বৃহস্পতিবার ০৬ আগস্ট ২০২০
Online Edition

খুলনা-যশোর অঞ্চলের আট রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলে টানা তিন দিন উৎপাদন বন্ধ

খুলনা অফিস : বকেয়া মজুরী বেতন পরিশোধসহ ১১ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে খুলনা-যশোর অঞ্চলের ৮ রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের শ্রমিকরা বিক্ষোভ মিছিল, সামাবেশ ও কর্মবিরতি কর্মসূচী পালন করেছে । রাষ্ট্রায়ত্ত জুট মিল সিবিএ-নন সিবিএ পরিষদের ডাকা ১২ দিনের কর্মসূচীর ১১ দিনে গতকাল রোববার সকাল সাড়ে ৯টায় খুলনা-যশোর অঞ্চলের ৮ পাটকলের শ্রমিকরা এই কর্মসূচী পালন করে। কর্মসূচী চলাকালে তৃতীয় দিনে মিলের উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। তবে নওয়াপাড়া শিল্প এলাকার কার্পেটিং জুট মিলের উৎপাদন স্বাভাবিক রয়েছে। কার্পেটিং মিলের শ্রমিকরা এই আন্দোলনে অংশ না নিয়ে নিজ নিজ কর্মস্থালে যোগ দেন ।
পে-কমিশনের ন্যায় একই তারিখ থেকে মজুরী কমিশন ঘোষণা ও বাস্তবায়ন, অবিলম্বে রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পে শ্রমিকদের জন্য মজুরী কমিশন বোর্ড গঠন, ২০% মহার্ঘ্য ভাতার অপরিশোধিত বকেয়া এককালীন পরিশোধ, বকেয়া মজুরী-বেতন পরিশোধ, প্রতি সপ্তাহে ও মাসে শ্রমিক-কর্মচারীদের মজুরী-বেতন নিয়মিত প্রদান, বদলী শ্রমিকদের স্থায়ীকরনের দাবিসহ ১১ দফা বাস্তবায়নে রাষ্ট্রায়ত্ব জুট মিল সিবিএ- নন সিবিএ পরিষদ বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ, মানববন্ধন, ধর্মঘটসহ ১২ দিনের কর্মসূচী ডাক দেয়। শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এই কর্মসূচীর অংশ হিসাবে খালিশপুরের ক্রিসেন্ট, প্লাটিনাম, খালিশপুর, দৌলতপুর, দিঘলিয়ার স্টার, আটরা শিল্প এলাকার আলীম, ইস্টার্ন এবং নওয়াপাড়া শিল্প এলাকার জেজেআই, জুট মিলের শ্রমিকরা ভোর ৬ টায় কর্মস্থালে না যেয়ে উৎপাদন বন্ধ রেখে টানা তৃতীয় দিনে কর্মবিরতি পালন করে। এ সময় শ্রমিকরা মিল গেটের সামনে বিক্ষোভ করে। পরে সকাল সাড়ে ৯ টায় স্ব স্ব মিল গেটের সামনে সমবেত হয়। সেখানে শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে পৃথকভাবে রাজপথে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। ক্রিসেন্ট, প্লাটিনাম, খালিশপুর, দৌলতপুর, দিঘলিয়ার ষ্টার জুট মিলের বিক্ষোভ মিছিলটি বিআইডিসি রোড, নতুন রাস্তা, খুলনা-যশোর মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে স্ব স্ব মিল গেটে পথ সভার মাধ্যমে মিছিলটি শেষ হয়। এ সময় বক্তব্য রাখেন রাষ্ট্রায়ত্ত জুট মিল সিবিএ-নন সিবিএ পরিষদের আহবায়ক সরাদার মোতাহার উদ্দীন, ক্রিসেন্ট মিলের সিবিএ সাধারন সম্পাদক সোহরাব হোসেন, সাবেক সভাপতি দ্বীন ইসলাম প্রমুখ।
আটরা ও নওয়াপাড়া শিল্পাঞ্চল এলাকার ইর্ষ্টান, আলীম এবং জেজেধাই জুট মিলের শ্রমিকরা অনুরূপ কর্মসূচী পালন করেছে। স্ব স্ব মিল গেটের শ্রমিক সমাবেশে বক্তৃতা করেন ইর্ষ্টান মিলের সিবিএ সভাপতি মো. আলাউদ্দীন, সাধারন সম্পাদক সৈয়দ জাকির হোসেন, সহ-সভাপতি আফসার উদ্দীন ও সহ- সম্পাদক আলম সরদার, আলীম মিলের সাইফুল ইসলাম লিঠু, সাধারণ সম্পাদক সরাদার আব্দুল হামিদসহ সিবিএ নন সিবিএ নেতৃবৃন্দ। সমাবেশে নেতৃবন্দ অবিলম্বে ১১ দফা বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি জোর আহবান জানান।
এর আগে, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত স্টার, প্লাটিনাম, দৌলতপুর, ক্রিসেন্ট, ইস্টার্ণ, জে জে আই ও আলীম মোট সাতটি জুট মিলের উৎপাদন বন্ধ করে দেন শ্রমিকরা। এদিন চলেছে কার্পেটিং এবং খালিশপুর জুট মিল। গত শনিবার থেকে কার্পেটিং জুট মিলের শ্রমিকরা কাজে যোগদান করলেও খালিশপুর জুট মিলের কোনো শ্রমিক উৎপাদন কাজে যোগ দেননি। 
শ্রমিকরা জানান,  গত বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ৯টায় আট সপ্তাহের মজুরির দাবিতে প্লাটিনাম জুট মিলের উৎপাদন বন্ধ করে দেন শ্রমিকরা। পরবর্তীতে সকাল ১০টায় একে একে ক্রিসেন্ট, দৌলতপুর ও স্টার জুট মিলের শ্রমিকরা তাদের মিলের উৎপাদন বন্ধ রেখে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ চারটি মিল বন্ধের সংবাদ পেয়ে দুপুর ২টার দিকে আটরা-গিলাতলা শিল্পাঞ্চলের ইস্টার্ণ এবং যশোর অভয়নগরের জে জে আই জুট মিলের উৎপান বন্ধ করে দেন শ্রমিকরা। ওই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় আলীম জুট মিলের শ্রমিকরা উৎপাদন বন্ধ করে দেন। আর শনিবার খালিশপুর জুট মিলের শ্রমিকরা উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছেন।
পাটকলগুলোর সূত্রে জানা গেছে, খুলনা অঞ্চলের ৯টি রাষ্ট্রায়ত্ত্ব পাটকলের মধ্যে ক্রিসেন্ট জুট মিলে প্রায় ৫ হাজার, প্লাটিনামে সাড়ে ৪ হাজার, স্টারে সাড়ে ৪ হাজার, দৌলতপুর জুট মিলে সাড়ে ৬শ’, ইস্টার্ণে  ২ হাজার, আলীমে দেড় হাজার এবং জে জে আই জুট মিলে ২ হাজার ৬শ’ এবং খালিশপুর জুট মিলে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার শ্রমিক রয়েছেন। এসব পাটকলের শ্রমিকদের চার থেকে ১২ সপ্তাহের মজুরি বকেয়া রয়েছে।
বাংলাদেশ পাটকল কর্পোরেশন (বিজেএমসি) খুলনা অঞ্চলের লিয়াজো কর্মকর্তা গাজী শাহাদাত হোসেন বলেন, খামাকা শ্রমিকরা মিল বন্ধ করে একাকার করে ফেলেছেন। অন্য অঞ্চলের সব মিল চালু, কোনো সমস্যা নেই। এখানে কেউ কেউ ফায়দা নেয়ার জন্য এ আন্দোলন করছেন। তিনি জানান, বেতনের বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। দুইদিন অফিস বন্ধ ছিলো। ঊর্ধ্বতনদের বিষয়টি জানানো হয়েছে।
পাটকল শ্রমিকদের ন্যায়সঙ্গত দাবি মেনে নেয়ার আহ্বান : খুলনা মহানগর বিএনপির এক জরুরী সভা নগরীর কেডি ঘোষ রোডে দলীয় কার্যালয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও মহানগর সভাপতি সাবেক এমপি নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। সভা থেকে খুলনার পাটকল শ্রমিকদের মজুরি কমিশনের রিপোর্ট বাস্তবায়ন, বকেয়া পাওনা পরিশোধসহ পাটকল শ্রমিকদের ১১ দফা দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করে অবিলম্বে তাদের দাবি দাওয়া মেনে নেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানানো হয়। সভায় বলা হয়, পাটকল শ্রমিকদের আট সপ্তাহের মজুরি বকেয়া থাকায় তারা এখন রাজপথের আন্দোলনে বাধ্য হচ্ছে। অর্থের অভাবে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর দিনযাপন করছে। আর সরকার তাদের সাথে প্রহসন করছে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন কেসিসির মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, শেখ মোশারফ হোসেন, জাফরউল্লাহ খান সাচ্চু, শেখ খায়রুজ্জামান খোকা প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ