়েছে।
এদিকে চলতি দায়িত্বের কারণে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকগণ সঠিকভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুকভুক্ত ভোগি শিক্ষকবৃন্দ জানিয়েছেন। । তিনি বলেন, দায়িত্বরত থাকলেও শিক্ষকগণ নিজ দপ্তরের বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। সব সিদ্ধান্ত আসে উপাচার্যের পক্ষ থেকে। দায়িত্বরতরা শুধু উপাচার্যের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেন মাত্র। আর বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের ধারাবাহিক অনুপস্থিতির কারণে ঝুলে পরেছে এসব দপ্তর। প্রশাসনিক কাজে এখন স্লোথ গতি বিরাজ করছে। সামান্য ছোট খাট বিষয়ে উপাচার্যের দিকে চেয়ে থাকে দপ্তরগুলো।
এ ব্যাপারে বেরোবির অপর এক শিক্ষক জানান, সাবেক ভিসি অনেকগুলো পদ কুক্ষিগত করে রেখেছিলেন। তিনি পদগুলোতে কাউকে পূর্নাঙ্গ ভাবে নিয়োগ দেননি। ফলে বিষয়টি বেশ সমালোচিত হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান ভিসি বেশ কিছু পদে নিয়োগ দিয়েছেন ঠিকই কিন্তু সেগুলোতে কাউকেই পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব দেননি। ভারপ্রাপ্ত বা চলতি দায়িত্ব প্রদানের মাধ্যমে দপ্তরগুলোর মূল ক্ষমতা কার্যতঃ ভিসি নিজের হাতেই রেখেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ইব্রাহীম কবীর জানান, ভিসি মাত্র কয়েকমাস আগে এসেছেন। তিনি বিভিন্ন দপ্তরে শিক্ষকগণকে চলতি দায়িত্ব প্রদান করে তাদেরকে পর্যবেক্ষণ করছেন। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে তাদের পূর্ণ দায়িত্ব প্রদান করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ