শনিবার ১১ জুলাই ২০২০
Online Edition

নারী টেনিসে তরুণদের দাপট

মোহাম্মদ জাফর ইকবাল : দেখতে দেখতে আরও একটি বছরের সমাপ্তি ঘটলো। টেনিসে ছেলেদের নিয়ে বেশী আলোচনা হলেও এর থেকে পিছিয়ে নেই মেয়েরাও। গেল বছরে টেনিস দুনিয়ায় আবির্ভাব ঘটে বেশ কিছু তরুণ প্রতিভাবান তারকার। তাদের মধ্যে জেলেনা ওস্টাপেঙ্কো, স্লোয়ান স্টিফেন্স, ক্যারোলিনা পিসকোভা, জোহানা কন্টা, মেডিসন কেইস, সিমোনা হ্যালেপ ও গারবিন মুগুরুজার নাম অন্যতম। ২০১৭ সালের শেষ তিন গ্র্যান্ডস্লাম টুর্নামেন্টেই দাপট দেখা যায় তরুণদের।
বিদায়ী বছরেই নতুন ইতিহাস গড়েন জেলেনা ওস্টাপেঙ্কো। রোমানিয়ার সিমোনা হ্যালেপকে পরাজিত করে ফ্রেঞ্চ ওপেনের শিরোপা জয়ের স্বাদ পান তিনি। লাটভিয়ার প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ফরাসী ওপেনের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অবিস্মরণীয় কীর্তি গড়েন তরুণ প্রতিভাবান এই টেনিস তারকা। শুধু পারফর্মেন্স দিয়েই যে বিশ্বকে জয় করা যায় তাই প্রমাণ করে দেখালেন ওস্টাপেঙ্কো। ১৯৯০ দশকে জন্মগ্রহণকারী তৃতীয় মহিলা হিসেবে গ্র্যান্ডস‍াম জয়ের স্বাদ পান তিনি। উইম্বলডনে চমক উপহার দেন গারবিন মুগুরুজা। কেননা মেয়েদের এককের ফাইনালে এক রকম শিরোপার খুব কাছেই পৌঁছে গিয়েছিলেন ভেনাস উইলিয়ামস। কিন্তু হলো উল্টোটা। ভক্তরা অপেক্ষায় ছিলেন ভেনাসের ইতিহাস গড়ার।
কিন্তু উল্টোটাই ঘটল। গারবিন মুগুরুজা ভেনাসকে হতাশ করে জয় করে নিলেন ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় গ্র্যান্ডস্লাম শিরোপা। অবশ্য উইম্বলডনে এটাই তার প্রথম। সেই সঙ্গে দারুণ একটা গৌরবও যোগ হলো মুগুরুজার রেকর্ড বুকে। গত বছর ফ্রেঞ্চ ওপেনে সেরেনা উইলিয়ামসকে হারিয়েই ক্যারিয়ারের প্রথম গ্র্যান্ডস্লাম শিরোপা জিতেছিলেন তিনি। এবার বড় বোন ভেনাস উইলিয়ামসকেও হারিয়ে জিতেন দ্বিতীয় মেজর শিরোপা। গারবিন মুগুরুজার বর্তমান কোচ কনচিটা মার্টিনেজ ১৯৯৪ সালে মার্টিনা নাভ্রাতিলোভাকে হারিয়ে প্রথম স্প্যানিশ হিসেবে উইম্বলডনে স্পেনের জয়-পতাকা উড়িয়েছিলেন। সেই মার্টিনেজের শিষ্যই এবার উইম্বলডনে স্পেনের পতাকা ওড়ালেন।
গতবার লন্ডনে ইতিহাস ডাকছিল ভেনাসকে। জিতলেই ওপেন যুগে সবচেয়ে বেশি বয়সে মহিলা একক শিরোপা জয়ের রেকর্ড গড়তেন তিনি। শুধু ওপেন যুগ কেন, ইতিহাসত শতাব্দী প্রাচীন এক কীর্তিকেও টেনে আনত। ভেনাস উইলিয়ামস জিতলে ১৯০৮ সালে শার্লট স্টেরির পর সবচেয়ে বেশি বয়সী মহিলা চ্যাম্পিয়ন দেখত গ্র্যান্ডস্লাম। কিন্তু তা আর হতে দেননি মুগুরুজা। মৌসুমের শেষ মেজর টুর্নামেন্টে নিজের জাত চেনান স্লোয়ান স্টিফেন্স। স্বদেশী মেডিসন কেইসকে হারিয়ে ইউএস ওপেনের শিরোপা জিতেন যুক্তরাষ্ট্রের এই টেনিস তারকা। প্রথমবারের মতো গ্র্যান্ডস্লামের ফাইনালে উঠেছিলেন শৈশব থেকেই দুই ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তবে শেষের হাসিটা হাসেন স্টিফেন্সই। অথচ, পায়ের চোটের কারণে ১১ মাস কোর্টের বাইরে ছিলেন তিনি। ইউএস ওপেন জয়ের মাত্র ছয় সপ্তাহ আগেও ছিলেন র‌্যাংকিংয়ের ৯৫৭তম স্থানে। সেখান থেকেই ঘুরে দাঁড়িয়ে শিরোপা জিতলেন ২৪ বছর বয়সী এই খেলোয়াড়।
টেনিসের উন্মুক্ত যুগে পঞ্চম অবাছাই খেলোয়াড় হিসেবে কোন গ্র্যান্ডস্লামের মহিলা এককের শিরোপা জিতেন স্টিফেন্স। ২০০২ সালে জেনিফার ক্যাপ্রিয়াতির অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জয়ের পর উইলিয়ামস বোনদের বাইরে প্রথম যুক্তরাষ্ট্রের কোন মহিলা খেলোয়াড় গ্র্যান্ডস্লামের শিরোপা জিতলেন। তাদের উপস্থিতিতে আড়ালে পড়ে যান টেনিস দুনিয়ায় গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে আলোচনার তুঙ্গে থাকা সেরেনা উইলিয়ামস, মারিয়া শারাপোভা, ভিক্টোরিয়া আজারেঙ্কা, আনা ইভানোভিচ কিংবা পেত্রা কেভিতোভার মতো তারকারা। তবে ভক্ত-অনুরাগীরা তাদের মিস করেছেন ঠিকই। নিষেধাজ্ঞার কারণে দীর্ঘ ১৫ মাস নির্বাসনে ছিলেন শারাপোভা। তার অনুপস্থিতি খুব ভালভাবেই উপলব্ধি করেছেন টেনিসপ্রেমীরা। নির্বাসন থেকে কোর্টে ফিরেছেন রাশিয়ান টেনিসের এই গ্যামারগার্ল। যদিও ফিরতে পারেননি স্বরুপে। এছাড়া ফ্রেঞ্চ ওপেনে খেলার অনুমতি মেলেনি তার। উইম্বলডনে সুযোগ পেলেও বাধা হয়ে দাঁড়ায় চোট। মৌসুমের পরের সময়টাতেও কোর্টে নিষ্প্রভ ছিলেন তিনি। অন্তঃসত্ত্বার কারণে অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জয়ের পর থেকেই কোর্টের বাইরে সেরেনা।
প্রথমবারের মতো কন্যা সন্তানের মা হওয়া ২৩ গ্র্যান্ডস্লামজয়ী সেরেনার চোখ আবুধাবির এক প্রদশর্নী ম্যাচ দিয়ে কোর্টে ফেরায়। নতুন মওসুমের প্রথম গ্র্যান্ডস্লামে ফেরার বিষয়ে নিশ্চিত করেছে আয়োজক কর্তৃপক্ষও। তবে এই ফেরার পর সেই ধার কি থাকবে সেরেনার? এমন সংশয় প্রকাশ করেছেন মা হওয়ার পর টেনিসে সাফল্য পাওয়া কিম ক্লাইস্টার্সও। বেলজিয়ামের সাবেক এই তারকার মতে, মা হওয়ার পর কোর্টে ফিরতে সেরেনার প্রধান অন্তরায় বয়স। তবে সেরেনা যে জাত চ্যাম্পিয়ন সেটা বলবে সময়ই।
বয়সের ভারে সেরেনার বড় বোন ভেনাস উইলিয়ামস বারবার ব্যর্থ হচ্ছেন গ্র্যান্ডস্লাম জয়ের স্বাদ পাওয়া থেকে। মওসুমের প্রথম গ্র্যান্ডসাম অস্ট্রেলিয়ান এবং সর্বশেষ উইম্বলডনের ফাইনাল খেলেন তিনি। কিন্তু দুইবারই স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় ডুবেছেন ৩৭ বছর বয়সী ভেনাস। এদিকে সন্তান হওয়ার কারণে গত বছর থেকে টেনিস থেকে ছুটি নেন ভিক্টোরিয়া আজারেঙ্কা। এরপর তৈরি হয় সন্তান নিয়ে পারিবারিক ঝামেলা। ইউএস ওপেনে খেলার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত নাম প্রত্যাহার করে নেন তিনি। তবে সবকিছু ঠিক থাকলে অস্ট্রেলিয়ান ওপেন দিয়েই কোর্টে ফিরবেন দুইবারের চ্যাম্পিয়ন। সেজন্য ওয়াইল্ডকার্ডও পেয়ে গেছেন ইতোমধ্যে। শারাপোভা-সেরেনা-আজারেঙ্কার চেয়েও ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছিলেন পেত্রা কেভিতোভা। গত বছরের শেষ দিকে তো নিজ বাড়িতেই দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে মারাত্মক আহত হয়েছিলেন এই চেক প্রজাতন্ত্রের টেনিস তারকা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ