মঙ্গলবার ১১ আগস্ট ২০২০
Online Edition

সুন্দরবনের আশপাশে ১৯টি  অবৈধ করাতকল!

 

খুলনা অফিস : খুলনার দাকোপ উপজেলায় সুন্দরবনের কাছাকাছি অবৈধভাবে ১৯টি করাতকল গড়ে উঠেছে। আইন অমান্য করে গড়ে ওঠা এসব করাতকলে (স’মিল) সুন্দরবন থেকে পাচার হয়ে আসা বিভিন্ন প্রকারের সরকার নিষিদ্ধ গাছ চেরাই করে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে সুন্দরবনের বনজসম্পদ, আর এসব থেকে সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমানের রাজস্ব।

গত কয়েকদিন উপজেলার কৈলাশগঞ্জ, বাজুয়া ও চালনা পৌর এলাকা ঘুরে দেখা যায়, এসকল অবৈধ করাতকলের কারণে যানবাহনের চালক, যাত্রীসহ পথচারীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। 

সুত্র জানায়, উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার বিভিন্ন বাজার সংলগ্ন এলাকায় অবৈধ ভাবে ১৯টি করাত কল গড়ে উঠেছে। তার মধ্যে দুইটি করাতকলের লাইসেন্স রয়েছে। বন বিভাগের নীতিমালায় (সংরক্ষিত আইন) সুন্দরবনের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে করাতকল স্থাপন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তারপরেও নীতিমালা ভেঙ্গে সরকার দলীয় স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের ছত্রছায়ায় লাইসেন্স বিহীন গড়ে ওঠা এসব অবৈধ করাতকলে দিন-রাত সুন্দরবন থেকে পাচার হয়ে আসা কর্তন নিষিদ্ধ সুন্দরীসহ নানা প্রকারের কাঠ চেরাই করা হচ্ছে। উপজেলা কমিউনিষ্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক কিশোর রায় বলেন, এসব অবৈধ করাতকলের মালিকরা বনবিভাগসহ স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কতিপয় কর্মকর্তাদের সাথে মিলেমিশে অনিয়মকে নিয়মে পরিনত করে দীর্ঘদিন যাবৎ ব্যবসা চালিয়ে আসছে।

সূত্রে আরও জানা যায়, পশ্চিম বনবিভাগ এসব অবৈধ করাতকল ৩০ দিনের মধ্যে অন্যত্র সরিয়ে সুন্দরবনের ১০ কিমি বাইরে ‘স’মিল স্থাপন পূর্বক সরকার প্রদত্ত লাইসেন্স নিয়ে সঠিক ভাবে পরিচালনার জন্য গত ২২মে মিল মালিকদের নোটিশ দেন।

এলাকাবাসী জানান, অনেক দিন পরপর প্রশাসন এসব করাতকলের দু’একটিতে লোক দেখানো নামমাত্রা অভিযান চালিয়ে জরিমানা আদায় করলেও কখনো সম্পূর্ণ বন্ধ হতে দেখা যায়নি। 

নাম প্রকার্শে অন ইচ্ছুক এক স্কুল শিক্ষক বলেন, রাস্তার পাশে করাতকল থাকায় স্কুলগামী ছাত্র-ছাত্রীদের স্কুলে আসতে সমস্যা হয়। যখন করাতকল চলে, তখন শব্দ দূষণসহ কাঠের গুঁড়া বাতাসে ছড়িয়ে নিঃশ্বাসের সাথে নাকের ভিতর দিয়ে মানব শরীরে প্রবেশ করে। এতে ছাত্র/ ছাত্রীসহ মানুষের শরীরের ব্যাপক রোগব্যাধী হচ্ছে। 

সুন্দরবন পশ্চিম বনবিভাগের খুলনা রেঞ্জের সুতারখালী ষ্টেশন কর্মকর্তা মোঃ শফিউর রহমান বলেন, উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের প্রাপ্ত পত্রের পরিপ্রেক্ষিতে অবৈধ ভাবে স্থাপিত এসব করাতকল সরিয়ে সুন্দরবনের ১০ কিমি বাইরে স্থাপন পূর্বক সরকারী লাইসেন্স নিয়ে পরিচালনার জন্য নোটিশ দেয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক নেতা কানাই মন্ডল বলেন, বিশ্বব্যাপী যখন সুন্দরবন নিয়ে আন্দোলন করে, তখন কিছু স্বাথর্ঃনেশী লোকেরা সুন্দরবনকে বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দেয়। তার একটি উদাহরণ এসকল অবৈধ করাতকল।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মারুফুল আলম বলেন, করাতকলের লাইসেন্স‘র জন্য জোর তাগিদ দেয়া হচ্ছে। বিশেষ করে আমাদের বনবিভাগ জানুয়ারী থেকে প্রত্যেকটা করাতকলে যাবে, লাইসেন্স না থাকলে সঙ্গে সঙ্গে বাতিল করা হবে। তিনি আরোও জানান, বাজুয়ার চড়ার বাঁধে যে কয়টি করাতকল আছে প্রত্যেক মিল মালিকে নোটিশ দিয়েছি। তাদের লাইসেন্স থাকলেও জনবসতিপূর্ণ এলাকায় করাতকল থাকায় পরিবেশের ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এজন্য এসব করাতকল বন্ধ করে দেওয়া হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ