শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

 শেষধাপে সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি জাতীয়তাবাদী পরিষদের

স্টাফ রিপোর্টার: ঢাকার বাইরে কয়েকটি কেন্দ্রে সরকার সমর্থিত প্যানেলের অনুসারীরা বিএনপি সমর্থিত পরিষদের ভোটার ও সমর্থকদেরকে ভয়ভীতি দেখিয়েছে এমন অভিযোগ তুলে আগামী ২০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় (ঢাবি) সিনেটে রেজিস্টার্ড গ্রাজুয়েটস প্রতিনিধি নির্বাচনের শেষধাপ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নের দাবি জানিয়েছে বিএনপি সমর্থিত জাতীয়তাবাদী পরিষদ। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় ক্লাবে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে জাতীয়তাবাদী পরিষদের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো: আখতার হোসেন খান এ আহ্বান জানান। এসময় ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও সাবেক সিনেট সদস্য ড. মোর্শেদ হাসান খান, ঢাবি সাদা দলের শিক্ষক নেতা ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান, ড. লুৎফর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে অধ্যাপক আখতার হোসেন খান বলেন, ঢাবি সিনেটের রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েটস প্রতিনিধি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই নির্বাচনের শেষ ধাপে আগামী শনিবার সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ চলবে। এর আগে গত ৬, ১৩ ও ১৬ জানুয়ারি ঢাকার বাইরে মোট ৪২টি কেন্দ্রে উক্ত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আমরা অত্যন্ত দুঃখ, পরিতাপ এবং ক্ষোভের সাথে জানাচ্ছি যে বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে আমরা নির্ভয়ে প্রচার কাজ করতে পারিনি। শুধু তাই নয়, কয়েকটি কেন্দ্রে আমাদের সমর্থকদের ওপর ন্যক্কারজনকভাবে হামলা চালানো হয়েছে। পটুয়াখালি সরকারি কলেজ, ভোলা সরকারি কলেজ, সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজ, এবং ফরিদপুর সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ কেন্দ্রে নির্বাচনী প্যান্ডেল ভেঙ্গে দিয়ে আমাদের সমর্থকদের ওপর লাঠি, রড ইত্যাদি দিয়ে আক্রমণ করা হয়েছে এবং নির্মমভাবে পিটিয়ে রক্তাক্ত করা হয়েছে। হামলায় গুরুতর আহত কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাও নিতে হয়েছে। এই কেন্দ্রগুলো ছাড়াও অনেক কেন্দ্রে আমাদের সমর্থকদের প্রচার কাজে বাধা প্রদান করা হয়েছে এমনকি কোথাও কোথাও ভোটারদেরও ভয়ভীতি দেখিয়ে হুমকি দেওয়া হয়েছে। আমরা এসব ঘটনার ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকেও লিখিতভাবে জানিয়েছি। ভিন্নমত প্রকাশের স্বাধীনতা ও মুক্তবুদ্ধিচর্চার পাদপিঠ এবং গণতন্ত্রের সূতিকাগার হিসেবে পরিচিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তির সাথে এ ধরনের কর্মকা- কোনোভাবেই সঙ্গতিপূর্ণ নয়। 

তিনি বলেন, ঢাবির অভ্যন্তরীণ অন্যান্য নির্বাচনসমূহ সাধারণত একটি উৎসব মূখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। এখানে দলমত নির্বিশেষে সকল ভোটার এবং প্রার্থীরা বরাবরই সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সচেষ্ট থাকেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে সিনেটের রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েটস প্রতিনিধি নির্বাচনের সময় এর ব্যাতয় ঘটছে। তবে সবারই মনে রাখা উচিত যে এই নির্বাচনে যারা ভোট দিতে আসেন তারা সবাই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র ছাত্রী। তাদের কাছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি নষ্ট হোক তা কখনোই কাম্য হতে পারে না। ড. আখতার হোসেন খান বলেন, সারা জাতি আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচনী পরিবেশের ওপর প্রখর দৃষ্টি রাখছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরিবেশ কেমন হবে তার একটা প্রমাণ পাওয়া যাবে এই নির্বাচনে। তাই জাতীয় নির্বাচনের পরিবেশ সম্পর্কে মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য হলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচনী পরিবেশ কালিমামুক্ত রাখা অপরিহার্য। তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, ঐতিহ্যবাহী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মান সম্মান অক্ষুণœ রাখার স্বার্থে এই নির্বাচনের শেষ ধাপে এসব অনাকাঙ্খিত, অনভিপ্রেত এবং ন্যাক্কারজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। নতুবা সকল দায় দায়িত্ব সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উপরই বর্তাবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা সিনেটে নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। ঢাবির কেন্দ্রসমূহে সুষ্ঠু ভোট হলে জয় আমাদের হবে ইনশাল্লাহ। 

সংবাদ সম্মেলনে সিনেটে প্রার্থীদের মধ্যে ড. উম্মে কুলসুম রওজাতুর রোম্মান, একে এম ফজলুল হক মিলন, এটিএম আব্দুল বারী ড্যানি, এবিএম মোশাররফ হোসেন, আমিরুজ্জামান খান শিমুল, অধ্যাপক জেডএন তাহমিদা বেগম, ড. মোজাদ্দেদী আলফেছানী, ডা. মো: মোয়াজ্জেম হোসেন, মো: সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, মো: সেলিমুজ্জামান, শওকত মাহমুদ, ড. সদরুল আমিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ