রবিবার ০৯ আগস্ট ২০২০
Online Edition

জাতীয়তাবাদী পরিষদের পক্ষে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে মতবিনিময় সভা

স্টাফ রিপোর্টার : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটে রেজিস্টার্ড  গ্রাজুয়েট প্রতিনিধি নির্বাচন উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী পরিষদের পক্ষে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আসন্ন সিনেট প্রতিনিধি নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী পরিষদের পক্ষে ভোট প্রদান করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সকলের সহযোগিতা কামনা করা হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট নির্বাচন উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী পরিষদ রমনা জোন আয়োজিত  প্যানেল পরিচিতি ও মতবিনিময় সভা গতকাল বুধবার রাজধানীর গুলশানের রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রেজিস্টার্ড ভোটার উপস্থিত ছিলেন। বিশিষ্ট সমাজ সেবক হেমায়েত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মসী অনুষদের সাবেক ডীন ও মানারাত বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ড. চৌধুরী মাহমুদ হাসান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজে এর সভাপতি শওকত মাহমুদ ও আইনজীবী এডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার, আবু যর গিফারী কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক এ বি এম ফজলুল করিম।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, সরকার ও ঢাবি কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণেই ঢাকা বিশ্বদ্যালয় অতীত গৌরব ও ঐতিহ্য হারিয়েছে। দেশের উচ্চ আদালের নির্দেশনা থাকার পরও ডাকসু নির্বাচন দেয়া হচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন ও ১৯৭৩ সালের আদেশ সমুন্নত রাখার কথা বলা হলেও তা এখনও শুধু কাগজে-কলমেই রয়ে গেছে। রাজনৈতিক হানাহানীর কারণেই ঢাবিতে শিক্ষার পরিবেশ নেই। দলীয় বিবেচনায়  শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগের কারণেই শিক্ষার মান ক্রমেই নিম্নমুখী। নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধাকে কোনভাবেই গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে না। তাই এ অবস্থা থেকে ঢাবিকে রক্ষা করতে হলেও জাতীয়তাবাদী ও দেশপ্রেমী শক্তির হাতকে শক্তিশালী করতে হবে। তিনি আসন্ন সিনেট প্রতিনিধি নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী পরিষদের অনুকূলে ভোট প্রদান করতে সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, মূলত ক্ষতাসীনদের আত্মকেন্দ্রীক রাজনীতির কারণেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আসলে সরকার ঢাবিসহ দেশের উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছে। পরিকল্পিতভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটও অকার্যকর করে রাখা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে সহাবস্থানের পরিবেশ অবশিষ্ট নেই। দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে মুক্তবুদ্ধি চর্চারা সুতিকাগার বলা হলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিন্নমতের ওপর দলন-পীড়ন চলছে। বিরোধী মতাদর্শের শিক্ষার্থীদের নির্দয়ভাবে পেটানোসহ ক্যাম্পাস ও হল থেকে বল প্রয়োগের মাধ্যমে বের করে দেয়া হচ্ছে। সকল ক্ষেত্রের মেধার  পরিবর্তে দলবাজিকেই প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে। তাই এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য আত্মসচেতন সকল মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অতীত গৌরবকে ফিরিয়ে আনতে জাতীয়তাবাদী ও সমমনাদের একই প্লাটফরমে সমবেত হওয়ার আহ্বান জানান।
এ দিকে গত মঙ্গলবার রাজধানীর উত্তরার একটি রেস্টুরেন্টে রেজিস্টার্ড গ্রাজুয়েট ভোটারদের নিয়ে অপর এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। বিশিষ্ট সংগঠন প্রফেসর ইবনে কারীম আহমদ মিঠুর সভাপতিত্বে এবং এডভোকেট বি এইচ সুজার পরিচালনায় প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাবির সাবেক সিনেট সদস্য, জাতীয়তাবাদী প্যানেলের অন্যতম প্রার্থী ও আদর্শ শিক্ষক পরিষদের জেনারেল সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মো. আশরাফুল হক। আরও বক্তব্য রাখেন ড. আনিসুর রহমান, ডা. ইসরাত জাহান লিজা, এডভোকেট সুরুজ্জামান, অধ্যক্ষ মঞ্জুরুল হক, ডা. আলফাজ উদ্দীন, সাংবাদিক ইসমাইল আহসান, আব্দুস সালাম আকন্দ, জাহানারা আকন্দ, এস এম ইউসুফ আলী ও এস এম ইব্রাহীম খলিল প্রমুখ।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, ক্ষমতাকেন্দ্রীক ও নেতিবাচক রাজনীতির কারণেই প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অতীত ঐতিহ্য ও গৌরব হারিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদাসীনতা ও দলীয় মনোবৃত্তির কারণেই দেশের এই সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠে শিক্ষার সুষ্ঠুপরিবেশ নেই। বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও সে অবস্থা আর অবশিষ্ট নেই। তাই ঢাবির অতীত ঐতিহ্য ও গৌরর ফিরিয়ে আনতে হলে জাতীয়তাবাদী ও দেশপ্রেমী শক্তিকে আবারও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তিনি আসন্ন সিনেট প্রতিনিধি নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী পরিষদের পক্ষে ভোট প্রদান করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সহযোগিতার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, দেশ এক মহাক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা না থাকার কারণেই দেশের স্বাধীনতা-স্বার্বভৌমত্ব আজ মারাত্মক হুমকীর সম্মুখীন। আর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে দেশের সেরা বিদ্যাপিঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর। ঢাবিতে সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ নেই। দলবাজির কারণেই শিক্ষকরা ক্লাশ নিতে ক্রমেই অনাগ্রহী হয়ে ওঠছেন। একশ্রেণির শিক্ষক বিশ্ববিদ্যায়ের খরচে উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশ গেলেও তাদেরকে খুবই কমই দেশে ফিরতে দেখা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকরা আইন ও বিধি লঙ্ঘন করে বিভিন্ন লাভজনক পেশায় নিযুক্ত হচ্ছেন। মূলত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ব্যর্থতার কারণেই এসব অনিয়ম দানা বেঁধে ওঠেছে। তিনি ঢাবিকে সকল প্রকার অনিয়ম থেকে মুক্ত করতে জাতীয়তাবাদী প্যানেলে ভোট দিতে সকল রেজিস্টার্ড গ্রাজুয়েটদের প্রতি আহ্বান জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ