বৃহস্পতিবার ০২ ডিসেম্বর ২০২১
Online Edition

মার্চ মাস থেকে খুলনায় চালু হবে ভারতীয় হাইকমিশন

খুলনা অফিস : খুলনায় ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন চালুর প্রক্রিয়া তিন মাস পিছিয়ে গেছে। চলতি জানুয়ারি মাস থেকে এটি চালু হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু নির্ধারিত ভবন, সীমানা প্রাচীর, প্রধান ফটক ও নিরাপত্তা রক্ষীদের জন্য পৃথক ভবন নির্মাণের কাজ শেষ না হওয়ায় তিন মাস পেছানো হয়েছে সার্বিক কার্যক্রম। আগামী মার্চ মাস থেকে খুলনায় সহকারী হাইকমিশন কার্যক্রম শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে। ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।  সংশ্লিষ্টরা জানান, সহকারী হাইকমিশন অফিস চালু হলে খুলনা থেকেই ভারতীয় ভিসা প্রিন্ট করা সম্ভব হবে। এতে ১০ দিনের স্থলে ভিসা প্রাপ্তির সময় কমে আসবে ৩ থেকে ৪ দিনে। গত এক বছরে খুলনা অঞ্চলের ৪ লাখ ৩২ হাজার মানুষ ভারতীয় ভিসার জন্য আবেদন করেছিলো।

খুলনার ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিবছর খুলনা অঞ্চল থেকে কয়েক লাখ মানুষ চিকিৎসা ও ব্যবসার কাজে ভারতে যায়। খুলনায় ভারতের একটি ভিসা আবেদন কেন্দ্র থাকলেও ভিসা প্রাপ্তিতে সময় লাগে প্রায় ১০ থেকে ১৫ দিন। অনেক সময় ভিসাসহ পাসপোর্ট ফেরত পেতে একমাসও লেগে যায়। বর্তমানে খুলনা ও যশোরের ভিসা আবেদন কেন্দ্রে প্রতি মাসে ৩৬ হাজার আবেদন জমা পড়ে। এ অবস্থায় দীর্ঘদিন থেকেই খুলনায় ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের অফিস চালু করে এখান থেকেই ভিসা প্রসেসিং করার দাবি জানিয়ে আসছেন ব্যবসায়ীরা। যাতে খুলনা থেকে ভিসা প্রিন্টিং কাজ শেষে ২ থেকে ৩ দিনের মধ্যেই ভিসাসহ পাসপোর্ট ফেরত পায় মানুষ। সূত্রটি জানায়, এ অঞ্চলের মানুষের কথা বিবেচনা করে ভারতীয় হাই কমিশনার হর্ষবর্ধণ শ্রিংলা খুলনায় এসে দ্রুত সময়ের মধ্যে চালুর ঘোষণা দেন। গত ৭ মে খুলনায় আসেন হাইকমিশনের ৩ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। তারা ৭/৮টি বাড়ি ঘুরে দেখেন। এর মধ্যে বয়রা এলাকা সরকারি মহিলা কলেজের সামনে একটি বাড়ি চূড়ান্ত করা হয়। গত ডিসেম্বর মাসে বাড়িটি বুঝে নেয়ার কথা ছিলো।

সরেজমিন ওই বাড়ি ঘুরে দেখা গেছে, দুই তলা ভবনের কাজ শেষ। সীমানা প্রাচীরও আগের থেকে উঁচু করা হয়েছে। কিন্তু সিকিউরিটি সেড বা নিরাপত্তা রক্ষীদের ভবনের একতলার ছাদ ঢালাই সম্পন্ন হয়েছে। এটি ৫ তলা হবে। বাড়ির মূল ফটকও সরিয়ে মাঝখানে স্থাপন করা হবে। এসব কাজ শেষ করতে আরও এক মাস সময় লাগবে। গত সপ্তাহে ভারতীয় হাইকমিশনের সেকেন্ড সেক্রেটারি ভবনটি ঘুরে দেখেন। তবে সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে তিনি কোনো কথা বলেননি।  তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাইকমিশনের এক কর্মকর্তা জানান, নিরাপত্তা শেডসহ অন্যান্য কাজ   শেষ হলে ফেব্রুয়ারি থেকে তারা সরঞ্জাম স্থাপন কাজ শুরু করবেন। ফেব্রুয়ারি মাসের শেষেই অথবা মার্চ মাসের শুরু থেকে তারা আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করবেন বলে আশা করছেন তারা। বাড়ির মালিক এস এম কামরুল আলম মিন্টু বলেন, হাই কমিশন থেকে নিয়মিত যোগাযোগ করা হচ্ছে। অফিস চালুর সবধরনের অনুমতি তারা পেয়েছে বলে জানিয়েছে। এখন নিরাপত্তারক্ষীদের ভবনের দুই তলা পর্যন্ত সম্পন্ন। 

মৈত্রী সমিতির সভাপতি কাজি আমিনুল হক বলেন, ভারতীয় হাই কমিশনের সেকেন্ড সেক্রেটারি গত বৃহস্পতিবার খুলনায় এসে অগ্রগতি দেখে গেছেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে কমিশন অফিস চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। হাইকমিশন চালু হলে এ অঞ্চলের ব্যবসায়ী ও চিকিৎসা সেবা গ্রহিতাদের ভোগান্তি অনেক কমে যাবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ