বৃহস্পতিবার ০২ ডিসেম্বর ২০২১
Online Edition

দলে দলে মুসল্লিরা আসছেন

গাজীপুর  থেকে  মোঃ রেজাউল বারী বাবুল ও গাজী খলিলুর রহমানঃ তাবলীগ জমায়েত এবারের টঙ্গী ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব আজ শুক্রবার বাদ ফজর থেকে আম বয়ানের মাধ্যমে টঙ্গীর কহর দরিয়াখ্যাত তুরাগ নদীর তীরে শুরু হচ্ছে। দ্বিতীয় দফায়ও বহাল রয়েছে আগের দফার সকল প্রস্তুতি। প্রথম পর্বের পর চার দিন বিরতি দিয়ে শুরু হচ্ছে ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব। তবে বৃহস্পতিবার মাগরিব নামাজে পর ময়দানের ছামিয়ানার নিচে জমায়েত হওয়া মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে অনানুষ্ঠানিক বয়ান শুরু হয়েছে। আগামী রবিবার জোহরের নামাজের আগে (পূর্বাহ্নে) আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে এবছরের ইজতেমা শেষ হবে। দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমায় যোগ দিতে ঢাকা জেলার একাংশ এবং ১২টি জেলার মুসল্লিদের ইজতেমা স্থলে আসা অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরের পর থেকে ইজতেমা মুখি মানুষের ঢল নামে টঙ্গীর দিকে। বাস, ট্রাক, ট্রেন, ট্রলারসহ বিভিন্ন যানবাহনে করে মুসল্লিরা যোগ দিচ্ছেন ইজতেমায়।

বিশ্ব ইজতেমার মুরুব্বী মো. গিয়াস উদ্দিন জানান, বিশ্ব ইজতেমার এ পর্বে ঢাকাসহ ১৩জেলার মুসুল্লিরা অংশ নেবেন। এজন্য ইজতেমা ময়দানকে ২৮টি খিত্তায় ভাগ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ব ইজতেমার এ পর্বেও বিদেশি মুসুল্লিরা অংশ নেবেন। আগামি ২১ জানুয়ারি (রবিবার) দ্বিতীয় পর্বের আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হবে ৫৩তম বিশ্ব ইজতেমা। আজ শুক্রবার হওয়ায় জু’মার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে ইজতেমা ময়দানে। গাজীপুর, ঢাকার উত্তরা ও আশপাশের এলাকা থেকে লাখ লাখ মুসল্লি যোগ দেবেন এই জু’মার নামাজে। 

ইজতেমা ময়দান ঘুরে দেখা গেছে, দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমায় যোগ দিতে ইতোমধ্যে কয়েক লাখ মুসল্লি ইজতেমা মাঠে সমবেত হয়েছেন। আখেরি মোনাজাতের আগ পর্যন্ত মুসল্লিদের এ আগমন অব্যাহত থাকবে। তারা নিজ নিজ জেলার খিত্তায় অবস্থান নিচ্ছেন। প্রথম পর্বে অংশ নেয়া বেশ কিছু বিদেশী মুসল্লি দ্বিতীয় পর্বে অংশ নেয়ার জন্য ময়দানের বিদেশী নিবাসে রয়ে গেছেন। 

ইজতেমা আয়োজক কমিটির অন্যতম সদস্য প্রকৌশলী মোঃ গিয়াস উদ্দিন জানান, এবারের বিশ্বইজতেমার প্রথম দফার সকল প্রস্তুতি দ্বিতীয় দফাও বহাল রয়েছে। ইতোমধ্যে মুসুল্লিরা ইজতেমাস্থলে আসতে শুরু করেছেন। গত ১৪ জানুয়ারি (রবিবার) প্রথম পর্বের আখেরি মোনাজাতের পর দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমার ময়দান প্রস্তুতের জন্য ইজতেমায় আগত তাবলিগ জামাতের কর্মীরা কাজ করে যাচ্ছেন। তারা ইজতেমার প্রথম পর্বে মুসল্লিদের ফেলে রাখা ময়লা-আবর্জনা সরিয়ে পুরো ময়দানকে উপযোগী করে তুলেছেন। এ জন্য ময়দানে তাবলিগের কর্মীরা বেশ কয়েকটি দলে বিভিক্ত হয়ে এ পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালায়। এছাড়া গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকেও ময়দান পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করার কাজে অংশ নেয়। আগামী রবিবার ২১জানুয়ারি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের বিশ্ব ইজতেমা।

এবারও বিশ্ব ইজতেমা ময়দানের পশ্চিম-উত্তর দিকে বিদেশী মুসুল্লিদের অবস্থানের জন্য বিশেষ আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। বিদেশী নিবাসে রন্ধনশালায় সার্বক্ষণিক গ্যাস ও বিশুদ্ধপানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং সেখানে অ্যাম্বুলেন্স ও টেলিফোনসহ প্রয়োজনীয় আধুনিক সুবিধাদি রয়েছে। এ ছাড়াও বিদেশি নিবাসে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা রয়েছে। এবার ক্রমবর্মান বিদেশী মুসুল্লিদের জন্য ২০শতাংশ আবাসনসহ অন্যান্য ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে।

দ্বিতীয়পর্বে ১৩ টি জেলার মুসুল্লিগণ অংশ নেবেন : দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমায় মুসুল্লিদের অংশ নেয়ার জন্য জেলাওয়ারি পুরো প্যান্ডেলকে ২৮টি খিত্তায় (ভাগে) ভাগ করা হয়েছে। এতে ঢাকার একাংশসহ ১৩টি জেলার মুসুল্লিগণ অংশ নেবেন। দ্বিতীয় পর্বে দেশের বিভিন্ন জেলার মুসল্লিরা খিত্তাওয়ারী যেভাবে অবস্থান নেবেন তা হলো- তা হলো-১ নং থেকে ১০নং, ১৮ নং ও ১৯ নং খিত্তায় ঢাকা জেলা, ১১ নং ও ১২ খিত্তায় জামালপুর, ১৩ খিত্তায় ফরিদপুর, ১৪ নং খিত্তায় কুড়িগ্রাম, ১৫ নং খিত্তায় ঝিনাইদহ, ১৬ নং খিত্তায় ফেনী, ১৭ নং খিত্তায় সুনামগঞ্জ, ২০ নং খিত্তায় চুয়াডাঙ্গা, ২১ ও ২২ নং খিত্তায় কুমিল্লা, ২৩ ও ২৪ নং খিত্তায় রাজশাহী, ২৫ ও ২৭ নং খিত্তায় খুলনা, ২৬ নং খিত্তায় ঠাকুরগাও এবং ২৮ নং খিত্তায় পিরোজপুর জেলা।

গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. জাহিদ আহসান রাসেল বলেন, বর্তমান সরকারের নির্দেশে প্রতিবারের ন্যায় ইজতেমা ময়দানের ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের সুবিধার্থে এবছরও গোসলখানা, ওযুখানাসহ উন্নয়নমূলক কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রথম দফার ইজতেমার মত দ্বিতীয় দফাও ইজতেমা ময়দান ও আগত মুসল্লিদের সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখব ইনশাল্লাহ্। 

গাজীপুরে জেলা প্রশাসক দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ুন কবির জানান, দ্বিতীয় দফার জন্যও আমাদের আগের দফার মত ব্যাপক ও সর্বাঙ্গীন প্রস্তুতি রয়েছে। নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। মুসুল্লিরা ভালমত ইজতেমা সেরে ফিরে যেতে পারে তার জন্য সকল প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় গাজীপুর পুলিশ সুপার মো. হারুন-অর-রশীদ জানান, বিশ্ব ইজতেমায় দায়িত্ব পালনের জন্য ৭হাজার পুলিশ সদস্য প্রস্তুত রয়েছে, নেয়া হয়েছে ৭স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। 

চিকিৎসা সেবা : গাজীপুরের সিভিল সার্জন জানান, প্রথম ধাপের ন্যায় দ্বিতীয় ধাপেও ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের লক্ষ্যে তাদের সব প্রস্তুতি রয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসহ মেডিক্যাল অফিসারদের তালিকা ও ডিউটি রোস্টার করা হয়েছে। মুসল্লিদের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দিতে মন্নু গেট, এটলাস গেট, বাটা কারাখানার গেট অস্থায়ী মেডিক্যাল ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ জেনারেল হাসপাতালে হৃদরোগ, অ্যাজমা, ট্রমা, বার্ন, চক্ষু এবং ওআরটি কর্নারসহ বিভিন্ন ইউনিটে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা চিকিৎসা দেবেন। এ ছাড়াও বেসরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ঔষধ কারখানা প্রতি বছরের ন্যায় এপর্বেও ইজতেমা ময়দানে মুসল্লিদের ফ্রি চিকিৎসা ও ঔষধপত্র বিতরণ শুরু করেছে। হার্মদদ (ওয়াকফ) লিঃ, ইবনে সিনা, র্যাব, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন, টঙ্গী ঔষধ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি, আয়ুর্বেদীয় মেডিকেল, জনকল্যাণ মেডিকেল অস্থায়ী চিকিৎসা কেন্দ্র ইজতেমা ময়দানের উত্তর পার্শ্বে নিউ মন্নু কটন মিলের অভ্যন্তরে চালু করেছে।

ভ্রাম্যমাণ আদালত : গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা গেছে, দ্বিতীয় ধাপে ইজতেমা মাঠ ও এর আশপাশ এলাকাকে ২০ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে প্রতিদিন ২টি করে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হবে। বুধবার বিকেল থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের কার্যক্রম শুরু করেছেন।

গাড়ি পার্কিং : প্রথম পর্বের ন্যায় দ্বিতীয় পর্বেও বিশ্ব ইজতেমায় বিভিন্ন জেলা থেকে আগত মুসল্লিদের সুবিধার্থে টঙ্গী পাইলট স্কুল এন্ড কলেজ মাঠ, টঙ্গী সফিউদ্দিন সরকার একাডেমী এন্ড কলেজ মাঠ, উত্তরার আজমপুর স্কুল মাঠ, কামারপাড়ায় রানাভোলা মাঠে গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ