মঙ্গলবার ০২ জুন ২০২০
Online Edition

মামলার কার্যক্রম অস্বাভাবিক -মওদুদ

স্টাফ রিপোর্টার: জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার কার্যক্রমকে ‘অস্বাভাবিক’ বলে দাবি করেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আইনজীবী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর বকশীবাজারের বিশেষ জজ আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে ১০ম দিনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় তিনি এ দাবি করেন। মওদুদ বলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলাটি প্রথম দিনেই খারিজ করে দেয়া উচিত ছিল। অথচ দীর্ঘদিন ধরে মামলাটি চলছে, এটাই অস্বাভাবিক ঘটনা। তিনি বলেন, মামলাটি আইনানুগভাবে হয়নি। এটি রাজনৈতিক মামলা। এ রকম মামলা বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধেও ছিল।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়েছে। গতকাল সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ শেষ আইনজীবী হিসেবে খালেদা জিয়ার পক্ষে তার বক্তব্য তুলে ধরেন। বিচারক ড. আখতারুজ্জামানের নেতৃত্বে পুরান ঢাকার বকশীবাজার আলিয়া মাদরাসায় স্থাপিত বিশেষ আদালত-৫ এ এ মামলার কার্যক্রম চলছে। মামলায় হাজিরা দিতে বেলা ১১টা ৩৬ মিনিটে খালেদা জিয়া আদালতে আসেন। এর আগে সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে খালেদা জিয়া গুলশানের নিজ বাসভবন ‘ফিরোজা’ থেকে আদালতের উদ্দেশে রওনা হন। খালেদা জিয়ার হাজিরা ঘিরে আদালত ও এর আশপাশের এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা নেয়া হয়। বিপুল সংখ্যক পুলিশ, র‌্যাব মোতায়েন করা ছিল। এছাড়া আদালতের প্রধান ফটকে স্ক্যানার বসিয়ে তল্লাশি করে ভেতরে ঢোকানো হয়েছে।
এদিকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়ের তারিখ আজ বুধবার ঘোষণা হবে বলে জানিয়েছেন দুদুকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল। যুক্তিতর্ক শেষ না হওয়ায় আজকে তারিখ ঘোষণা হয়নি বলে জানান দুদুকের আইনজীবী। কাজল বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে। এখন কাজী সলিমুল হক ও শরিফ উদ্দিনের পক্ষে যুক্তিতর্ক শুরু হয়েছে। যুক্তিতর্কে আজকে তারা কিছু বলেছেন। আগামীকাল তারা আর্গুমেন্ট শেষ করবেন। পরে আমরা আমাদের আর্গুমেন্ট শেষ করে মামলার রায়ের তারিখ পাবো। আমরা ধৈর্য ধরেছি, উইকেট পড়বেই। প্রসিকিউশনের বক্তব্য শেষে আমরা রায়ের তারিখ পাবো বলে আশা করছি। বিকেল সোয়া ৩টার দিকে আদালতের কার্যক্রম শেষ করে বুধবার সকাল ১০টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করা হয়েছে।
আদালত থেকে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার ফেরার পথে আটক নেতাদের মুক্তির দাবিতে পোস্টার-প্ল্যাকার্ড নিয়ে শোডাউন করেছে দলটির নেতাকর্মীরা। এসময় নতুন করে আট নেতাকর্মীকে আটক করা হয়। গতকাল বিকেল পৌনে ৪টার দিকে হাইকোর্ট মাজারের সামনে এ ঘটনা ঘটে। ওই সময় আদালত থেকে বের হয়ে হাইকোর্ট মাজারের সামনে আসে খালেদা জিয়ার গাড়িবহর। তখন হাইকোর্টের ভেতরে অবস্থানরত নেতাকর্মীরা রাস্তায় নেমে আসেন। তবে অন্যান্য দিনের থেকে কিছুটা ব্যতিক্রম ছিল আজকের শোডাউন।
বিগত দিনগুলোতে আটক হওয়ার ভয়ে নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে জড়ো হতে না পারলেও মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকে প্রেসক্লাব-হাইকোর্ট এলাকায় তারা জড়ো হতে থাকেন। তাদের হাতে ছিল আটক নেতাদের মুক্তির দাবিতে পোস্টার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড। মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় শ্লোগানে শ্লোগানে নেতাদের মুক্তির দাবি জানাচ্ছিলেন নেতাকর্মীরা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা শোডাউনকে কেন্দ্র করে দোয়েল চত্বর, হাইকোর্ট মাজার, প্রেসক্লাব, মৎসভবন, কাকরাইল মোড় ও আশপাশের এলাকায় সতর্ক অবস্থানে ছিল। এদিকে হাইকোর্ট এলাকা থেকে বিএনপির আট নেতাকর্মীকে আটক করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে তাৎক্ষণিক তাদের বিস্তারিত পরিচয় পাওয়া যায়নি।
ছাত্রদলের সহ-সভাপতি নাজমুল হাসান জানান, বিএনপি চেয়ারপার্সনের হাজিরাকে কেন্দ্র করে হাইকোর্ট এলাকা থেকে অন্তত আটজনকে আটক করে পুলিশ। শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ভজন সরকার বলেন, খালেদা জিয়ার হাজিরাকে কেন্দ্র করে কয়েকজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নাম-পরিচয় জানানো যাচ্ছে না। যাচাই বাছাই শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো যাবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ