মঙ্গলবার ১১ আগস্ট ২০২০
Online Edition

ডিজিটাল বাস টিকেট সিস্টেম-৬ লেন ফ্লাইওভার উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

গতকাল বৃহস্পতিবার গণভবন থেকে ভিডিও সম্মেলনের মাধ্যমে র‌্যাপিড পাস কার্ড-এর শুভ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা -বাসস

 

বাসস : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে প্রথমবারের মত নগরবাসীর গণপরিবহনের যাতায়াতের সুবিধার্থে ডিজিটাল ‘র‌্যাপিড পাস’ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন।

তিনি গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে বিআরটিসি কর্মকর্তা এবং যাত্রীদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

জাপানের আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থা জাইকা’র আর্থিক সহায়তায় ঢাকা ট্রান্সপোর্ট কোঅর্ডিনেশন অথরিটি (ডিটিসিএ) এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে আমরা যে ব্যবস্থা করেছি সেটা হচ্ছে র‌্যাপিড পাস। এরজন্য বাসে উঠে আর টাকা বের করতে হবে না। কার্ডটা থাকলেই হবে।

ভবিষ্যতে এই কার্ডের মাধ্যমে জনগণ তাদের বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাসসহ নানা ইউটিলিটি বিল দিতে পারবেন বলে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করে বলেন, উন্নত দেশের মত ভ্রমণ, শপিংসহ নানা সুযোগ সুবিধা জনগণ যেন কার্ডের মাধ্যমে পেতে পারে সে ব্যবস্থাও করা হবে।

তিনি প্রকল্পটিতে সহযোগিতার জন্য এবং বাংলাদেশে পরিচালিত সকল প্রকল্পের জন্য জাপান সরকার এবং অনুষ্ঠানে উপস্থিত জাপান সরকারের প্রতিনিধিকে ধন্যবাদ জানান।

প্রথমবারের মত ই-টিকেটিংয়ের মাধ্যমে এ দিন যাত্রা শুরু করা বিআরটিসি’র মতিঝিল টু নবীনগরগামী যাত্রীদের সঙ্গে এ সময় প্রধানমন্ত্রী মত বিনিময় করেন।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সেনাবাহিনী প্রধান জেলারেল আবু বেলাল মুহম্মদ শফিউল হক এবং জাপান সরকারের প্রতিনিধি মাসাতো ওয়াতানাবে এ সময় গণভবনে উপস্থিত ছিলেন। মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।

পরে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ফেনী শহরের মহিপালে দেশের প্রথম ও একমাত্র সিক্স লেনের ফ্লাইওভার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই ফ্লাইওভারের নির্মাণ কাজ নির্ধারিত সময়ের ছয় মাস আগেই সম্পন্ন হয়েছে।

মহিপাল ফ্লাইওভার ছয় লেনের হলেও সেতুর নিচের দুই পাশে আরো চারটি সার্ভিস লেন চালু থাকবে। মোট লেন সংখ্যা হবে ১০টি। এই প্রকল্পে মোট ব্যয় হয়েছে ১৮১ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন বিগ্রেড প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মুহম্মদ শফিউল হক শুভেচ্ছা বক্তৃতা করেন।

সড়ক পরিবহন ও সেতু বিভাগের সচিব মো. নজরুল ইসলাম অনুষ্ঠানে ভিডিও প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে এই সিক্স লেন ফ্লাইওভার প্রকল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

এই ফ্লাইওভারটি ফেনী হয়ে ঢাকা, কুমিল্লা, চাঁদপুর, চট্টগ্রাম, পার্বত্য জেলাসমূহ, কক্সবাজার, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ভোলা, বরিশাল, ফরিদপুর, সিলেট অঞ্চলে যাতায়াতকারী বিভিন্ন যানবাহন নিয়মিত যানজটের কবল থেকে মুক্তি পাবে, স্বস্তি পাবেন যাত্রীরাও।

এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০১৫ সালের ১ এপ্রিল। এর মূল দৈর্ঘ্য ৬৬০ মিটার, প্রস্থ ২৪ দশমিক ৬২ মিটার, সার্ভিস রোডের দৈর্ঘ্য এক হাজার ৩৭০ মিটার, সার্ভিস রোডের প্রস্থ ৭ দশমিক ৫ মিটার, সংযোগ সড়কের দৈর্ঘ্য ১ হাজার ১৬০ মিটার, ১১টি স্প্যান, ফুটপাথের দৈর্ঘ্য ২ হাজার ২১০ মিটার, পিসি গার্ডার ১৩২টি।

 নোয়াখালী বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প উদ্বোধন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তাঁর সরকার দেশের সার্বিক উন্নয়নে অব্যাহত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং এই লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পয়নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে নোয়াখালী বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প উদ্বোধনকালে তিনি এই কথা বলেন।

 মেঘনা ও হাতিয়া নদীর ভাঙ্গন রোধে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীনে প্রকল্পটির প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে ৩শ’ ২৫ কোটি টাকা। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ৩৪তম ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন বিগ্রেড প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। আগামী ২০২১ সাল নাগাদ এর কাজ শেষ হবার কথা রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে ১৬ হাজার মেট্রিক টন খাদ্য শস্য উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং ২২৩ মেট্রিক টন মৎস উৎপাদন বাড়বে।

 নোয়াখালী অত্যন্ত পুরনো জেলা হলেও সবসময় অবহেলিত ছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করতে বাঁচতে হয় বলে এই জেলার মানুষ খুব কষ্ট সহিষ্ণু। সাগরের কাছাকাছি এই জেলার একদিকে মেঘনা নদী অন্যদিকে হাতিয়া নদী। তাই প্রতিনিয়ত দুর্যোগের শিকার হয় এই জেলার মানুষ।

এখানে একটি প্রকল্পের সঙ্গে অনেকগুলো কাজ সম্পৃক্ত উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখানে মেঘনা ক্রস ড্যাম নির্মাণ হবে। এর ফলে এখন থেকে ভূমি উত্তোলিত হয়ে মোট ভূমির আয়তন বাড়বে। যেখাানে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে বনায়ন করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় নদী এবং সাগর থেকে ভূমি উত্তোলন করে জমির পরিমাণ বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সেসব স্থানে ব্যাপক বনায়নের নির্দেশ দেন।

প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নেরর সঙ্গে সঙ্গে সেখানে ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণও করতে হবে। যাতে যেকোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে ভূমি মুক্ত রাখা যায়।

তিনি বলেন, এখানে প্রকল্পে থাকবে ২৩টি খালের ১৮২ কিলোমিটার পুনর্খনন, নদী ড্রেজিং হবে ৭ কি.মি, চ্যানেলের ও লুপ খাল পুনর্খনন, ১০ কি.মি বাঁধ নির্মাণ, একটি ক্লোজার ও দুটি রেগুলেটর নির্মাণ করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে প্রকল্পটি উদ্বোধনের জন্য নোয়াখালীবাসীকে অভিন্দন এবং ইংরেজি নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ