শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

বিশেষজ্ঞ হিসেবে ইন্টারপোলে যাচ্ছেন দুই পুলিশ কর্মকর্তা -আইজিপি

স্টাফ রিপোর্টার : জঙ্গিবাদ দমনে বিভিন্ন রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দিতে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলে বিশেষজ্ঞ হিসেবে নিয়োগ পাচ্ছেন বাংলাদেশ পুলিশের দুজন কর্মকর্তা। পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে গতকাল শনিবার পুলিশ সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে এতথ্য জানিয়েছেন আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক।
তিনি বলেন, “সম্প্রতি ইন্টারপোলের এক সভায় আমাদের জঙ্গিবাদ দমনের প্রক্রিয়া প্রশংসিত হয়েছে। ইন্টারপোলের সেক্রেটারি আমার কাছে জঙ্গিবাদ দমনে দুজন কর্মকর্তা চেয়েছেন, যারা অন্যান্য রাষ্ট্রে জঙ্গিবাদ দমনের প্রশিক্ষণ দেবেন। ইতোমধ্যে দুজনের নাম আমরা অনুমোদন করেছি।”
পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, এর আগে খন্ডকালীন প্রশিক্ষণে গেলেও জঙ্গিবাদ দমনে বিশেষজ্ঞ হিসেবে ইন্টারপোলে বাংলাদেশ পুলিশের স্থায়ী নিয়োগের বিষয়টি এবারই প্রথম ঘটতে যাচ্ছে। ‘নিরাপত্তাজনিত কারণে’ ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তার নাম প্রকাশ করতে চাননি তারা।
নব্বই এর দশক থেকে বিভিন্ন সময়ে তৎপরতা দেখা গেলেও বৈশ্বিক পরিমন্ডলে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের উপস্থিতির বিষয়টি বড় আলোচনা হয়ে আসে ২০১৬ সালের ১ জুলাই গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার ঘটনায়। ওই হামলায় ৫ জঙ্গি সহ দেশী-বিদেশী ২২ জন নাগরিকের মৃত্যুর পর দেশব্যাপী একের পর এক অভিযান পরিচালনা করতে থাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, যাতে মারা পড়েন অনেক জঙ্গি।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০১৭ সালে মোট ৩৫টি অভিযান হয়েছে। এতে ৫৭ জন নিহত হয়েছে, যারা প্রত্যেকেই ‘সুইসাইড স্কোয়াড’র সদস্য। গ্রেপ্তারের সংখ্যা শতাধিক।
শহীদুল বলেন, “অতীতের তুলনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন অনেক ভালো। জঙ্গিবাদের যে উত্থান হয়েছিল, তার পুরো নেটওয়ার্ক নস্যাৎ করে দেওয়া হয়েছে।” জঙ্গিবাদ ও মাদক দমনের ক্ষেত্রে সামাজিক সচেতনতার অভাবের কথাও বলেন তিনি। “আমরা জঙ্গি ও মাদক নির্মূল করতে পারিনি। মাদক একটি বড় সমস্যা। মাদকের মধ্যে বড় সমস্যা হচ্ছে ইয়াবা। এসব নিয়ন্ত্রণ করতে হলে শুধু পুলিশ বা আইন দিয়ে কিছু হবে না। এগুলোর জন্য সামাজিক, পারিবারিক জনমত গড়ে তুলতে হবে।”
চলতি বছর চালু হওয়া জরুরি সেবা ৯৯৯ সার্ভিসও কার্যকর ছিল জানিয়ে শহীদুল বলেন, এই পর্যন্ত সাড়ে ৪ লাখ কল এসেছে। এরমধ্যে ১২ হাজারটি কলের সার্ভিস দেয়া হয়েছে। বাকি কল এসেছে তথ্য চেয়ে।
এক প্রশ্নের জবাবে জঙ্গি ও মাদক কোনটাই নির্মূল করা যায়নি বলে মন্তব্য করে আইজিপি বলেন, ‘মাদক নির্মূল করতে পারিনি, জঙ্গিও নির্মূল করতে পারিনি। কারণ দুটোই আসক্তি, তবে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’ জঙ্গিবাদের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘জঙ্গিবাদ একটি আসক্তি। তারা জান্নাতের স্বপ্ন দেখে অ্যাডিক্টেট (আসক্ত) হয়ে যায়।’
মাদকের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মাদকের সবচেয়ে বড় সমস্যা ইয়াবা। প্রতিবেশী দেশ থেকে ইয়াবা আসে। প্রায় একশ’ কিলোমিটার সীমান্ত প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে। এছাড়াও মাছের নৌকায়, সবজির নৌকায় ইয়াবা চলে আসে। এটা প্রতিরোধ করা কঠিন। তারপরও যথেষ্ট কাজ হচ্ছে। গত এক বছরে ২ লাখ ৫৪ হাজার ২৫৭টি মাদক মামলা হয়েছে। কয়েকজন ব্যবসায়ী পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন।’ মাদক প্রতিরোধে সমাজ ও পরিবারে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে বলেও জানান  আইজিপি।
আইজিপি আরও বলেন, ‘পুলিশের কেউ মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকলে তাদের বিষয়ে আমাদের জিরো টলারেন্স। আমরা প্রতিনিয়ত আমাদের পুলিশ সদস্যদের ব্রিফ করি, যাতে তারা এসব বিষয়ে না জড়ায়।’
জঙ্গি মোকাবিলায় পুলিশের ঝুঁকি-কাজের মূল্যায়নের জন্যই এবার সবচেয়ে বেশি পুলিশ পদক দেওয়া হয়েছে জানিয়ে আইজিপি বলেন, ‘পদক দেয়ার ক্ষেত্রে পুলিশ সদর দফতরের একটি হাই-লেভেল কমিটি রয়েছে। তারা মূল্যায়ন করে থাকে। গত বছর সারা দেশে ৩৫টি জঙ্গি আভিযান পরিচালিত হয়েছে। এই অভিযান অত্যন্ত ঝ্ুঁকিপূর্ণ। পুলিশকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হয়। তাদের কাজের মূল্যায়ন করা হয়েছে। তাদের কাজের মূল্যায়ন না করা হলে, তারা কাজ করতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ