সোমবার ১৩ জুলাই ২০২০
Online Edition

আল-কায়েদার হুমকিতে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো দুঃশ্চিন্তায়

 

৩০ ডিসেম্বর, টাইমস অব ইন্ডিয়া : সন্ত্রাসী হামলার হুমকি দিয়ে আল কায়েদা ইন ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট (একিউআইএস) সম্প্রতি যে ভিডিও প্রকাশ করেছে তা ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে দুঃশ্চিন্তায় ফেলে দিয়েছে। ওই ভিডিওতে কাশ্মীরের ছোট্ট, নিরাপদ এলাকার বাইরে গিয়ে দিল্লী, কলকাতা ও বেঙ্গালুরুর মতো জায়গায় সেনাবাহিনীর উপর হামলা করার জন্য ‘জিহাদী’ যোদ্ধাদের আহ্বান জানানো হয়েছে।

এক গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে জানান, ‘আল কায়েদার মুখপাত্র উসামা মাহমুদ কাশ্মীরি যোদ্ধা ও উপমহাদেশের সমস্ত মুসলিমদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, তারা যেন দিল্লী, কলকাতা এবং বেঙ্গালুরুতে সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এই বার্তা ইন্ডিয়ান মুজাহিদিনের কর্মপদ্ধতির কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে যারা বিভিন্ন ভারতীয় শহরে হামলার আগে সাবধান করে চিঠি ও ইমেইল পাঠিয়েছিল। তাই আল-কায়েদার এই ভিডিও বার্তার পর সম্ভাব্য সব ধরনের সতর্কতা নেয়া হচ্ছে।’

ইন্ডিয়ান মুজাহিদিনের মিডিয়া সেলের প্রধান মানসুর আসগর পিরভয় যে কোনো হামলার আগে সাবধান করে চিঠি ও ইমেইল পাঠাতো। ২০০৮ সালের ১৩ সেপ্টেম্বরে দিল্লী বিস্ফোরণের আগেও এ ধরনের ইমেইল পাওয়া গিয়েছিল। এ জাতীয় ইমেইলে সাধারণত ভারতীয় গোয়েন্দাদের ব্যাঙ্গ করা হয় এবং এমনকি ইমেইলের সূত্র খুঁজে বের করার জন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি চ্যালেঞ্জও করা হয়।

আল কায়েদার ভিডিওতে যে সব শহরে হামলার কথা বলা হয়েছে, সেই সব শহরকে সতর্ক করা হয়েছে। কাশ্মীরে আইএসপন্থী মিডিয়া নেটওয়ার্ক আল-কারারের মাধ্যমে আল কায়েদার পক্ষ থেকে যে হুমকি দেয়া হয়েছে, তা নিয়ে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো উদ্বিগ্ন হলেও তারা আতঙ্কিত নয়।

গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তা বলেছেন, দুই গ্রুপের কারোরই তেমন উল্লেখযোগ্য অনুসারী নেই কাশ্মীর উপত্যকা এলাকায়।

ক্রিসমাসের দিন প্রকাশিত ভিডিও বার্তায় যে কাশ্মীরি যোদ্ধাকে দেখানো হয়েছে, তাকে ‘আমীর অব কাশ্মীর’ আবু ইয়াহইয়া আল-ইসতাশতাদী হিসেবে চিহ্নিত করেছে আইএসপন্থী মিডিয়া চ্যানেল আল-কারার। ওই ভিডিও বার্তায় কাশ্মীরের সকল যোদ্ধা ও মুসলিমদের এমনকি জাকির মুসা ও তার সংগঠন আনসার গাজওয়াত-উল-হিন্দকে আইএস প্রধান আবু বকর আল বাগদাদীর প্রতি আনুগত্যের অঙ্গীকার করার আহ্বান জানানো হয়।

কাশ্মীরে আইএস ও আল কায়েদার তৎপরতা সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, ‘এটা উদ্বেগের বিষয়, কারণ এ ধরনের বার্তার কারণে এক শ্রেণীর তরুণ তাদের জিহাদী ভাবধারায় প্রভাবিত হয়। তবে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। আনসার গাজওয়াত-উল-হিন্দের হাতে গোনা আধা ডজন যোদ্ধা রয়েছে ট্রালে। অন্যদিকে, আইএসের প্রতি আনুগত্য প্রকাশকারী যে গ্রুপের কথা আল-কারারের ভিডিওতে বলা হয়েছে, তারা সম্ভবত সালাফি গ্রুপ তেহরিক উল মুজাহিদিন (টিইউএম)। বাদগামে তাদের উপস্থিতিও খুবই সামান্য।

বাদগামের আবদুল্লাহ গাজালির নেতৃত্বাধীন তেহরিক উল মুজাহিদিন খবরের শিরোনাম হয়েছিল গত মাসে, যখন সংগঠনের ডিভিশনাল কমান্ডার মুগিস আহমাদ মির শ্রীনগরের কাছাকাছি জাকুরা এলাকায় এক এনকাউন্টারে নিহত হয়। ওই এনকাউন্টারের জন্য দায় স্বীকার করেছিল আইএস, যেটিতে জম্মু ও কাশ্মীরের এক পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ