শনিবার ০৮ আগস্ট ২০২০
Online Edition

কুড়িগ্রামে শৈত্য প্রবাহে দুর্ভোগে ছিন্নমুল মানুষজন

মোস্তাফিজুর রহমান কুড়িগ্রাম থেকে : কুড়িগ্রামে শৈত্য প্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্থ হয়ে পড়েছে। এ জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কনকনে ঠান্ডা আর হিমেল হাওয়ায় খুব প্রয়োজন ছাড়া ঘর হতে বের হচ্ছে না মানুষজন। গরম কাপড়ের অভাবে শীত কষ্টে ভুগছে শিশু, বৃদ্ধসহ নিম্ন আয়ের কর্মজীবী মানুষজন।
উত্তারাঞ্চলের সীমান্ত ঘেষা জেলা কুড়িগ্রামে জেকে বসেছে। এ এলাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা উঠা নামা করছে ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। সন্ধ্যা থেকে দুপুর পর্যন্ত ঘন কুয়াশায় ঢেকে থাকছে পুরো জনপদ। দিনের বেশির ভাগ সময় সুর্য়ের দেখা না মেলায় তাপমাত্রা নিম্নগামী হচ্ছে। এ অবস্থায় শীত কাতর মানুষেরা খর-কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারনের চেষ্টা করছে। বিশেষ করে ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তাসহ ১৬ টি নদ-নদীর অববাহিকায় ৩শতাধিক চরের মানুষ গরম কাপড়ের অভাবে তীব্র শীত কষ্টে ভুগছে। এমতাবস্থায় কাজে বেড়াতে পারছে না শ্রমজীবী মানুষেরা। দুর্ভোগ বাড়তে শুরু করেছে হত দরিদ্র পরিবারগুলোর শিশু ও বৃদ্ধদের।
স্বপ্ল আয়ের মানুষজন গরম কাপড় কিনতে না পারায় খর-কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন তারা।
কনকনে ঠান্ডায় কাজে বের হতে না পাড়ায় পরিবার পরিজন নিয়ে কষ্টে দিন কাটছে দিনমজুর শ্রেণীর মানুষজনের।
এব্যাপারে কুড়িগ্রামের কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ অফিসের পর্যবেক্ষক সুবল চন্দ্র সরকার জানান, বৃহস্পতি ও শুক্রবার কুড়িগ্রামের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮.৩ ও ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাতে তাপমাত্রা আরো নিম্নগামী হতে পারে।
চুয়াডাঙ্গা সদর সংবাদদাতা : শুক্রবারও চুয়াডাঙ্গায় ছিল তীব্র শীত। গত বুধ ও বৃহস্পতিবার চুয়াডাঙ্গায় ছিল দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। বৃহস্পতিবার এ মৌসুমের সর্বনিম্ম তাপমাত্রা ছিল চুয়াডাঙ্গায়, ৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শুক্রবার তাপমাত্রা কিছুটা  বেড়ে দাড়ায় ৮ ডিগ্রিতে।
শীতের সাথে সাথে দেখা দিয়েছে ঘন কুয়াশা। ঘন কুয়াশার কারণে বোরো ধানের বীজ তলার ক্ষতি হওয়ার আশংকা আছে। এ ব্যাপারে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তালহা জুবাইর মাসরুর জানান, বীজ তলায় জমে থাকা শিশির ফেলে দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে কৃষকদের।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা  গেছে, গত তিনদিনে প্রায় ৬০০ শিশু ও বয়স্ক মানুষ শীত জনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নিয়েছেন।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে আসা নূরনগর গ্রামের হারেজ আলী জানান, তার ছেলে মিলন (৪) ঠান্ডা ও জ্বরে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ্য হয়ে পড়েছে। তাকে হাসপাতালে এনে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মাহবুবুর রহমান মিলন বলেন, প্রচন্ড শীতে শিশুদের কোল্ড ডায়রিয়া হওয়ার আশংকা থাকে। শিশুদের যত্ন নিতে হবে। বাইরের খাবার খাওয়ানো যাবে না। অসুস্থ্য হলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।
চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ সামাদুল হক জানান, নতুন বছরের শুরুতেই চুয়াডাঙ্গার তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির নিচে নেমে এসেছে। এ অবস্থা আরো দুএকদিন থাকতে পারে। শীতের পাশাপাশি রয়েছে তীব্র কুয়াশা। সকালে সূর্যের দেখা মিলছে দেরিতে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ