শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

শরণখোলায় দু’টি ডক বন্ধ হওয়ার উপক্রম কর্ম হারানোর শঙ্কায় শতাধিক শ্রমিক

 খুলনা অফিস : বাগেরহাটের শরণখোলার রায়েন্দা বাজার পূর্বমাথায় অবস্থিত ওই ডকের জমি বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে নির্মাণাধিন বেড়িবাঁধের আওয়াতাভুক্ত হওয়ায় ডক দু’টি বন্ধ হওয়া উপক্রম হয়েছে। এতে করে এ দু’টি ডকইয়ার্ডের শতাধিক শ্রমিক তাদের কর্মসংস্থান হারাতে যাচ্ছে। ফলে ওই ডকের ওপর নির্ভরশীল শ্রমিকরা তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে পড়েছে চরম অনিশ্চয়তায়। তাছাড়া ডকইয়ার্ড না থাকলে এ এলাকার বঙ্গোপসাগর ও সুন্দরবন কেন্দ্রীক ব্যবসায়ীরা পড়বে চরম সংকটে। বিরূপ প্রভাব পড়বে এ অঞ্চলের অর্থনীতিতে। এসব দাবিতে ডক শ্রমিকরা শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর গণস্বাক্ষরিত লিখিত আবেদন জানিয়েছেন।

লিখিত আবেদনে জানা গেছে, উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটের সর্ব দক্ষিণে শরণখোলার মানুষ বঙ্গোপসাগর ও সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল। যুগ যুগ ধরে এ অঞ্চলের মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মৎস্য ও বনজ এই দুই প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নির্ভর করেই তাদের জীবিকা নির্বাহ করে চলেছে। প্রাকৃতিক এ সম্পদ আহরণের জন্য শত শত নৌকা ও ইঞ্জিন চালিত ট্রলার ব্যবহার করা হয়। তাই এসব নৌকা-ট্রলার তৈরী ও মেরামতের চিন্তা মাথায় রেখে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান নাছির উদ্দিন আকন ১৯৮৫ সালে রায়েন্দা বাজার পূর্বমাথায় বলেশ্বর নদীর পাড়ে শহীদ মনিরুজ্জামান বাদল ডকইয়ার্ড নির্মাণ করেন। ওই একই এলাকায় মৃত আতাহার আলী ফকির ১৯৯০ সালে গড়ে তোলেন ফকির ডক ইয়ার্ড নামে আরেকটি ডক। সেই থেকে এ ডক দু’টিতে স্থানীয় ছাড়াও উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকার নতুন নৌকা-ট্রলার নির্মাণ ও মেরামত কাজ চলে আসছে। 

বাদল ডকইয়ার্ডের মালিক নাছির উদ্দিন আকন ও ফকির ডকইয়ার্ডের পরিচালক মো. আবুল হোসেন জানান, বেড়িবাঁধের কারণে ডক দু’টি অচিরেই বন্ধ হয়ে যাবে। এর ফলে, কাজ হারিয়ে শতাধিক শ্রমিক বেকার হয়ে পড়বে। এসব শ্রমিক পরিবারের পাঁচ শতাধিক মানুষ পড়বে চরম দুর্ভোগে। তাছাড়া, ডক দু’টি বন্ধ হলে এ এলাকার মৎস্য ব্যবসায়ীরা দুর্ভোগে পড়বে। এর ফলে এ অঞ্চলের মানুষের প্রধান জীবিকা মৎস্য ব্যবসারও ক্ষতি হবে। তারা জানান, বেড়িবাঁধ কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসন যাতে ডক দু’টি অন্যত্র স্থানান্তর করার সহযোগীতা করে তাহলে শ্রমিকরা বাঁচতে পারবে। 

ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের পক্ষে বাদল ডকইয়ার্ডের শ্রমিক নেতা মো. লিখন মোল্লা ও ফকির ডকইয়ার্ডের শ্রমিক নেতা সোহাগ হাওলাদার বলেন, দু’টি ডকে একশ’রও বেশি শ্রমিক রয়েছে। ডক বন্ধ হয়ে গেলে তাদের পরিবার নিয়ে না খেয়ে মরতে হবে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে শ্রমিকদের বিকল্প কাজের সুযোগ সৃষ্টি ও ন্যায্য ক্ষতিপূণের দাবি জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।

শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিঙ্কন বিশ্বাস বলেন, ডক শ্রমিকরা ক্ষতিপূরণ দাবি করে তার দপ্তরে একটা লিখিত আবেদন দিয়েছে। ডক দু’টি অন্যত্র স্থানান্তর করা যায় কি না সে ব্যাপারে বিবেচনা করা হবে। তাছাড়া শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণের জন্য বাধ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ করে সমস্যা নিরসনের চেষ্টা করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ