বৃহস্পতিবার ০২ ডিসেম্বর ২০২১
Online Edition

বোর্ডের ভুলে খুলনায় ৩০ শিক্ষার্থীর এক সেশন নষ্ট

খুলনা অফিস : কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ভুলের কারণে খুলনায় বেসরকারি পলিটেকনিকের ৩০ শিক্ষার্থীর একটি সেশন নষ্ট হচ্ছে। পরীক্ষার রুটিন সংশোধন না করে বিজ্ঞপ্তি দেয়ায় এসব শিক্ষার্থীরা আর চলতি সেশনে পরীক্ষা দিতে পারছে না। এতে তাদের অর্থ এবং সময় দুটোই নষ্ট হচ্ছে। তবে পলিটেকনিকগুলোর পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পরীক্ষার পুনঃতারিখ নির্ধারণের আবেদন জানালেও তা কার্যকর হচ্ছে না বলে জানা গেছে। 

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী এবং পলিটেকনিক সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কারিগরী বোর্ড থেকে গত ৯ নবেম্বর ডিপ্লোমা ইন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের টেক্সটাইল, জুট এবং গার্মেন্টস টেকনোলজি বিষয়ে বোর্ড সমাপনী পরীক্ষার সময়সূচি ঘোষণা করা হয়। এরমধ্যে গত ৩ জানুয়ারি টেক্সটাইল বিভাগের এনভায়রনমেন্টাল ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়ার নির্ধারিত তারিখ ছিল। ঘোষিত রুটিন অনুযায়ি শিক্ষার্থীরা সেভাবে প্রস্তুতি গ্রহণ করে। যা কারিগরি বোর্ডের ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করে। এর কয়েকদিন পর আরও একটি নোটিশ ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। দ্বিতীয় দফায় তারিখ নির্ধারণ করা হয় ২ জানুয়ারি। এ বিষয়ে বোর্ডের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটগুলোতেও কোন কিছু জানানো হয়নি। সেখানে সংশোধিত নোটিশ হিসেবে উল্লেখও করা হয়নি। যে কারণে শিক্ষার্থী এবং কলেজ কর্তৃপক্ষও অবগত ছিল না। শিক্ষার্থীরা ৩ জানুয়ারি পরীক্ষা দিতে গেলে জানতে পারে পরীক্ষা আগের দিন হয়ে গেছে। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীরা পরবর্তিতে স্ব স্ব কলেজে যোগাযোগ করলেও সংশ্লিষ্টরা কোন সদুত্তর দিতে পারেনি। তবে তারা আদৌ আর পরীক্ষা দিতে পারবে কিনা সেটাও বলতে পারছে না তারা। 

পলিটেকনিক কলেজগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খুলনার পাঁচটি পলিটেকনিকের ৩০ জন শিক্ষার্থী এ জটিলতায় পড়েছে। এরমধ্যে খুলনা সিটি পলিটেকনিকের ১০ জন, নর্থ সাউথ পলিটেকনিকের ৭ জন, ম্যানগ্রোভ পলিটেকনিকের ৪ জন, খানজাহান আলী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মহাবিদ্যালয়ের ৮ জনসহ মোট ৩০ জন শিক্ষার্থী। পুনরায় পরীক্ষাটি না নেয়া হলে তারা ৬ মাস পিছিয়ে পড়বে। 

এ ব্যাপারে খুলনা সিটি পলিটেকনিকের অধ্যক্ষ শেখ জাহাঙ্গীর আলম জানান, ‘তার কলেজের ১০ জন শিক্ষার্থী এবার টেক্সটাইল বিভাগের এনভায়রনমেন্টাল ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে পরীক্ষা দিতে পরেনি। প্রথম দফায় বোর্ড থেকে দেয়া নোটিশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল ৩ তারিখে। কিন্তু বোর্ড কোন সংশোধন ছাড়াই পরবর্তিতে আরও একটি নোটিশ ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে। সেখানে ২ তারিখ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়ার তারিখ উল্লেখ করা হয়। এতে শিক্ষার্থীরা বিভ্রান্তিতে পড়ে পরীক্ষা দিতে পারেনি। আমরা বোর্ডকে অনুরোধ জানিয়েছি পরীক্ষাটি পুনরায় নেয়ার জন্য। তবে বোর্ড এখনও কিছুই জানায়নি’। ম্যানগ্রোভ ইনস্টিটিউটের পরিচালক বদিউজ্জামান বদি জানান, ওই কলেজের ৪ জন শিক্ষার্থী বোর্ডের এ জটিলতায় পড়ে পরীক্ষা দিতে পারেনি। বোর্ড কি সিদ্ধান্ত দেয় তার ওপর নির্ভর করছে ছাত্রদের পরবর্তী সেশন। 

তবে এ বিষয়ে এখন আর কিছুই করার নেই বলে জানিয়েছে বোর্ডের সহকারি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ আব্দুল কাইয়ুম। তিনি বলেন, আমরা পরবর্তী যে নোটিশ দিয়েছি সেটাও পরীক্ষা শুরুর অন্তত এক সপ্তাহ পূর্বে। সেটা সংশ্লিষ্ট কলেজ কর্তৃপক্ষের আরও যতœবান হতে হতো। ওই সমস্ত শিক্ষার্থীদের পরবর্তী সেমিস্টারে পরীক্ষা দিতে হবে। এদিকে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রকৌশলী সুশীল কুমার পালের কাছে ওই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ব্যস্ত রয়েছেন বলে ফোনটি কেটে দেন। পরবর্তীতে আর রিসিভ করেননি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ