মঙ্গলবার ১৪ জুলাই ২০২০
Online Edition

নেপালে মাওবাদী বিজয়ে ভারত থেকে চীনে সরার ইঙ্গিত

 

৩০ ডিসেম্বর, সিএনবিসি : ডিসেম্বরের প্রথম দিকে নেপালি পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের নির্বাচনে নেপালের কমিউনিস্ট পার্টির দুটি শাখা ২৭৫টি আসনের মধ্য ১৭৪টিতে জয়ী হয়েছে। বিশ্লেষকেরা এই জয়কে নেপালের ভারতীয় ব্লক থেকে উদীয়মান চীনের দিকে সরে যাওয়ার ইঙ্গিত হতে পারে বলে মনে করছেন।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ভারতপন্থী নেপালি কংগ্রেসের সভাপতি শের বাহাদুর দেউবা। কিন্তু কমিউনিস্ট পার্টির জয়ের ফলে আরেক কমিউনিস্ট প্রধানমন্ত্রীর দেখা মিলতে যাচ্ছে নেপালে। তিনি হলেন কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপালের (ইউনিফায়েড মার্ক্সিস্ট-লেনিনিস্ট) খাড়গা প্রাসাদ অলি। তিনি এর আগে ২০১৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।

অলির পর প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপালের (মাওয়িস্ট সেন্টার) পুষ্প কমল দহল ওরফে প্রচন্ড। দুই দল এখন জোট গড়েছে।

 টেক্সাসের ভূ-রাজনৈতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্ট্র্যাটফোরের বিশ্লেষকেরা লিখেছেন, এই নির্বাচনে যা প্রকাশ করেছে তা হলো নেপালের পররাষ্ট্রনীতিতে ভারতের বিশ্বাসযোগ্য বিকল্প হিসেবে চীনের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত, নেপালে প্রভাব বিস্তারের জন্য চীন ও ভারতের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু হলো মাত্র।

ইতোপূর্বে বেইজিংয়ের সাথে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার জন্য নয়া দিল্লি তীব্র সমালোচনা করেছিল অলির। তিনি চীনা রাষ্ট্রীয় কনসোর্টিয়াম গেজুবা গ্রুপকে আবার ২.৫ বিলিয়ন ডলারের জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ চুক্তিটি বরাদ্দ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। দেউবা সরকার তা বাতিল করেছিল। ভারতীয় থিঙ্ক ট্যাঙ্ক অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের হর্ষ পান্তকে জানিয়েছেন, ভারত ও চীনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার বিপুল সুযোগ রয়েছে কাঠমান্ডুর কাছে।

বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দুই দেশের মধ্যে থাকা নেপাল ঐতিহ্যগতভাবেই ভারতের দিকে ঝুঁকে ছিল। ভারত ও নেপাল উভয়েই হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ। ১৯৫০-এর দশক থেকেই দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ভারতই হলো নেপালের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। দেশটির আমদানি ও রফতানির ৫০ ভাগের বেশি হয়ে থাকে ভারত থেকে। তবে গৃহযুদ্ধ অবসানের পর দেশটির রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে পরিবর্তন দেখা যেতে থাকে। ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে অঘোষিত অবরোধের জন্য নয়া দিল্লিকে দায়ী করে কাঠমান্ডু। তবে দিল্লি অভিযোগ অস্বীকার করেছিল।

২০১৫ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের কয়েক মাস পর ওই অবরোধ আরোপ করা হয়েছিল। ফলে খাদ্য, জ্বালানি ও ওষুধের মারাত্মক সঙ্কট দেখা দেয়। স্ট্র্যাটফোর লিখেছে, অবরোধের ফলে নেপাল সরকার চীনের ঘনিষ্ঠ হওয়ার মাধ্যমে তার সম্পর্ক নানামুখী করার তাগিদ অনুভব করেছিল। চীনও নানাভাবে নেপালকে কাছে টানার উদ্যোগ গ্রহণ করে। তার উচ্চাভিলাষী বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগে নেপালকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার করার কথা ঘোষণা করেছে। বিপুল ব্যয়ের এই উদ্যোগের ফলে বাণিজ্য বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে সেইসাথে চীনা প্রভাবও বাড়বে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ