বৃহস্পতিবার ০২ ডিসেম্বর ২০২১
Online Edition

নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে বিএনপি ৮০ শতাংশ ভোট পাবে

 

স্টাফ রিপোর্টার: আগামী নির্বাচন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে হলে ‘শতকরা ৮০ ভাগ মানুষ বিএনপিকেই ভোট দেবে’ বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৮২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি এই আলোচনা সভায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই মন্তব্য করেন। দিবসটি পালনে সাপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি এই আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যে দর্শন দিয়ে গেছেন, তিনি যে দল গঠন করেছেন, আজো সেই দল এদেশের মানুষের বুকের মধ্যে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এখনো জীবন সায়েহ্নে এসে জিয়াউর রহমানের সেই পতাকাই তুলে নিয়েছেন। সরকারকে বলব, আজকে একটা নিরপেক্ষ নির্বাচন দিয়ে দেখুন না। শতকরা ৮০ ভাগ মানুষ এই বিএনপিকে ভোট দেবে।

 নেতা-কর্মীদের ‘হতাশ’ না হয়ে ‘সংগঠিত’ হওয়ার আহবানের পাশাপাশি সরকারের পরিণতি সম্পর্কেও হুশিয়ারি দেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, এই অচলায়তন ভেঙে ফেলতে হবে। আর আমরা কোনো মতেই এই গণতন্ত্র বিরোধী শক্তিকে ক্ষমতায় দেখতে চাই না। আসুন আমরা সংগঠিত হই। কখনো হতাশ না হই। আগামীদিনে এই ফ্যাসিস্ট সরকারকে অবশ্যই আমরা বাধ্য করতে পারবো-এই বিশ্বাস আমাদের আছে।

একাদশ নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে সরকারের উদ্দেশ্যে বিএনপি মহাসচিব বলেন, পদত্যাগ করুন, একটি নিরপেক্ষ সরকারেরর অধীনে নির্বাচন দিন, একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন করুন। অতিশিগগিরই নির্বাচন দিন এবং জনগণের একটা সরকার প্রতিষ্ঠা করুন। এদেশের জনগন অবশ্যই এই ফ্যাসিস্ট-অত্যাচারী-নির্যাতনকারী সরকারকে বাধ্য করবে নির্বাচন দেয়ার জন্য যা আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া চেয়েছে। অন্যথায়.। পৃথিবীর ইতিহাসে দেখা গেছে অনেক অনেক ডিক্টেটার, অনেক অনেকে ফ্যাসিস্ট তারা কিছুদিনের জন্য হয়তবা অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়ে গেছে। কিন্তু দীর্ঘদিনের জন্য তারা পারেনি। তাদের পরিণতি হয়েছে, ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে তারা নিক্ষিপ্ত হয়েছে। 

পুরনো ঢাকার বিশেষ আদালতে খালেদা জিয়াকে প্রতিদিন হাজির করানো সরকারের নীতির কঠোর সমালোচনা করেন মির্জা ফখরুল। বিএনপির এই নেতা বলেন, 'মিথ্যা মামলা দিয়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কষ্ট দিচ্ছে। আজকে আমরা সবাই জানি এই মামলা একটা মিথ্যার উপর প্রতিষ্ঠিত, কিন্তু এই মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে সপ্তাহে ৫ দিন প্রায় আদালতে আটকে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এসময় তিনি বলেন, 'আর আমরা এই গণতন্ত্র বিরোধী শক্তিকে ক্ষমতায় দেখতে চাই না। আমরা চাই না বিএনপিকে ধ্বংস করে দিয়ে, বাংলাদেরশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিয়ে, স্বাধীনতাকে বিপন্ন করে একটা অপশক্তি আমাদের বুকের উপরে দিনের পর দিন চেপে থাকুক।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, যেখানে আওয়ামী লীগ ব্যর্থ হয়েছে সেখানেই জিয়াউর রহমান সফল হয়েছেন বলেই তারা শহীদ জিয়াউর রহমান, তার পরিবার এবং বিএনপিকে ভয় পায়। সেজন্য তারা আমাদের সভা-সমাবেশ করতে দেয় না। তারা ৯ বছর যাবত নিপীড়ন-নির্যাতন করে যাচ্ছে। আমরা বলতে চাই, যত নির্যাতন করুক না কেনো, বিএনপির পেছনে এদেশের জনগণ আছে। আগামী নির্বাচন অবশ্যই নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে দিতে হবে।

বিএনপিকে সভা-সমাবেশ করার অনুমতি না দেয়ার ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ বলেন, আজকে এই ছোট পরিসরে আমাদের এখানে সভা করতে হচ্ছে। আমাদের এক ঘরে করে ফেলেছে। কোথাও তারা(সরকার) আমাদেরকে সভা-সমাবেশ করার অনুমতি দেয়া না। আমরা এই অনুমতি নির্ভর রাজনীতি বর্জন করি, এটা আমরা প্রতিহত করবো। আমরা এই অনুমতির জন্য আর বসে থাকবো না।। যে বাঁধ তারা সৃষ্টি করেছেন। তারা মনে করেছে যে, এই বাঁধ চিরদিন থাকবে। আমাদেরকে ঘরের মধ্যে রেখে দেবে। আমি বলতে চাই, এই বাঁধ ভাঙবে, এই বাঁধ ভেঙে দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা হবে, আবার দেশে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনা হবে।

মির্জা ফখরুলের সভাপতিত্বে ও প্রচার সম্পাদক শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, সহ প্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলীমের পরিচালনায় আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, শামসুজ্জামান দুদু, অধ্যাপক এজেএম জাহিদ হোসেন, যুগ্ম মহাসচিব মাহবুবউদ্দিন খোকন, খায়রুল কবির খোকন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালযের অধ্যাপক মাহবুবউল্লাহ বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে বিএনপির ব্যারিস্টার আমীনুল হক, আহমেদ আজম খান, হাবিব উন নবী খান সোহেল, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, নুরী আরা সাফা, হেলেন জেরিন খান, শফিউল বারী বাবু, ব্যারিস্টার বদরুদ্দেজা বাদল, রফিকুল ইসলাম রাসেলসহ অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

চ-১ (ড) ১৮-০১-২০১৮ উঊঝক-৭ ঈঐ-=

মেয়র আইভী ঢাকার ল্যাবএইড হাসপাতালের সিসিইউতে

নারায়ণগঞ্জ সংবাদদাতা : কার্যালয়ে এসে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ৩টার কিছু আগে মেয়র নগরভবন কার্যালয়ে আসেন বলে জানান নগরভবনের একজন কর্মকর্তা।

ওই কর্মকর্তা জানান, কার্যালয়ে আসার পর থেকেই অসুস্থ বোধ করছিলেন আইভী। কথা বলতে পারছিলেন না। একপর্যায়ে তিনি বমি করেন। চিকিৎসক ডাকা হয়। তাকে পরীক্ষা করে চিকিৎসক জানান, তার রক্তচাপ অনেক কমে গেছে। এরপর মেয়র আইভী বেশি অসুস্থ বোধ করছিলেন। নড়াচড়া ও কথাবার্তা বলতে পারছিলেন না। পরে সদর হাসপাতাল থেকে আরও চিকিৎসক আসেন। তারা সবাই পরীক্ষা করে মেয়রকে হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন।

 সদর হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সে করে সেলিনা হায়াৎ আইভীকে ঢাকার ল্যাবএইড হাসপাতালের সিসিইউতে বিকাল পাঁচটার পর ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে মেয়র আইভীর ছোট বোনের স্বামী আবদুল কাদির বলেন, হাসপাতালে আনার সময় তিনি অচেতন ছিলেন। এজন্য সিসিইউতে ভর্তি করা হয়। পরে চিকিৎসকরা পরীক্ষা নিরীক্ষার পর তার জ্ঞান ফেরে।

তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। মেয়র আইভীর বরাত দিয়ে তিনি বলেন, তিনি সমর্থকদের কাছে দোয়া চেয়েছেন।

এদিকে, মেয়র অসুস্থ হয়ে পড়ার খবরে শহরের সর্বমহলে বিষাদের ছায়া লক্ষ্য করা গেছে। তবে মেয়রের এলাকা দেওভোগে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ডাঃ আইভী সমর্থকরা নগরবাসীর কাছে দোয়া কামনা করেছেন। সিনিয়র আওয়ামী লীগ নেতারা ঢাকায় খোঁজ খবর নিচ্ছিলেন। সকলেই মেয়রের অসুস্থতার খবর শুনে তার আরোগ্য কামনা করেছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ