বৃহস্পতিবার ০৬ আগস্ট ২০২০
Online Edition

বগুড়ার শেরপুরে সার্কাস ও যাত্রার নামে চলছে অশ্লীল নাচ-গান

বগুড়া অফিস: ঘোড়া নেই, শুরু হয়েছে ঘোড়দৌড় মেলা! প্রায় দুই সপ্তাহ আগে থেকে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ধড়মোকাম এলাকায় এই ঘোড়দৌড় মেলা শুরু হয়েছে। মেলায় সার্কাসের প্যান্ডেলে ও উন্মুক্তমঞ্চে যাত্রাপালার নামে চলছে অশ্লীল নাচ-গান। একইসঙ্গে রকমারি মাদকদ্রব্যের বাণিজ্যও চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘোড়দৌড় মেলায় ঘোড়া না থাকলেও বেশ জোরেশোরেই এসব কাজ চলছে। স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল প্রশাসনকে ম্যানেজ করে অনেকটা নির্বিঘেœই এহেন কর্মকা- চালিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। এদিকে এই মেলার পাশেই হযরত শাহ তুর্কান (রহঃ) পবিত্র মাজার অবস্থিত। তাই মেলার নামে সেখানে এ ধরনের অশ্লীল বেহায়াপনা কাজ চলতে থাকায় এলাকাবাসীর মাঝে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। যা যে কোন সময় মেলা আয়োজক কমিটি ও এলাকাবাসীর মাঝে ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘ নয় মাস মুক্তিযুদ্ধের পর ১৬ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। তাই এই বিজয়ের মাসকে ঘিরে উপজেলার শাহবন্দেগী ইউনিয়নের ধড়মোকাম এলাকায় পাঁচ দিনব্যাপী ঘোড়দৌড় মেলার উদ্যোগ নেয়া হয়। সে মোতাবেক বগুড়া জেলা প্রশাসক বরাবরে আবেদন করেই গত ১৯ডিসেম্বর মেলার উদ্বোধন করা হয়। এমনকি মেলার নামে সেখানে ঢাকার নিউ লাকি সেভেন সার্কাস ও উন্মক্তমঞ্চে যাত্রাপালার নামে অশ্লীল নাচ-গানের আয়োজন করা হয়। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঘোড়দৌড় মেলায় কোন ঘোড়া নেই। তাই সেখানে কোন ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা চোখে পড়েনি। এছাড়া গ্রামীন নানা খেলাধুলার আয়োজন করার কথা থাকলেও সেরকম কিছুই মেলায় নেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, ঘৌড়দৌড় মেলার নামে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে সার্কাসের প্যান্ডেলে ও যাত্রামঞ্চে অশ্লীল নাচ-গান চলছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নারী নর্তকী এনে প্রতিদিন দুপুর শুরু করে মধ্যরাত পর্যন্ত এই অশ্লীল বেহায়াপনা চলছে। তবে আয়োজক কমিটির নেতাদের দাবি, সার্কাসে কোন অশ্লীলতা হচ্ছে না। এছাড়া চিত্রজগতের সুনামধন্য শিল্পীরা এখানে নাচ-গান করছেন। প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই ঘোরদৌড় মেলা চালানো হচ্ছে বলে তারা দাবি করেন। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খান মো. এরফান সাংবাদিকদের জানান, ধড়মোকাম ঘোড়দৌড় মেলার পাঁচ দিনের অনুমতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। সেখানে কোন অশ্লীলতার অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি দাবি করেন। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, উক্ত মেলা সম্পর্কে তার তেমন কিছু জানা নেই। এছাড়া রোববার পর্যন্ত মেলার কোন অনুমতিপত্র হাতে পাননি বলে দাবি করেন তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ