বৃহস্পতিবার ০২ ডিসেম্বর ২০২১
Online Edition

যশোর রোডের শতবর্ষী গাছ  কাটা যাবে না ॥ স্থিতাবস্থার নির্দেশ

 

স্টাফ রিপোর্টার : যশোর রোডের শতবর্ষী গাছ কাটায় ছয় মাসের জন্য স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। ফলে ওই গাছগুলো কাটা যাবে না। যশোর রোডকে চার লেনে উন্নীত করতে সড়ক ও জনপথ বিভাগ শতবর্ষী গাছগুলো কাটার পদক্ষেপ নিয়েছিল।

একইসঙ্গে যশোর-বেনাপোল রোডের গাছগুলো আইন অনুসারে রক্ষায় বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। পৃথক রুলে চার লেনে উন্নীত করার ক্ষেত্রে গাছগুলো সংরক্ষণ করে বিকল্প হিসেবে সংশোধিত প্রকল্প প্রস্তুত করতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।

সড়ক পরিবহন ও সেতু বিভাগের সচিব, পরিবেশ সচিব, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, সড়ক ও জনপদ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী, যশোরের জেলা প্রশাসক, বেনাপোল উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) বিবাদীদের ২ সপ্তাহের মধ্যে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার একটি রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবির সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ এ আদেশ দেন।

শুনানিতে আদালত বলেন, দেশের অনেক প্রকল্প অযোগ্য লাকদের দিয়ে করা হয় বিধায় জনগণের স্বার্থ বিনষ্ট হয়।

একটি পত্রিকায় গতকাল বুধবার ‘গাছ কেটেই প্রশস্ত হচ্ছে মহাসড়ক’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। এ প্রতিবেদন যুক্ত করে মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস এন্ড পিস ফর বাংলাদেশ রিট আবেদন করে। এই রিটের ওপর শুনানি শেষে আদালত স্থিতাবস্থা বজায় ারাখার নির্দেশ দিলেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। সরকার পক্ষে ছিলেন ডেপুটি এটর্নি জেনারেল এস এম মনিরুজ্জামান।

আদেশের পর আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, যশোর-বেনাপোল মহাসড়কে শতবর্ষী শতাধিক গাছ রক্ষায় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা চ্যালেঞ্জ করে রিটটি করা হয়। গাছ কাটার ওপর ৬ মাসের স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন। এর ফলে এসব গাছ কাটা যাবে না। 

ডেপুটি এটর্নি জেনারেল এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, আদালত গাছ কাটার ওপর স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন। তবে উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলবে।

মনজিল মোরসেদ বলেন, সংবিধানের ১৮(এ) ও পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুসারে সরকারের দায়িত্ব পরিবেশ সংরক্ষণ করা। গাছ পরিবেশের অন্যতম উপাদান। গাছ কাটা হলে পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এটি আমাদের জীবনের জন্য অপরিহার্য। শতবর্ষী গাছগুলো এমনভাবে আছে যা আমাদের একটি ঐতিহ্য। এসব যুক্তিতে রিটটি করা হয়।

যশোর শহরের দড়াটানা মোড় থেকে বেনাপোল স্থলবন্দর পর্যন্ত ৩৮ কিলোমিটার সড়ক সম্প্রসারণের জন্য ২ হাজার ৩১২টি গাছ কাটার সিদ্ধান্ত হয়। ৬ জানুয়ারি যশোরের জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ অন্যান্য পদাধিকারীর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়।

গাছ কাটার সিদ্ধান্তে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে অনেক সমালোচনা চলছে। গত সোমবার ‘যশোর রোডে’র শতবর্ষী গাছ কাটার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার চেয়ে লিগ্যাল নোটিশ পাঠান বেসরকারী বিশ্ব^বিদ্যালয় স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের আইন অনুষদের প্রভাষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র শেখ মো. মহিবুল্লাহ। তার পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান রেজিস্ট্রি ডাকযোগে সরকারের সংশ্লিষ্টদের এ নোটিশ পাঠান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ