বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

সুন্দরবনে দেশী-বিদেশী পর্যটকের ভিড়

মংলা থেকে মনিরুজ্জামান : থার্টি ফাস্ট নাইট উদযাপন ও নতুন ইংরেজি বছরকে স্বাগত জানাতে সুন্দরবনের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে দেশী-বিদেশী পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে। রোববার ও গতকাল সোমবার সকাল থেকে পর্যটকবাহী লঞ্চে করে দর্শনার্থীরা বনের গহিণে প্রবেশ করতে শুরু করেছে। বন্দর শহর ও শিল্প এলাকার হোটেল-মোটেলগুলো লোকজনে পরিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। থার্টিফার্স্ট নাইট ও নতুন বছরকে বরণ করতে সুন্দরবনের করমজল, হাড়বাড়িয়া, হিরণপয়েন্ট, কটকা, কচিখালী ও দুবলার চরে উৎসব কাটাতে নৌ বিহারে পর্যটকরা বনের এ সকল স্পটে অবস্থান নিয়ে আনন্দ উপভোগ করছে।
এদিকে একসাথে অনেক পর্যটকের ভিড় বাড়ায় রীতিমত হিমশিম খেতে হচ্ছে পর্যটন ব্যবসায়ী ও বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। পর্যটকদের নিরাপত্তায় বন বিভাগ ও পুলিশ কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সুন্দরবন ভ্রমণে আসা পর্যটকরা সাধারণত মোংলা হয়েই বনে প্রবেশ করে থাকেন। আর মোংলা থেকে সবচেয়ে কাছাকাছি দর্শনীয় স্থান হলো সুন্দরবনের করমজল ও হারবাড়িয়া। যারা অধিক ব্যয়ে বনের গহিনে যেতে পারেন না তাঁরা স্বল্প খরচেই করমজল ও হারবাড়িয়া ঘুরে দেখেন। করমজলে রয়েছে দেশের একমাত্র লবণ পানির কুমিরের প্রজনন কেন্দ্র। সেখানে গড়ে উঠেছে কচ্ছপের প্রজনন কেন্দ্র। এ ছাড়া আছে কৃত্রিম পদ্ধতিতে তৈরি ছাড়া হরিণ ও বানরের আবাসস্থল, সুউচ্চ ওয়াচ টাওয়ার, ফুট টেইলারসহ বিভিন্ন আকর্ষণীয় স্থাপনা। এখানে অবস্থিত বনের বিভিন্ন প্রজাতির গাছ-পালা, পশু-পাখি, বন্য প্রাণী দেখে দর্শনার্থীরা তৃপ্তি মিটিয়ে থাকেন। করমজল ও হারবাড়িয়া যাওয়ার পথিমধ্যে পশুর চ্যানেলে অবস্থানরত বড় বড় বিদেশী জাহাজের অবস্থান পর্যটকদের বাড়তি তৃপ্তি দেয়।
অপরদিকে সুন্দরবনের গহিণে হিরণ পয়েন্ট, কটকা, কচিখালী, দুবলার চরে রয়েছে সরাসরি সূর্য়দয় ও সূর্যাস্ত দেখার অপার সুযোগ। সাগর পাড়ে বনের অভ্যন্তরে হেটে বেড়ানো হরিণ, বানরসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী দেখে সবাই মুগ্ধ হন।
বন বিভাগ ও বিভিন্ন ট্যুরিস্ট কোম্পানী সূত্রে জানা যায়, নতুন বছরকে স্বাগত ও পুরাতন বছরকে বিদায় জানাতে এবং দিনটিকে স্মরণীয় করিয়ে রাখতে দেশ-বিদেশের পর্যটকেরা সুন্দরবনে আসতে শুরু করেছে। বন বিভাগের ঢাংমারী ও চাঁদপাই ষ্টেশন থেকে পাস (অনুমোদন) নিয়ে দর্শনার্থীরা সুন্দরবনে প্রবেশ করছে। পর্যটকেরা রোববার সকাল থেকে দফায় দফায় লঞ্চ, ট্রলার ও জালিবোটে করে বনের আকর্ষনীয় স্পট করমজল, হাড়বাড়িয়া, হিরণপয়েন্ট, কটকা, কচিখালীতে গিয়ে অবস্থান নিয়ে বর্ষবরণ উৎসবে মেতে উঠেছে। কেউ বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে, আবার কেউ কেউ স্বপরিবারে থার্টিফাস্ট নাইট উদযাপনে সুন্দরবনে ছুটে এসেছে। গতকাল সোমবারও পর্যটকবাহি বিভিন্ন নৌযান সুন্দরবনের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেছে। ট্যুরিস্ট ব্যবসায়ী সুন্দরবন লাইভ ট্যুর’স মালিক গোলাম রহমান বিটু বলেন, থার্টিফাস্ট নাইট ও ইংরেজি নববর্ষ উদযাপনে দেশ-বিদেশ থেকে আসা পর্যটকদের আনাগোনায় হিরণপয়েন্ট, কটকা ও কচিখালী উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে। তার কোম্পানীর কয়েকটি লঞ্চ সুন্দরবনের গহিণে পর্যটকদের নিয়ে অবস্থান করছে।
সুন্দরবনের করমজল পর্যটন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: আজাদ কবির বলেন, সুন্দরবনের অভ্যন্তরে থার্টিফাস্ট নাইট ও নববর্ষ উদযাপনে পর্যটকেরা বড় বড় লঞ্চ নিয়ে সুন্দরবনে অবস্থান করছে। তিনি জানান, এবার আবহাওয়া ও রাজনৈতিক পরিবেশ ভাল থাকায় এ মৌসুমে পর্যটকদের উপচে পড়া ভীড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
মোংলা শহরের বন্দর আবাসিক হোটেলের মালিক শাহনূর টিংকু জানান, পর্যটকদের উপচে পড়া ভীড় সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। অনেক আগ থেকেই হোটেল বুকিং হয়ে যাওয়ার কারণে সব পর্যটকদের সিট দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।
মোংলা থানার অফিসার ইনচার্জ মো: ইকবাল বাহার চৌধুরী বলেন, সুন্দরবনের আগত দর্শনার্থী ও এখানকার পর্যটন করপোরেশনের হোটেল পশুর ছাড়া অন্যান্য হোটেলগুলোতে অবস্থানরত পর্যটকদের নিরাপত্তায় পুলিশের নজরদারী ও টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে। এছাড়া সুন্দরবনের অভ্যন্তরে নৌ পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ