বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

খুলনায় মানববন্ধনে বক্তারা

খুলনা অফিস: নির্যাতনের ফলে নারীদের আত্মহত্যায় বাধ্য করার শাস্তি মৃত্যুদ- করতে হবে। নারী ও কন্যা শিশু ও মানুষ। তাদের বাঁচার অধিকার আছে। তাই মতামত প্রকাশ ও সম্পত্তিতে দিতে হবে অধিকার। চাদনী, তন্বী, বর্ণা রায়, জয়া মন্ডলদের মত আর কাউকে যেন প্রাণ দিতে না হয়। এদের হত্যাকারীরা যাতে পার না পায় তার জন্য আইনকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে হবে। সঠিক তদন্ত করে এদের শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। এভাবে বললেন জনউদ্যোগ, খুলনা ও সেফের মানববন্ধন নাগরিক নেতৃবৃন্দ। গতকাল শনিবার বেলা ১১টায় নগরীর পিকচার প্যালেস মোড়ে জনউদ্যোগ খুলনা ও সেফের উদ্যোগে নির্যাতনের ফলে নারীদের আত্মহত্যায় বাধ্য করার শাস্তি মৃত্যুদন্ড করতে হবে-এই দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জনউদ্যোগ, খুলনার আহবায়ক এডভোকেট কুদরত-ই- খুদার সভাপতিত্বে সেফের সমন্বয়কারী আসাদুজ্জামানের পরিচালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন শিক্ষাবীদ অধ্যক্ষ মুজিবর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট আ ফ ম মহসীন, সিপিবির মহানগর সভাপতি এইচ এম শাহাদৎ, ওয়ার্কার্স পাটির সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য মফিদুল ইসলাম, ফারুকুল ইসলাম, জেপির শফিকুল হামিদ চন্দন, জাতীয় মহিলা শ্রমিকলীগের জেলা সভানেত্রী মনিরা সুলতানা, কমিউনিষ্ট নারী সেলের সুতপা বেদজ্ঞ, শিক্ষক সমিতির নেতা নিতাই পাল, এস এম সোহরাব হোসেন, মাহাবুবুর রহমান খোকন, আবুল কাশেম, উজ্জ্বল কুমার রায়, সিরাজুল ইসলাম, সুব্রত রায়, মাহাবুবুর রহমান বাদশা, জেসমিন জামান, কাজী মিজানুর রহমান, এডভোকেট নিত্যানন্দ ঢালী, প্লাবন পাল ও সাংবাদিক মহেন্দ্র নাথ সেন প্রমুখ।
সভায় বক্তারা বলেন, যৌন নির্যাতন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা থেকে সুরক্ষা, শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করার প্রক্রিয়ায় নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, সহিংসতাপ্রতিরোধে শান্তিরক্ষা কর্মী হিসেবে নারীর ভূমিকার গুরুত্ব, সমর্থন ও সহায়তাদান এবং সহিংসতায়ক্ষতিগ্রস্ত নারী ও শিশুর উপশম ও পুনর্বাসন। উগ্র সহিংসতা, বাস্তুচ্যুতি, দুর্যোগ এবং জলবায়ু পরিবর্তনসম্পর্কিত বিষয়গুলোকে বিবেচনায় নিয়ে স্থানীয় বাস্তবতার আলোকে এই স্তম্ভগুলো বাস্তবায়নের ওপরে জোর দেয়ার আহবান জানান।
সভায় বক্তারা বলেন, সংঘাত প্রতিরোধ, বিরোধ নিষ্পত্তি ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় নারীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা স্বীকার করে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং বিষয়টি (জনসমক্ষে) তুলে ধরার সকল ধরনের প্রচেষ্টা ও উদ্যোগে নারীদের পূর্ণমাত্রায়  সম্পৃক্ততার গুরুত্বের ওপর জোর দেওয়া হয়। পাশাপাশি সংঘাত প্রতিরোধ ও নিষ্পত্তিসংক্রান্ত সিদ্ধান্তগ্রহণ-প্রক্রিয়ায় নারীদের ভূমিকা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। সকল স্তরের নারীদের জন্য এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে হবে যেখানে নারীরা স্বাধীনভাবে কাজ করবে, সমাজে অবদান রাখবে এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে যে সকল বাধা রয়েছে তা দূর করে জাতীয় জীবনে শান্তিময় সংস্কৃতি ও অহিংসাকে আরো বেগবান করবে।
বক্তারা বলেন, বর্তমান বিশ্ব এক সাইবার বিপ্লব সাধন করে চলেছে, যার অংশ নারীরাও। বিপ্লব সাধিত হয়েছে সামাজিক যোগাযোগের ক্ষেত্রেও। তথ্য আদানপ্রদান ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্চা থেকে শুরু করে বিনোদন ও বাণিজ্যের প্রয়োজনে আজ নারী-পুরুষ সবাইকেই এ জগতের দ্বারস্থ হতে হয়। কিন্তু নারী ব্যবহারকারীদের সিংহভাগকেই এখানে নানাভাবে হেনস্থার শিকার হতে হয়। কাউকে কাউকে উগ্রবাদীদের খপ্পরেও পড়তে হয়। প্রতি মুহূর্তে সতর্ক থেকেও নারীরা সাইবার সন্ত্রাসীদের হাত থেকে রেহাই পায় না।
বক্তারা আরো বলেন, প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট উভয় ধরনের দুর্যোগেই নারীকে বহুমাত্রিক দুর্দশার মুখোমুখি হতে হয়।
প্রাকৃতিক দুর্যোগেপরিষ্কার পানি ও পয়:নিষ্কাশনের সুযোগের অভাব নারীদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক সমস্যা তৈরি করে। তা ছাড়া, এ সময় যৌন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার ঘটনাও বেড়ে যায়। পাশাপাশি চরম দুর্দশাগ্রস্ত অবস্থায়ও নারীদের শিশুসহ পরিবার সদস্যদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করতে হয়। 
সভায় বক্তারা বলেন, হিন্দু আইন সংশোধন করে নারীকে সম্পত্তিতে অধিকার দিতে হবে। বিজ্ঞাপনের নারীদের পন্য বানানো যাবে না। সংসদে নারীদের প্রতিনিধি বাড়াতে হবে। সামাজিকভাবে নারীরা যেন সভা, সমাবেশে অবহেলিত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ