মঙ্গলবার ০২ জুন ২০২০
Online Edition

ভ্রাম্যমাণ আদালত নিয়ে আপিলের অনুমতি পেল সরকার

স্টাফ রিপোর্টার : নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) পরিচালনা অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে সরকার পক্ষের করা তিনটি লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে করা আবেদন) মঞ্জুর করে সরকারকে নিয়মিত আপিলের অনুমতি দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি এসব আপিলের ওপর শুনানির জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে। আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া সময় পর্যন্ত হাইকোর্টের রায় স্থগিত থাকবে। এ ছাড়া আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে উভয় পক্ষকে আপিলের সার সংক্ষেপ জমা দিতেও নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
গতকাল মঙ্গলবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
আদালতে সরকার পক্ষে শুনানিতে ছিলেন এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিযুক্ত আইনজীবী ব্যারিস্টার আমির উল ইসলাম, অতিরিক্ত এটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা ও মমতাজ উদ্দিন ফকির ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আবদুল মতিন খসরু। সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি এটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু। রিট আবেদনকারীদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী হাসান এম এস আজীম।
পরে ডেপুটি এটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু ও আইনজীবী হাসান এম এস আজীম বলেন, আদালত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা অবৈধ করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার পক্ষের তিনটি লিভ মঞ্জুর করে আপিল শুনানির জন্য ১৩ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছেন। এ সব আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত হাইকোর্টের রায় স্থগিত থাকবে বলে আদেশে বলেছেন আদালত।
সকাল সাড়ে নয়টা থেকে লিভ টু আপিলের শুনানি শুরু হয়। প্রথমেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইনজীবী এম আমীর-উল ইসলাম যথা সময়ে উপস্থিত না হওয়ায় আদালত ক্ষোভ প্রকাশ করে এজলাস থেকে উঠে যান। পরে আইনজীবী এম আমীর-উল ইসলাম উপস্থিত হলে পুনরায় এ মামলার শুনানি শুরু হয়। শুনানিতে আমীর-উল ইসলাম মোবাইল কোর্টের প্রয়োজনীয়তা আছে উল্লেখ করে যুক্তি দেন।
শুনানি চলাকালে এম আমীর-উল ইসলামের মোবাইল হঠাৎ বেজে ওঠে। এ সময় ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলামকে উদ্দেশ্য করে হেসে বলেন, আইন সবার জন্য সমান। আপনাকে যদি কনসিডার করি তাহলে অন্যরা ভাববে সিনিয়র দেখে কনসিডার করা হলো। আপনার মোবাইল ফোনটি দেন। এটা ১৫ মিনিটের জন্য ‘সিজ’ করা হলো, আদালতের হেফাজতে নেয়া হলো।
ব্যারিস্টার এম. আমীর উল ইসলামও হাসি মুখে মোবাইল ফোনটি বেঞ্চ কর্মকর্তার হাতে তুলে দেন। এরপর আবার শুনানি শুরু হয়। সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহ্য অনুযায়ী, মামলা চলাকালীন সময়ে আদালত কক্ষে মোবাইল ফোন বেজে উঠলে তা জব্দ করার এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে আর্থিক জরিমানা করা হয়ে থাকে।
এর আগে গত ৯ জানুয়ারি এ বিষয়ে শুনানি পিছিয়ে আজকের দিন ঠিক করেছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে এই লিভ টু আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা সংক্রান্ত হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত থাকবে বলেও জানিয়েছিলেন আদালত। মোতাহার হোসেন সাজু সেদিন জানিয়েছিলেন, এর ফলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত আপাতত চলতে বাধা নেই।
গত বছরের ১১ মে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা সংক্রান্ত ২০০৯ সালের আইনের ১৪টি ধারা ও উপধারা অবৈধ ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে এই আইনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা অবৈধ ঘোষণাও করা হয়। বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি আশিষ রঞ্জন দাস সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় দেন।
পরে সরকারের আবেদনে ১৪ মে আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত রায় স্থগিত করেন। এরপর সরকার পক্ষের কয়েক দফা আবেদনে রায়ের কার্যকারীতা স্থগিত রাখেন আপিল বিভাগ। এরই মধ্যে এ রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করেন সরকার। ওই আপিলের শুনানি শুরু হয় গত ৩ জানুয়ারি। গতকাল মঙ্গলবার তৃতীয় দিনের মতো শুনানি হয়।
২০১১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর ভবন নির্মাণ আইনের কয়েকটি ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে আবাসন কোম্পানি এসথেটিক প্রপ্রার্টিজ ডেভলপমেন্টের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান খানকে ৩০ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত। পরে ২০ সেপ্টেম্বর তিনি জামিনে মুক্তি পান। এরপর ১১ অক্টোবর ভ্রাম্যমাণ আদালত আইনের (মোবাইল কোর্ট অ্যাক্ট, ২০০৯) কয়েকটি ধারা ও উপধারার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদন করেন তিনি। পরে আরো দুটি রিট দায়ের করেন সংক্ষুব্ধরা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ