বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

কেরানীগঞ্জের চুন্নুর মামলার জালে রূপগঞ্জের ৫ পরিবার নিঃস্ব!

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা: থানায় অভিযোগ দায়ের করার পরও মিথ্যা মামলা আর প্রতারক স্বামীর হুমকির মুখে পালিয়ে বেড়াচ্ছে রূপগঞ্জের গন্ধবপুর এলাকার অসহায় মোকলেমা ও তার স্বজনেরা। বন্ধ হয়ে গেছে একমাত্র সন্তানের স্কুলে যাওয়া। প্রথম স্বামী তালাক দেওয়ার পর এক সন্তান নিয়ে কষ্টে দিনাতিপাত করতো মোকলেমা। তার স্বপ্ন ছিলো লেখাপড়া শিখিয়ে ছেলেকে বড় করবে। কিন্তু তার সেই স্বপ্ন ছাঁই করে দিয়েছে কেরানীগঞ্জের কলাতিয়া এলাকার প্রতারক চুন্নু মিয়া। চুন্নু মিয়ার ভালবাসার মোহে পড়ে আট বছর আগে তাকে বিয়ে করে মোকলেমা। প্রতারক চুন্নুর রোষানলের শিকার হয়ে মোকলেমা ও তার স্বজনদের ৫ টি পরিবার আজ নিঃস্ব। পুলিশের তথাকথিত সোর্স আর সুপ্রীমকোর্টের বিশেষ লোক পরিচয়ে সে দাবড়ে বেড়ালেও প্রশাসন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তালাক দেওয়ার পরও আট বছরের সন্তানকে নিয়ে পুলিশের ভয়ে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে। পুলিশের তথাকথিত এই সোর্সের খুঁটির জোড় নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঢাকার কেরানীগঞ্জের কলাতলী এলাকার মৃত আবদুল রফিক বয়াতির ছেলে প্রতারক চুন্নু মিয়া। সে নিজেকে কখনো পুলিশের সোর্স, কখনোবা সুপ্রীমকোর্টের বিশেষ লোক পরিচয় দিয়ে দাবড়ে বেড়ায়। স্থান কালভেদে নিজেকে আবার কেরানীগঞ্জের বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য আমানউল্লা আমানের ঘনিষ্টজন বলেও পরিচয় দেয়। নারী লোভী হওয়ার কারণে স্থানীয়রা তাকে ‘লোচ্চা’ বলেই চেনে। অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, পুলিশের কনষ্টেবল, সুপ্রীমকোর্টের পিয়ন ও গার্মেন্টের বিভিন্ন পদে চাকুরী দেওয়ার কথা বলে সে অনেকের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। লোচ্চার পাশাপাশি কলাতলী এলাকার লোকজন তাকে মামলাবাজ চুন্নু হিসেবে বেশি চেনে।  
মোকলেমা বেগম তার জীবনের গল্প বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। যখন তিনি তার জীবনের ঘটে যাওয়া ঘটনা আর প্রতারক চুন্নুর নির্যাতন-নির্মমতার কথা বলছেন, তখন তার চোখে মুখে আতঙ্ক আর শঙ্কার ছায়া দেখা গেছে। বলছিলেন বাড়িতে গেলেই না-জানি পুলিশ গিয়ে হাজির হয়। ঐ চুন্নুর কথায় পুলিশ উঠ-বস করে। রূপগঞ্জের তারাবো পৌরসভার গন্ধর্বপুর এলাকার মোকলেমা বলেন, তার প্রথম স্বামী  তালাক দেওয়ার পর বাসে কথার ছলে পরিচয় হয় চুন্নু মিয়ার সঙ্গে। সেই যে পরিচয়, অতঃপর প্রেম, তারপর বিয়ে। বিয়ের পর থেকেই আগের সংসারের ছেলেকে নিয়ে প্রায়ই ঝগড়া হতো। অবশেষে ২০১১ সালের ১০ এপ্রিল মোকলেমা নিরুপায় হয়ে চুন্নু মিয়াকে তালাক দেয়।
কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস। তালাক দিয়ে রক্ষা হলোনা মোকলেমার। প্রতারক , লম্পট চুন্নু মোকলেমার বিরুদ্ধে ঠুকে দিলো মিথ্যা মামলা। একে একে মোকলেমার স্বজনদের বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করেন। তার বড় ভাই মমিন মিয়ার বিরুদ্ধে কক্সবাজার থানায় যৌতুক আইনে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়। আরেক ভাই আমির হোসেনের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন আইনে রূপগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়। রেহাই পায়নি একমাত্র খালু। বাদ যায়নি বড় বোন মরিয়ম। তার বিরুদ্ধেও মামলা ঠুকে দেওয়া হয়েছে।
মিথ্যা মামলার বোঝা আর পুলিশের দাবড়ানোর ভয়ে এসব পরিবারগুলো এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছে। পুলিশের ভয়ে তারা নির্ঘুম রাত পার করছেন।
 এ ব্যাপারে জানতে অভিযুক্ত চুন্নু মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের জন্য বহু চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। রূপগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ ইসমাঈল হোসেন বলেন, ভুক্তভোগীর অভিযোগ পেয়েছি। খোজ নিয়ে জানা গেছে চুন্নু একজন প্রতারক। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ