মঙ্গলবার ২৬ মে ২০২০
Online Edition

ইরানি জাহাজে অগ্নিকান্ডে নিহত মিরসরাইয়ের হারুনের লাশের আশায় প্রহর গুনছে পরিবার

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা: উত্তর চীন সাগরে বিস্ফোরণের পর ডুবে যাওয়া তেলবাহী ইরানি জাহাজ ‘সাঁচি’র ৩২ ক্রুর মধ্যে একজন চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের। তাঁর নাম হারুন আর রশিদ। গত ৬ জানুয়ারি দুর্ঘটনার পর তিন ক্রুর মরদেহ উদ্ধার করা হলেও তাঁদের এখনো শনাক্ত করা হয়নি।
বাকিদের আর কোনো খোঁজ মেলেনি। হারুন উপজেলার ১০ নম্বর মিঠানালা ইউনিয়নের বন্দে আলী চৌধুরী বাড়ীর মৃত ছাদেক আহম্মদের ৩য় পুত্র।
ইরান কর্তৃপক্ষ গত রবিবার বলেছে, জাহাজটি আগুনে বিস্ফোরিত হয়ে ডুবে যাওয়ার পর তাঁদের বেঁচে থাকার আর সম্ভাবনা নেই। বিপুল পরিমাণ তেল থেকে সৃষ্ট আগুনে যে তাপ সৃষ্টি হয়েছিল তাতে মানুষের পক্ষে বেঁচে থাকা প্রায় অসম্ভব। ইরান কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোকে শোক ও সমবেদনা এবং ক্রুদের আত্মার শান্তি কামনা করে বিবৃতি দিয়েছে।সাঁচি জাহাজে হারুন-অর-রশিদ পাম্পম্যান হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
হারুনের বড় ভাই মোহাম্মদ শামসুল আলম টিপু জানান, তার ভাই দীর্ঘদিন ধরে বিদেশী জাহাজে চাকরী করেন। সর্বশেষ গত ১৭ নভেম্বর ঢাকা থেকে বিমান যোগে ইরানের উদ্দ্যেশ্যে রওয়ানা দেন। সেখানে গিয়ে সে তেলবাহী ইরানি জাহাজ ‘সাঁচি’তে উঠেন। ৬ জানুয়ারি জাহাজে আগুন লাগার সংবাদ পেয়ে বিভিন্নভাবে খবর নিতে থাকি। সর্বশেষ খবর পাই জাহাজের ৩২ জন ক্রুর মধ্যে কেউ বেঁচে নেই। তার মধ্যে উদ্ধারকৃত ৩ জনের লাশের মধ্যে আমার ভাইয়ের লাশ রয়েছে কিনা জানতে চেষ্টা করে যাচ্ছি। এখন আমি ও আমার বড় ভাই ঢাকায় অবস্থান করছি। আমাদের ডিএনএ পরীক্ষা করে সেখানে পাঠালে যদি আমার ভাইয়ের সাথে মিলে তাহলে লাশ সনাক্ত করা যাবে।
নিহত হারুনের ভাবি (বড় ভাইয়ের স্ত্রী) আকলিমা শরীফ রেখা বলেন, ‘আমার দেবর ইরান যেতে বিমানে উঠার পূর্বে আমার সাথে মোবাইলে কথা হয়েছিলো। সেটাই তাঁর সাথে শেষ কথা। এখন তো সে বেঁেচ নেই। কিন্তু যদি তার লাশটি পাই তাহলে মনকে সান্তনা দিতে পারবো। আমরা এখন তার লাশের অপেক্ষায় গ্রহর গুনছি।
নিহত হারুর-অর-রশিদের স্ত্রীর নাম জান্নাতুল ফেরদৌস সাকি।  তাবাচ্ছুম রশিদ নিহা ও ফাহসিন মাহমুদ নামে এক ছেলে এক মেয়ে রয়েছে। মেয়ে নবম শ্রেণী ও ছেলে ৫ম শ্রেণীতে পড়াশোনা করছে।
ইরানি বার্তা সংস্থা ইরনায় গত সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাহাজটি ডুবে যাওয়ার  আগে উদ্ধার করা দুটি মরদেহ ডিএনএ পরীক্ষার জন্য সাংহাইয়ে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া জাহাজটির ব্লাক বক্স উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে আরো একটি মরদেহ ডিএনএ পরীক্ষার জন্য সাংহাইয়ে পাঠানো হয়েছিল।
ইরানের বন্দর ও মেরিটাইম সংস্থার প্রধান মোহাম্মদ রাশতাদ বার্তা সংস্থা ইরনাকে বলেন, ‘তেলবাহী ইরানি জাহাজ সাঁচিতে দুই বাংলাদেশি ও ৩০ জন ইরানি ক্রু ছিলেন। মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর বিশাল আগুন ও বিষাক্ত ধোঁয়ায় দুর্ভাগ্যজনকভাবে তাঁদের সবাই নিহত হয়েছেন।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ