বৃহস্পতিবার ০৬ আগস্ট ২০২০
Online Edition

শিগগিরই দেশে আরো দুটি বিমান ঘাঁটি গড়ে তোলা হবে

যশোর থেকে বাসস : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ বিমান বাহিনীকে একটি অত্যাধুনিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলায় তার সরকারের দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করে বলেছেন, বিমান বাহিনীর শক্তি বৃদ্ধিতে শিগগিরই দেশে আরো দুটি বিমান ঘাঁটি গড়ে তোলা হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত দিক থেকে অচিরেই জাতির পিতার কাক্ষিত অত্যাধুনিক, পেশাদার ও চৌকস বিমান বাহিনী হিসেবে দেশে ও বিদেশে প্রতিষ্ঠিত হবে, ইনশাআল্লাহ্।’
 শেখ হাসিনা বলেন, ‘বরিশাল ও সিলেটে নতুন দুটি বিমান বাহিনী ঘাঁটি স্থাপনের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে। আমার বিশ্বাস, এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী আরও শক্তিশালী হবে এবং এর সক্ষমতা বাড়বে।’
প্রধানমন্ত্রী গতকাল রোববার দুপুরে এখানে বিমান বাহিনী একাডেমিতে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ৭৪ তম বাফা কোর্স ও ডিরেক্ট এন্ট্রি ২০১৭ কোর্সের কমিশন উপলক্ষে আয়োজিত রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ-২০১৭ (শীতকালীন) অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি বিমান বাহিনীতে সংযোজিত কে-এইট ডব্লিউ জেট ট্রেনার, ওয়াই এ কে-১৩০ কমব্যাট ট্রেনার এবং এল-৪১০ ট্রান্সপোর্ট ট্রেনার এই বাহিনীর উড্ডয়ন প্রশিক্ষণকে আরও উন্নত ও সমৃদ্ধ করেছে।
তিনি বলেন, বিমান বাহিনী একাডেমির পুনর্গঠিত সাংগঠনিক কাঠামোরও অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী বিমান বাহিনীর পাসিং আউট ক্যাডেটদের মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজে অভিবাদন গ্রহণ করেন এবং একটি খোলা জিপে করে প্যারেড পরিদর্শন করেন।
তিনি অনুষ্ঠানে ক্যাডেটদের মধ্যে ট্রফি, সার্টিফিকেট এবং ফ্লাইং ব্যাজ বিতরণ করেন।
ফ্লাইট ক্যাডেট একাডেমি আন্ডার অফিসার আহম্মেদ মুসা কমান্ড্যান্ট হিসেবে প্যারেড পরিচালনা করেন। পরে বিমান বাহিনী এয়ারক্র্যাফটের মনোজ্ঞ ফ্লাইপাস্টও প্রত্যক্ষ করেন প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী বিমান বাহিনী একাডেমির প্যারেড গ্রাউন্ডে পৌঁছলে বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল আবু এসরার এবং বিমান বাহিনী একডেমির কমান্ড্যান্ট এয়ার কমডোর এ এস এম ফখরুল ইসলাম তাকে স্বাগত জানান।
মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ, জাতীয় সংসদের সদস্যবৃন্দ, সেনা ও নৌবাহিনী প্রধানগণ, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবগণ, সরকারের পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন মিশনের কূটনৈতিকবৃন্দ, অবসরপ্রাপ্ত বিমান বাহিনী প্রধানগণ, আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ এবং কমিশন প্রাপ্ত ক্যাডেটদের অভিভাবকবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে বিমান বাহিনী ক্যাডেটদের দেশ ও জাতির আকাক্সক্ষা পূরণে সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিমান বাহিনী একাডেমি থেকে যে মৌলিক প্রশিক্ষণ তোমরা গ্রহণ করেছ, কর্মজীবনে তার যথাযথ অনুশীলন ও প্রয়োগের জন্য সব সময় সচেষ্ট থাকবে। সততা, একাগ্রতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে তোমাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করবে।
তিনি বলেন, তোমরা নিজেদের এমনভাবে গড়ে তুলবে, যাতে তোমরা দেশ ও জাতির আশা-আকাক্সক্ষা পূরণে যথাযথ ভূমিকা রাখতে পার।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রশিক্ষণ শেষ করার পর আজ থেকে শুরু হচ্ছে তোমাদের বৃহত্তর কর্মজীবন। প্রিয় মাতৃভূমি রক্ষার গুরু দায়িত্ব পালনে আজ থেকে তোমরাও অংশীদার। আমি আশা করি, দেশপ্রেমের মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে এবং পবিত্র সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে তোমরা বাংলার আকাশ মুক্ত রাখার দৃঢ় অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সঙ্কল্পবদ্ধ থাকবে।
তিনি বলেন, তোমরা এ দেশেরই সন্তান। নিজেদের কখনই সাধারণ মানুষ থেকে বিচ্ছিন্ন ভাববে না। তাদের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য সব সময় চেষ্টা করবে।
তিনি দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করে বলেন, ইনশাআল্লাহ, সেদিন বেশি দূরে নয়, যেদিন বাংলাদেশ উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।
প্রধানমন্ত্রী পাসিং আউট ক্যাডেটদের উদ্দেশ্যে বলেন, এই মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজে পুরুষদের পাশাপাশি নারী ক্যাডেটদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে আমি সত্যিই আনন্দিত ও গর্বিত। তাদের এই কমিশনপ্রাপ্তি বর্তমান সরকারের নারীর ক্ষমতায়নের দৃঢ় নীতিরই প্রতিফলন। আমরা বিশ্বাস করি জাতীয় অগ্রগতিতে নারীর অংশগ্রহণ অপরিহার্য। এজন্য সশস্ত্র বাহিনীতেও নারীদের ব্যাপকহারে অংশগ্রহণের ব্যাপারে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
বাংলাদেশ বিমান বাহিনী সদস্যদের দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি দেশ ও জাতির যে কোন প্রয়োজনে ভূমিকা রাখতে সদা প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ-বিদেশে প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলা, উদ্ধার তৎপরতা ও ত্রাণ সামগ্রী বিতরণে আমাদের বিমান বাহিনী অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর তাৎপর্যপূর্ণ অবদান বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন এবং স্বাধীনতার পর দেশ ও জাতির কল্যাণে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এবছর বিমান বাহিনী স্বাধীনতা পদক পেয়েছে। বিমান বাহিনী দেশের এ সর্বোচ্চ পদক অর্জন করায় তিনি বিমান বাহিনীর সকল সদস্যের প্রতি আন্তরিক অভিনন্দন জানান।
রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ- ২০১৭-এ ৭৪ তম বাফা কোর্সের ৬৮ জন ফ্লাইট ক্যাডেট এবং ডিরেক্ট এন্ট্রি ২০১৭ কোর্সের ১১ জনসহ মোট ৭৯ জন কমিশন লাভ করেছেন। এদের মধ্যে ১৩ জন মহিলা ক্যাডেটও কমিশন লাভ করেন। ফ্লাইট ক্যাডেট মীর্জা মো. জুবায়ের হোসেন ৭৪ তম ফ্লাইট ক্যাডেট কোর্সে সেরা চৌকস কৃতিত্বের জন্য ‘সোর্ড অব অনার’ এবং ফ্লাইট ক্যাডেট শাহরিয়ার তানজীম জেনারেল সার্ভিস প্রশিক্ষণ কৃতিত্বের জন্য ‘কমান্ড্যান্টস ট্রফি’ লাভ করেন। উড্ডয়ন প্রশিক্ষণে সেরা কৃতিত্বের জন্য ফ্লাইট ক্যাডেট মীর্জা মো. জুবায়ের হোসেন বীর শ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান ট্রফিও লাভ করেন। ফ্লাইট ক্যাডেট গ্রাউন্ড ব্রাঞ্চে সেরা কৃতিত্বের জন্য ফ্লাইট ক্যাডেট এফ এম শহীদুল ইসলাম সুজন ‘বিমান বাহিনী প্রধান’ ট্রফি লাভ করেন। এছাড়াও সার্বিকভাবে বিমান বাহিনী একাডেমি’র ১ নং স্কোয়াড্রন চ্যাম্পিয়ন বিবেচিত হয়ে একাডেমি পতাকা লাভ করে।
এই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে নৌবাহিনীর দু’জন পাইলট এবং বিমান বাহিনীর দুজন মহিলা পাইলটকে ফ্লাইং ব্যাজ পরিয়ে দেন।
যশোরে ২৮ প্রকল্পের উদ্বোধন
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল রোববার যশোরে কপোতাক্ষ নদীর জলাবদ্ধতা দূরীকরণ প্রকল্পসহ ২৮টি প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী জেলার ঈদগাহ ময়দান থেকে এই ২৮ প্রকল্পের ফলক উন্মোচন করেন। অনুষ্ঠানে দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও উন্নয়ন কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা পরে একই স্থানে যশোর জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক জনসভায় ভাষণ দেবেন।
প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকৃত ২৮ প্রকল্প হচ্ছেÑ কপোতাক্ষ নদের জলাবদ্ধতা দূরীকরণ প্রকল্প (১ম পর্যায়), তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে নির্বাচিত বেসরকারি কলেজসমূহের উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় যশোর জেলার সদর উপজেলাস্থ আমদাবাদ কলেজ ১ম পর্যায়ে নির্মিত দোতলা ভবনের ৩য় ও ৪র্থ তলার সম্প্রসারণ কাজ, তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে নির্বাচিত বেসরকারি কলেজসমূহের উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় যশোর জেলার শার্শা উপজেলাস্থ পাকশিয়া কলেজ ১ম পর্যায়ে নির্মিত দোতলা ভবনের ৩য় ও ৪র্থ তলার সম্প্রসারণ কাজ, তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে নির্বাচিত বেসরকারি কলেজসমূহের উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় যশোর জেলার বাঘারপাড়া উপজেলাস্থ বাঘারপাড়া ডিগ্রি কলেজ ১ম পর্যায়ে নির্মিত দোতলা ভবনের ৩য় ও ৪র্থ তলার সম্প্রসারণ কাজ, যশোর জেলার মনিরামপুর উপজেলা সদরে ৫০০ আসন বিশিষ্ট শহীদ মশিয়ুর রহমান অডিটোরিয়াম-কাম মাল্টি পারপাস হল, নির্মাণ, পাবলিক লাইব্রেরির (৩য় পর্যায়) উন্নয়ন প্রকল্প, যশোর মেডিকেল কলেজের একাডেমিক ভবন নির্মাণ, হৈবতপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস ভবন নির্মাণ, নরেন্দ্রপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস ভবন নির্মাণ, মহাকাল ইউনিয়ন ভূমি অফিস ভবন নির্মাণ, পাতিবিলা ইউনিয়ন ভূমি অফিস ভবন নির্মাণ, যশোর পুলিশ সুপার ভবন নির্মাণ, যশোর পুলিশ হাসপাতাল নির্মাণ, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেলের পূর্ণাবয়ব প্রতিকৃতি ভাস্কর্য নির্মাণ, নগর অঞ্চল উন্নয়ন প্রকল্প (সিআরডিপি) এর আওতায় যশোর শহরের ১৩ কি. মি. সড়ক ও ২২ কি.মি. ড্রেন নির্মাণ কাজ, ঝিকরগাছা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ এবং অভয়নগরে মালোপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ।
প্রধানমন্ত্রী যেসব প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন সেগুলি হচ্ছে- ভৈরব রিভার বেসিন এলাকার জলাবদ্ধতা দূরীকরণ ও টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন প্রকল্প, যশোর- বেনাপোল জাতীয় মহাসড়ক (এন-৭০৬) যথাযথমানে ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্প, যশোর-খুলনা জাতীয় মহাসড়ক যশোর অংশ (পলাশবাড়ী হতে রাজঘাট অংশ) যথাযথমানে উন্নীতকরণ প্রকল্প, কেশবপুর কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ, যশোর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মাণ, ৩য় নগর পরিচালনা ও অবকাঠামো উন্নীতকরণ প্রকল্প এর আওতায় যশোর শহরের ২৫ কি.মি. সড়ক ও ২৪ কি.মি. ড্রেন নির্মাণ কাজ, নগর অঞ্চল উন্নয়ন প্রকল্প (সিআরডিপি) এর আওতায় হামিদপুর কম্পোষ্ট প্ল্যান্ট, প্রি-ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট, বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট এবং কন্ট্রোল ল্যান্ডফিল সেল নির্মাণ, ঝিকরগছা উপজেলা পরিষদের সম্প্রসারিত প্রশাসনিক ভবন ও হলরুম নির্মাণ, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের মুরাল স্থাপন, শেখ রাসেল জিমনেসিয়াম ভবন, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) নির্মাণ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ