বুধবার ১২ আগস্ট ২০২০
Online Edition

ক্ষমতাসীন আ’লীগ ‘উপনিবেশিক শক্তির’ মতো দেশের মানুষকে শোষণ করছে -ড. মঈন খান

গতকাল রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবে রাজশাহী ইউনিভার্সিটি ন্যাশনালিস্ট এক্স স্টুডেন্টস এসোসিয়েশন জটঘঊঝঅ আয়োজিত রক্তঝরা মতিহার : মৃত্যুঞ্জয়ী রিজভী আহমেদ শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয় -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার: ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ‘উপনিবেশিক শক্তি’র মতো দেশের মানুষকে শোষণ করছে অভিযোগ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেছেন, আজকের সরকার কী করছেন? তারা শাসন করছেন, শোষণ করছেন। তাদের যে কার্যকলাপ আমার গ্রামের লোকেরা যারা অত্যন্ত বৃদ্ধ, যারা বৃটিশ শাসন দেখেছেন তাদেরকে যখন জিজ্ঞাসা করি তারা বলেন, একটি উপনিবেশিক শক্তিও কোনোদিন এভাবে দেশের মানুষকে শাসন বা শোষণ করে নাই। যেভাবে আজকের সরকার করছে। যেখানে গণতন্ত্র নাই, সভ্যতা নাই। গতকাল রোববার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে রাজশাহী ইউনির্ভাসিটি ন্যাশনালিস্ট এক্স স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে ‘রক্তঝরা মতিহার: মৃত্যুঞ্জয়ী রুহুল কবির রিজভী’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি একথা বলেন।
মঈন খান বলেন, আমরা বলতে চাই, জনগণ একটি দল বা প্রতিনিধিকে নির্বাচিত করে দেশ শাসন করার জন্য নয়, দেশ পরিচালনা করার জন্য সুষ্ঠুভাবে, নিরপেক্ষভাবে, ন্যায়সঙ্গতভাবে। যাতে দেশের মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা যায়। এটাই হচ্ছে গণতন্ত্র ও সভ্যতার মূল বক্তব্য।
সরকারের সমালোচনা করে মঈন খান বলেন, আমি মাঝেমধ্যে পত্রিকায় দেখি, বাংলাদেশ নাকী বিশ্বের রোল মডেল? কিসের রোল মডেল- বলতে কী লজ্জ্বা হয় না। আমরা গণতন্ত্রকে হত্যা করেছি, আমরা উন্নয়নের নামে এদেশে দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিয়েছি। আমরা এদেশের দরিদ্র মানুষের উন্নয়নের নামে গুটিকয়েক মানুষ যারা সরকারের উপরে নির্ভরশীল তাদের উন্নয়ন নিশ্চিত করেছি। তারপরে আমরা কোন লজ্জ্বায় বলি বাংলাদেশ বিশ্বের রোল মডেল? এসব কখা বলতে হবে। আর চুপ করে থাকলে চলবে না। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সকলকে ‘মুক্তিযুদ্ধের মতো একতাবদ্ধ’ হয়ে সংগ্রাম করার আহবানও জানান মঈন খান।
যশোরের জনসভায় নৌকা প্রতীকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভোট চাওয়াকে ‘জনগনের সাথে তামাশা’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী আপনার আবার ভোট চাওয়ার দরকার কী? আপনি তো গত পরশুদিনই একটা অদ্ভুত নির্বাচন করলেন, ভোটাররা নাই, ভোটাররা যাওয়ার আগেই ব্যালট বাক্স পূর্ণ হয়ে গেছে, নৌকার মার্কায় সিল পড়ে গেছে। আপনার তো ভোট চাওয়ার দরকার নাই।  উনি(শেখ হাসিনা) বিশ্ববাসীকে দেখাতে চান যে প্রধানমন্ত্রী তো। ভোট চাইলে পরে বিশ্ববাসী জানবে যে সামনে একটি নির্বাচন হচ্ছে সেখানে প্রধানমন্ত্রী ভোট চেয়ে বেড়াচ্ছেন। উনি তো জনগনকেই তালাক দিয়েছেন, ত্যাজ্য করেছেন, বিচ্ছেদ ঘটিয়েছেন। এটা প্রধানমন্ত্রীর তামাশা ছাড়া আর কিছুই না।
রিজভী বলেন, মানুষ বিশ্বাস করে একটা অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন হবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে। তিনি(শেখ হাসিনা) তার ক্রেডিবিলিটি হারিয়েছেন তার অধীনে নির্বাচন করার। আজকে প্রধানমন্ত্রী যদি জরিপ করেন ১% ফলাফলও আসবে না তার অধীনে মানুষ চায় নির্বাচন করতে। মানুষ চায় নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হোক।
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের সমালোচনা করে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, শিক্ষামন্ত্রী সহনীয় মাত্রায় দুর্নীতির কখা বলছেন। হয়ত ক্ষোভে মুখ ফসকে উনি(শিক্ষামন্ত্রী) একটা বলে ফেলেছেন যে, সহনীয় মাত্রায় ঘুষ খান। কিন্তু এটাকে স্বাস্টেইসিয়েট করার জন্য তিনি অতীত থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার উদাহরণ বের করার চেষ্টা করছেন। মানে অনৈতিকতা কত তীব্র হলে পরে ১৯৬১ সালেও প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে বলে উনি বলতে পারেন। বাহ!”
তিনি(শিক্ষামন্ত্রী) যে অনৈতিক কথা বলেছেন, তিনি যে অন্যায় কথা বলেছেন সেটিকে জাস্টিফাইড করার জন্য অতীত থেকে উদাহরণ খুঁজে নিয়ে আসার চেষ্টা করছেন। এটাই হচ্ছে শিক্ষামন্ত্রী ও তার সরকারের অবস্থা যাদের কোনো জবাবদিহি করতে হয় না জনগনের কাছে। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, শিক্ষামন্ত্রী সহনীয় মাত্রায় দুর্নীতির কখা বলছেন। তাহলে ওবায়দুল কাদের (আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক)ছাত্রলীগকে কী বলবেন? তোমরা সহনীয় মাত্রায় নির্যাতন করো, সহনীয় মাত্রায় সন্ত্রাস করো। আর অন্য নেতারাও একের পর এক বলতে থাকবেন, কেউ বলবে যে, সহনীয় মাত্রায় লুটপাট করো, কেউ বলবে যে, সহনীয় মাত্রায় অন্যের জমি দখল করো। এটাই ক্ষমতাসীনরা প্রতিষ্ঠিত করেছে।
সংগঠনের সভাপতি অধ্যক্ষ বাহাউদ্দিন বাহারের সভাপতিত্বে ও মল্লিক মো. মোজাম্মেল কবীরের পরিচালনায় এই আলোচনা সভায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, বিএনপি নেতা অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম, রমেশ চন্দ্র দত্তসহ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাবেক নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ