শনিবার ১১ জুলাই ২০২০
Online Edition

নতুন বছরে ক্রীড়াঙ্গনের প্রত্যাশা

মোহাম্মদ সুমন বাকী : বাংলাদেশে ক্রীড়া ডিসিপ্লিনের অভাব নেই। এটা সকলের জানা। লাল-সবুজ পতাকা দেশের প্রেক্ষাপটে ফুটবল, ক্রিকেট, হকি, ভলিবল, ব্যাডমিন্টন, দাবা, হ্যান্ডবল, কাবাডির নাম সবার মুখে মুখে শোনা যায়। বাকী ক্রীড়া ডিসিপ্লিনের আওয়াজটা একেবারেই বন্ধ। তা সত্য কথা। যা বিন্দু পরিমান ভাবা যায় না! প্রশ্ন জাগে, সেটা কেন? অথচ সাফল্যের ছোঁয়া আছে দেশ এবং বিদেশের মাটিতে। এরপরও অদৃশ্য কারণে অবহেলায় পড়ে থাকে সে সব খেলা। মনে হয় ফুট পাথের উপর ঘুমিয়ে থাকা অবুঝ শিশু এটা। একটু ব্যাখ্যা করলে স্পষ্ট ধারায় বুঝতে পারবেন এই বিষয়টি। এখানে লুকোচুরির কিছুই নেই। ফুটপাথের শিশুর কোনো কদর নেই। সেটা নতুন বিষয় নয়। চিরস্থায়ী করুন পরিস্থিতিতে এমন কষ্ট লাগা দৃশ্যটি সকলের কাছে পরিচিত। সেই শিশুর ন্যায় কদর না পাওয়া খেলা অভাব নেই বাংলাদেশে। অথচ আন্তর্জতিক প্রতিযোগিতায় সাফল্য রয়েছে ভুরি ভুরি। এমনই এক ক্রীড়ার নাম উশু। সেটা পড়ে আছে অবহেলায়। ২০১০সালে সাউথ এশিয়ান (এস এ) গেমসে এর স্পর্শে বাংলাদেশ দলের অভিষেক ঘটে। আন্তর্জাতিক লড়াইয়ের সূচনাতে অভাবনীয় সাফল্য পায় লাল সবুজ পতাকা টিম। সেটা তাক লাগিয়ে দেয় সবাইকে। উশুর গেমস লড়াইয়ে বাংলাদেশ স্বর্ণসহ বিভিন্ন পদক জিতে নেয় বীরদর্পে। তখন অনেকের নজর পড়ে আওয়াজের উত্তেজনার ক্রীড়া উশুর উপর। অবশ্য সেটা ঢাকা কেন্দিক। বিপরীতে চিত্রে এর ছিটাফোঁটা দেখা যায়নি দেশের অন্য জেলায়। তা অবাক করার ধারায়! নারায়ণগঞ্জকে এ সূত্রে উদাহরণ টানা যায়। উশু কি? যা বলতে পারবে না এই জেলার সাড়ে নিরানব্বই ভাগ ক্রীড়া প্রেমী। কারই কোনো প্রকার চর্চা নেই এখানে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশন এবং ফেডারেশনের কর্মকর্তারা একমত হবেন নিঃসন্দেহে। তা কি নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে? ৬৪ জেলার বাংলাদেশ। এরপর ও নতুন ভাবে উল্লেখ করার কারণ আছে। যার মাধ্যমে স্পষ্ট ভাষায় প্রশ্ন উঁকি দেয়, কয়টি জেলায় উশু টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়? সঠিক উত্তর কি পাওয়া যাবে? একেবারেই না! সাফল্য পাবার আলোর ধারায় কদর ছাড়া পড়ে রয়েছে উশু। ব্যতিক্রম দেখা গেছে কক্সবাজার জেলায়। স্থানীয় ক্রীড়া সংস্থার অধীনে খেলাটির চর্চা হচ্ছে নিয়মিতভাবে। প্লেয়ারদের মাঝে আন্তরিকতাফুটে উঠে একঝাঁক কিশোরীর মেয়ের পদার্পনে। তবে সমস্যা অন্যখানে। স্পন্সর নেই, কমন অভাবের চিরধারাতে। তা কলমের লেখায় ইতিহাস হয়ে থাকে। আনসার এর প্রিয়া জেলা টিমের সুমি, রিয়ারা পরিচিত মুখ যেখানে।স্পন্সর না পাবার জন্য নিয়মিত উশু চর্চা হবার পরও হতাশা ঘিরে আছে সেখানে।  স্পোর্টস লাভার ও বিনোদন ভুবনের বাসিন্দা সে। জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী তিনি। তার নাম পৌষী। স্পন্সর প্রসঙ্গে সে অভিমত ব্যক্ত করে এ ভাবে-বাংলাদেশের যে কোনো খেলাধুলায় নারী খেলোয়াড়রা অবহেলিত। কথাটি অপ্রিয় হলেও শতভাগ সত্য। সঙ্গীত ভুবনে যে পরিমান স্পন্সর রয়েছে সে তুলনায় নারী ক্রীড়াঙ্গনে সেটা কি আছে? আমার প্রশ্ন দেশের কোটি কোটি ক্রীড়া ভক্তের কাছে রাখলাম? আমার মতে, এই ভুবনে মেয়েদের প্রতিভা বিকাশে স্পন্সর প্রতিষ্ঠানের এগিয়ে আসা উচিত। পৌষীর সঙ্গে একই সুরে তাল মিলিয়ে উশু প্রসঙ্গে মিরপুর আরামবাগ নিবাসী ম্যাজিস্ট্রেট আফরিনা ইসলাম সায়কা বলেছেন, খেলাটি খুবই সম্ভাবনাময়। মূলত এর পরিচিতিটা পেয়েছি কয়েক বছর আগে। মিডিয়ার মাধ্যমে। ভবিষ্যতে খেলাধুলা অঙ্গনে মেয়েরা বাংলাদেশের জন্য সাফল্যের ধারা বজায় রাখবে এমন প্রত্যাশা রাখি আমি। নারায়ণগঞ্জ জেলার সন্তান হিসেবে উশুর প্রচলন চাই নিয়মিতভাবে। বিষয়টিতে স্থানীয় ক্রীড়া সংস্থার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। সম্ভাবনাময় খেলার তালিকায় আছে জুডো কারাতে, তায়কোয়ান্দো, সাঁতার, আরচ্যারী। অথচ সারা দেশে এ সব ক্রীড়ার তেমন প্রচলন নেই! বিভিন্ন ক্যাটাগরির প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ দল পদক জয় করছে। যা সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়।
এই পরিস্থিতিতে মুখ থুবরে পড়ে আছে সাঁতার, আরচ্যারী বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক এবং সাবেক এমপি হারুন আর রশিদ চৌধুরীর বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চলের লক্ষ্মীপুর জেলায়। তা খুবই দুঃখজনক এখানে কবে সর্বশেষ সাঁতার, আরচ্যারী টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে? সেটা ফেডারেশন ও ক্রীড়া সংস্থার কর্মকর্তারর বলতে পারবেন না। যা স্থানীয় ক্রীড়া প্রেমীদের কাছে কষ্টদায়ক। আপাতত আরচ্যারী বিষয়টি বাদ দেয়া যাক। কিন্তু সাঁতার! ফেনী, লক্ষীপুরসহ বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চলে পুকুরে, নদী সাগর হলো অন্যতম বৈশিষ্ট। যা গ্রাম বাংলার আকর্ষনীয় রূপ ফুটিয়ে তুলে। যেখানে পানি করে থৈ থৈ। আপনারা কি বলেন ? এ অবস্থায় নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষীপুর জেলায় প্রতিবছর সাঁতার প্রতিযোগিতা আয়োজন করা উচিত। যেখান থেকে তারকা প্লেয়ার জন্ম নিবে বার বার। যারা দেশকে এনে দিবে একের পর এক পদকের উপহার। এ ব্যাপারে আনোয়ার-আতিয়া বেগম স্মৃতি সংসদের সদস্য সাংবাদিক ইকবাল আহমেদ জুয়েলের মন্তব্য, আমি মনে করি, সাঁতারুদের স্বর্গ রাজ্য হওয়া উচিত রক্ষীপুর জেলাসহ বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চলে। এখানে পুকুর নদী, সাগর আছে। সেটা কাজে লাগিয়ে বৃহৎ মানের সুইমিংপুল নির্মান করা যাবে। এই ক্ষেত্রে প্রয়োজন সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা এবং বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের স্পন্সর। তা খেলোয়াড় ও সাঁতার ভুবনের অবকাঠামো তৈরী করবে অনায়াসে। যা দেখা যাবে এ্যাথলেটিকসের আদলে। পরিশেষে আমার বিশ্বাস রয়েছে, পর্যাপ্ত সুবিধা পেলে নোয়াখালী অঞ্চল হতে দেশ সেরা সাঁতারু জন্ম নিবে সব সময়। শুধুমাত্র ফুটবল, ক্রিকেট, হকির উপর নজর রাখলে চলবে না। সম্ভাবনাময় ক্রীড়া ডিসিপ্লিন গুলোকে সাফল্য পাবার মসৃন পথে এগিয়ে নিতে হবে। সেটা নিরপেক্ষতার আদর্শের ধারায়। এ হলো নতুন বছরে ক্রীড়াঙ্গনের বাস্তবতার প্রত্যাশা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ