সোমবার ৩০ নবেম্বর ২০২০
Online Edition

দুম্বার মাংস পায়নি দুস্থরা

মাদারীপুর সংবাদদাতা : মাদারীপুরে দুঃস্থদের মধ্যে বিতরণের জন্য সৌদি আরব থেকে আসা দুম্বার মাংস বিভিন্ন উপজেলা পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও জনপ্রতিনিধিরা ভাগাভাগি করে নিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফলে বৃহস্পতিবার রাতে বিতরণ করা কোনো মাংসই প্রকৃত গরিব-দুঃস্থদের ঘরে পৌঁছেনি। এমন কি মাদারীপুরে একমাত্র বালকদের নিয়ে গঠিত সরকারি শিশু পরিবারের এতিমদেরও দেয়া হয়নি মাংসের এক টুকরোও। এতে জনমনে দারুণ ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। সদর উপজেলা সদরে বিষয়টি টক অব দ্য টাউনে পরিণত হয়।
মাদারীপুর জেলা ত্রাণ ও পূর্ণবাসন কর্মকর্তা গোবিন্দ্র চন্দ্র রায় জানান, অসহায় গবীর, দুস্থ ও এতিম পরিবারের জন্যে সৌদ আবার থেকে ১০ কেজি পরিমাণ প্যাকেটে মাদারীপুর সদর উপজেলায় ১০১ কার্টুন, কালকিনি উপজেলায় ১০৬ কার্টুন, রাজৈর উপজেলায় ৬৫ কার্টুন ও শিবচর উপজেলার জন্যে ১৩০ কার্টুন দুম্বার মাংস উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রকল্প বাস্তবায়ক কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়। তারা এতিমখানা, মাদরাসা অথবা জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে গরিবদের মাঝে বিতরণ করে। সরকারি কোন কর্মচারী বা কর্মকর্তা এই মাংস নেয়ার কথা নয়। যদি কেউ নিয়ে থাকে তা অন্যায় হয়েছে।’
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে মাদারীপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে জেলার বরাদ্দকৃত ৪০২ কার্টুন দুম্বার মাংস ৪ উপজেলায় পাঠানো হয়। প্রত্যেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ক কর্মকর্তা এসব মাংস গ্রহণ করে। পরে তাদেরকে বিভিন্ন এতিমখানা ও গবির দুস্থদের মাঝে বিতরণ করার কথা। অথচ সেই মাংস বিতরণে অনিয়ম করে বিভিন্ন ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় নেতা-কর্মী ও সরকারি কর্মচারী-কর্মকর্তারা ভাগ বাটোয়ারা করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। দেয়া হয়নি সরকারিভাবে পরিচালিত চরমুগরিয়ার শিশু পরিবারের এতিমদের।
এমনকি শহরের প্রতিষ্ঠিত কোন এতিমখানা ও মাদরাসায়ও মাংস দেয়া হয়নি। বিষয়টি এলাকার জনমনে দারুণ ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। উপজেলা সদরে বিষয়টি টক অব দ্য টাউনে পরিণত হয়।
নাম প্রকাশে অনুচ্ছিক সদর উপজেলার একাধিক এতিমখানার পরিচালক জানান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শফিউর রহমান ও প্রকল্প কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন ব্যক্তিগত কারণে উপজেলায় কর্মরত না থাকায় উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা জান্নাত আরা নাহিদ বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে কিছু ইউনিয়নের চেয়ারম্যান-মেম্বার, কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় উপস্থিত কয়েকজনের মাঝে মাংস বিতরণ করেছেন। তবে অনেক অনুরোধ করেও প্রতিষ্ঠিত কোন এতিমখানায় মাংস দেয়নি। কিছু সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝেও মাংস ভাগ করে দেয়াও অভিযোগ উঠেছে।
এ ব্যাপারে সরকারি শিশু পরিবার (বালক) সহকারী তত্ত্বাবধায়ক আজিজুল ইসলাম জানান, ‘প্রতি বছর এই এতিমখানার ১০০ জন এতিমদের জন্যে কিছু দুম্বার মাংস দেয়া হয় অথচ এই বছর আমাদের কাউকে কিছু জানানো হয়নি। গোপনে কাদের মাঝে মাংস দেয়া হয়েছে, তাও জানি না।’
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুল ইসলাম জানান, যতটুকু মাংস বরাদ্দ হয়েছে তা উপজেলায় বৃহস্পতিবার বিকেলের মধ্যেই পাঠানো হয়েছিল।
তারা কিভাবে বিতরণ করেছে তা আমার জানা নেই। যদি কেউ অনিয়ম করে থাকে তাহলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ